‘ফেক নিউজ’ কোনটি?

শিল্প বিপ্পবের যুগে জীবিকার তাগিদে পশ্চিমের বড় বড় শহরে জড়ো হতে শুরু করেছিল বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। পারস্পরিক চেনাজানাহীন বিচ্ছিন্ন সেসব মানুষের সমাজ পরিচিতি পেয়েছিল ‘ম্যাস সোসাইটি’ তথা গণসমাজ নামে। বিদ্যায়নিক শাস্ত্রে সংবাদমাধ্যমের উৎপত্তির ইতিহাসে নজর ফেরালে দেখা যায়, গণমানুষের কল্যাণ নয়, নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি হয়েছিল গণমাধ্যমের। তবে এটাই একমাত্র বাস্তবতা নয়। কালপরিক্রমায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক হয়েছে, জাতিরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জাতিগোষ্ঠীর পক্ষে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে, বিশ্বব্যাপী উন্মোচন করেছে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মুখোশ। সমান্তরালে চলমান থেকেছে এর বিপরীত বাস্তবতাও। রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী কিংবা নিজ নিজ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার কাজেও নিয়োজিত থেকেছে গণমাধ্যম। সংবাদমাধ্যমের এসব ভূমিকা ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ কিংবা ‘গণবিরোধী সাংবাদিকতা’ নামে। সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন ‘ফেক নিউজ’। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রত্যয়টিকে জীবন্ত করেন। সংবাদশাস্ত্রের ধ্রুপদী চরিত্রের সঙ্গে ‘ফেক নিউজ’ বৈশিষ্ট্যটি সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। কেননা, নিউজ মাত্রই তা বস্তুনিষ্ঠ হতে বাধ্য। সেই অর্থে যা নিউজ বা সংবাদ, তা ফেক বা ভুয়া হতে পারে না। এর মধ্যদিয়ে প্রচারণা কিংবা গুজব কিংবা হলুদ সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতাকে সামনে আনা হলেও বিদ্যমান সংস্কৃতিতে এই প্রত্যয়টির আলাদা অর্থময়তা তৈরি হয়েছে। অগ্রগতিশীল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কৃতিতে বিশেষ অর্থময়তায় হাজির হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত মূলধারার সংবাদমাধ্যম কি ইন্টারনেটের প্রসার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচলনই ভুয়া সংবাদকে সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আর এতে ‘সংবাদ’ বিষয়টির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। – গণমাধ্যম ডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published.