ফটিকছড়িতে কচু চাষে কৃষক লাভবান

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা:
ফটিকছড়িতে কচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। অল্প পুঁজিতে ভালো মুনাফা হওয়ায় কচু চাষের প্রতি ঝুঁকছেন এ উপজেলার কৃষক। উপজেলার দৌলতপুর, সুন্দরপুর, সুয়াবিল, লেলাং, রোসাংগিরি, খিরাম, ধর্মপুর, আব্দুল্লাহপুর, নারায়ণহাট, বাগানবাজার, ভূজপুরসহ সব ইউনিয়নে কচু চাষ হয়। অন্য সবজির পাশাপাশি কচুর চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ওল কচু ২০ হেক্টর, পানি কচু ৭০ হেক্টর, মুখী কচু ৬০ হেক্টর, লতি কচু ৩০ হেক্টরসহ মোট ১৮০ হেক্টর জমিতে কচুর চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কচুর বাম্পার ফলনও হয়েছে। ওল কচু ২৮০ মেট্রিক টন, পানি কচু ২৪৫০ মেট্রিক টন, মুখী কচু ১০২০ মেট্রিক টন, লতি কচু ৭৫০ মেট্রিকটনসহ মোট ৪৫০০ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে।
উপজেলার বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, সুয়াবিল ও হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে বেশি কচুর চাষ হয়েছে। বাজারে মাছ-মাংসের দাম বেশি থাকায় এবং অন্য সবজির তুলনায় কচুর মূল্য কম হওয়ায় ক্রেতারাও কচুর দিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া চট্টগ্রাম শহরে ফটিকছড়ির কচুর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।
এ উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির কচুর চাষ হচ্ছে। উলো হলো পাইন্যে কচু, মান কচু, ওল কচু, গুরি কচু, মদন কচু, বাংলা কচু, গাউক্রা কচু ও খাউজান্যে কচু। কৃষকরা বাংলা কচু ও খাউজান্যে কচু ছাড়া বাকি সব কচুর চাষ করে থাকেন। তবে পানি কচু অর্থাৎ পাইন্যে কচুর চাষ বেশি করে থাকেন। প্রতি ২২ শতক জমিতে পাইন্যে কচুর চাষ করতে সার, কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে খরচ পড়ে ৭/৮ হাজার টাকা। কচুর লতি ও কচু বিক্রি করে ৪০/৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। রোসাংগিরী আজিমনগর এলাকার আলাউদ্দিন বলেন, একটু কষ্ট করলেই কচুর চাষ ভালো হয়। সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে উপজেলায় কচু চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ বলেন, উপজেলার সর্বত্রই কচুর চাষ ভালো হয়। এ বছরও কচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তা নিলে চাষিরা আরো লাভবান হবেন।