ফেইসবুক কুইন রাবা খান

Raba-Khanফেইসবুকে তিনি হয়ে ওঠেছেন জনপ্রিয়। ছবি, ভিডিও কিংবা কোনো লেখা পোস্ট করলেই হাজার হাজার লাইক, কমেন্ট আর ভিউ হয়; সঙ্গে শেয়ার।

তিনি হচ্ছেন রাবা খান। বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় মুখ। বলতে গেলে শখের বশে নিজে নিজেই ভিডিও বানিয়ে সেটি পোস্ট করেন তার ফেইসবুকে। আর তার পোস্ট করা প্রায় সব ভিডিওগুলো ভাইরালে পরিণত হয়। ছড়িয়ে যায় সোশাল মিডিয়ায়। পাওয়া যায় রাবার ভিডিও ফেইসবুকের টাইমলাইনে।

গত ১৭ জুন বিকেলে রাবা খান ‘টেন বাংলা সঙস অন ওয়ান বিট (শার্প অফ ইউ) ম্যাশআপ কাভার’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তার ফেইসবুকে। যেটি এখন পর্যন্ত ভিউ হয়েছে ৪৩৮কে, অর্থাৎ ৪ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি আর লাইক দিয়েছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ; কমেন্টও কম নয়, ২ হাজার ১শ’ এর বেশি। শেয়ার করেছেন ৫ হাজার ৪ শ’র বেশি মানুষ। এই হচ্ছে রাবা খানের একটি কনটেন্টের রিভিউ। তার ফেইসবুকে পোস্ট করা সব কনটেন্টের অবস্থা এই রকম।

রাবা খানরাবা খান। জন্ম অস্ট্রেলিয়াতে হলেও খুব ছোটবেলায় চলে এসেছেন বাংলাদেশে। ও-লেভের পড়া শেষ করে এখন এ-লেভেলে। তুমুল জনপ্রিয় রাবাকে অনুসরণ করা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তার ফেইসবুক ফলোয়ার ১ লাখ ২ হাজারের বেশি। রাবা খান শুধু ফেইসবুকেই জনপ্রিয় নয়। তিনি ইউটিউবেও জনপ্রিয়। দেশে হাতে গোনা যে কয়েকজন নারী ইউটিউবার আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম।

২০১৪ সালের ৬ জুন চালু করেন তার ইউটিউব চ্যানেল ‘দ্য ঝাকানাকা প্রজেক্ট’। তখন থেকেই রাবা এবং তার ভাই ফাহাদ রিয়াজ খান মিলে মজাদার ভিডিও আপলোড করতে শুরু করেন ইউটিউব চ্যানেলে। বর্তমানে তার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ৪৬ হাজার ৬ শ’র বেশি। এখন পর্যন্ত ২৫টি ভিডিও আপলোড করা ইউটিউব চ্যানেলটিতে মোট ভিউ হয়েছে ২২ লাখ ৮ হাজারের বেশি। রাবার ভিডিও এর মূল দিক থাকে চেনা জিনিসের মধ্যে অচেনা টুইস্ট দিয়ে হিউমার তৈরি করা। এ জন্য মেইনস্ট্রিম গল্পগুলো নিয়েই রাবা খানের ভিডিও তৈরি।

সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই আসেন আনন্দের জন্য, মজার জন্য। কেউবা সোশাল কানেক্টিভিটির জন্যই নিয়মিত এই প্ল্যাটফর্মে যাতায়াত করেন। এরই ফাঁকে একবার এদিকে সেদিকে ঢুঁ মারা। প্রায় সর্বশ্রেণীর সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর নিকট রাবা তুমুল জনপ্রিয়। তবে কেন রাবার সোশাল মিডিয়াতে এত জনপ্রিয়তা।

রাবা খানজানা যায়, গত বছরের শেষের দিকে ‘আন্টিদের কথোপকথন’ সাধারণত কেমন হয়, এ রকমই একটি ভিডিও পোস্ট করেন রাবা। সেই ভিডিও ফেইসবুকে এত বেশি ছড়িয়ে পড়ে যে, এখন পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ৫ লাখে বেশি দর্শক দেখেছেন। মজার ব্যাপার, মানুষজন ভিডিও দেখেছেন, শেয়ার করেছেন এবং মেনশন করে অন্যকেও দেখার ব্যবস্থা করেছেন। রাবার কণ্ঠ, এক্সপ্রেশন মানুষকে মুগ্ধ করেছে।

