আবরারের মৃত্যু: ফের সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের


বাস চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় সড়কে তারা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। আগের দিন সকালে ঠিক ওই জায়গাতেই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র আবরার নিহত হন। বিইউপির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), সিদ্ধেশ্বরী কলেজ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে।

জাস্টিস ফর আবরার’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আর কত রক্ত ঝরতে হবে রাস্তায়’- এরকম নানা স্লোগানে সড়কে নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে প্রগতি সরণি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পুলিশ কালাচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এবং কুড়িলে যানবাহন ডাইভারশনের ব্যবস্থা করেছে।

রাজধানীরশাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন   শিক্ষার্থীরা।  আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘জবাব চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পারাপারে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে দেখা যায়। এদিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মিরপুর-নিউমার্কেট সড়কে অবস্থান নিয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তারাও বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এ সড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

পুরান ঢাকার তাঁতি বাজার, জনসন রোড ও রায় সাহেব বাজার এলাকায়ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে কার্যত ‘অচল’ হয়ে পড়েছে পুরান ঢাকা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সূত্রাপুর থানার ওসি (অপারেশন) আমিনুল বলেন , আন্দোলনের নামে রাস্তা বন্ধ করে জনগণের হয়রানি করা -এটা মোটেও ঠিক নয়। তাদের (শিক্ষার্থীদের) উচিৎ জনগণের ভোগান্তি না করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা।

রাজধানীর উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করছেন উত্তরা ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে করে ব্যস্ততম এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এর আগে সহপাঠীর নিহতের ঘটনায় আট দফা দাবিতে বুধবার সারাদেশে ক্লাস বর্জন ও সড়ক অবরোধের আহ্বান জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় সাংবাদিকদের সামনে শিক্ষার্থী মায়েশা নূর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মায়েশা নূর বলেন, বুধবার সকাল ৮ টা থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বর্জন করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবেন। আমাদের এই আন্দোলন গতবছরের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আমাদের এই আন্দোলনে গতবছরের মতো কোনও হামলা ও রক্তাক্ত চেহারা দেখতে চাই না। আমরা পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে নিরাপত্তা চাই। আমাদের আন্দোলনের সময় আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে মায়েশা নূর বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আটদফা দাবি দিয়েছি। এটা গণমাধ্যমে চলে এসেছে। আমাদের এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন না। আমাদের এই আন্দোলনে রাজনৈতিক কোনও দল বা ব্যক্তিকে গ্রহণ করবো না। সবাই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেবেন। আমরা আমাদের অভিভাবকদের এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।

শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি হলো-

১. পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে এবং প্রতি মাসে বাসচালকের লাইসেন্সসহ সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করতে হবে।

২. আটক চালক ও সম্পৃক্ত সবাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৩. আজ থেকে ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দ্রুত সময়ে অপসারণ করতে হবে।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সব স্থানে আন্ডারপাস, স্পিড ব্রেকার এবং ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

৫. চলমান আইনের পরিবর্তন করে সড়ক হত্যার সাথে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

৬. দায়িত্ব অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ী অপসারণ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭. প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপ এবং যাত্রী ছাউনি করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং

৮. ছাত্রদের হাফ পাস (অর্ধেক ভাড়া) অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা গেট এলাকায় সু-প্রভাত বাসের চাপায় বিইউপির শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হন। তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফের বড় ছেলে।

আবরার আহমেদ নিহত হওয়ার ঘটনায় সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন তার সহপাঠীসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় প্রগতি সরণিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মানবকণ্ঠ/এআর