এছাড়া টিপিক্যাল মায়েরা সন্তানের সঙ্গে যেভাবে কথা বলেন, মা সন্তানের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেটিও ফেইসবুক থেকে প্রায় ৪ লাখে বেশি মানুষ দেখেছেন। এমন মজার মজার কনটেন্টের জন্য রাবা ফেইসবুক ও ইউটিউবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছেন।

রাবা খান দেড় বছর আগে বেসরকারি রেডিও স্টেশন ‘রেডিও ফুর্তি’তে মাত্র ১৬ বছর বয়সে আরজে হিসেবে যোগদান করেন। তবে কিছুদিন আগে ‘রেডিও ফুর্তি’ ছেড়েছেন । ইউটিউবে চ্যানেল খোলা থাকলেও এত সিরিয়াস ছিলেন না। ফেইসবুকেও এতো অ্যাক্টিভ ছিলেন না রাবা। তবে ফেইসবুকের ভিডিও বানানো শুরু করেন ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে কিন্তু চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেটি আরো সিরিয়াসভাবে নিয়েছেন।

রাবা খানতিনি বলেন, ইউটিউব বা ফেইসবুকে কনটেন্টের আইডিয়া এবং থিম নিয়ে খুব একটা চিন্তা করতে হয় না। বলতে গেলে অটোমেটিকভাবেই চলে আসে। তবে সামনে আরো ভালো কিছু বানানোর ইচ্ছা আছে। ২/৩ বছর ইন্টারটেইনমেন্ট নিয়ে কাজ করছেন হাত পাকানোর জন্য। আর সেই অভিজ্ঞা ফেইসবুক কিংবা ইউটিউব সবখানেই কাজে আসবে।

রাবা খান বলেন, ফেসবুক ভিডিও মেকার/ইউটিউবার বলতে গর্ববোধ করি। কারণ এই প্ল্যাটফর্মে স্বাধীনতা আছে। নিজের আইডিয়া বাস্তবায়ন করা যায়। নিজের কাজগুলো ইচ্ছামতো করা যায়, সেখানে বাধা দেবার কেউ নেই। আর সবচেয়ে বড় বিষয় প্ল্যাটফর্মটা নিজের তাই নিজেই সব কিছু। এছাড়া আমি চেষ্টা করি কনটেন্ট দিয়ে মানুষকে হাসানো বা মনের খোরাক মেটানোর। আর এখন শুরু করেছি গানের কাভার বানানো।

তিনি আরো বলেন, সামনে ঈদ তাই অনেক ব্যস্ত বিভিন্ন কাজ নিয়ে। অনেকগুলো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছি। ঈদে একটি নাটকও করেছি। আছে অনেকগুলো এভি।

অ্যাস্কডটএফএম ওয়েবসাইট বিভিন্ন রকম মজার প্রশ্ন করত; রাবার উত্তরও ছিল খুব মজার। মানুষ তার এই কৌতুক শুনে দারুণ মজা পেত। হঠাৎ করেই রাবা চিন্তা করেন তার ইউটিউব চ্যানেল খোলার। তবে ইউটিউব চ্যানেলের নাম ঝাকানাকা কেন?

এই সম্পর্কে রাবা জানান, তার বন্ধুরা তাকে মজা করে ঝাকানাকা নামে ডাকত। তাই ইউটিউব চ্যানেল খোলার সময় এই নামটার কথা মাথায় আসে। মজার বিষয়, দ্য ঝাকানাকা প্রজেক্ট এখন কেবলই কোনো ইউটিউব চ্যানেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর পাশাপাশি এই প্রজেক্ট থেকে মজার উক্তি সংবলিত টি-শার্ট বাজারে ছেড়েছেন রাবা এবং তার ভাই। চ্যানেলের মতো এর জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে। ভবিষ্যতে তারা আরও প্রোডাক্ট আনার চিন্তা করছে ঝাকানাকা প্রজেক্ট থেকে।

ক্যারিয়ার সম্পর্কে রাবা বলেন, ক্যারিয়ার হিসেবে কি বেছে নিব এটা এখন পর্যন্ত ভাবছি না; দেখা যাক। এছাড়া আগামী দশ বছরে নিজেকে একজন সফল ইন্টারটেইনার হিসেবে দেখতে চাই। কারণ সফলতাই আমাকে এগিয়ে নিবে যাবে আমার ক্যারিয়ারের দিকে।

মানবকণ্ঠ/জেডএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.