প্রিয় চন্দন

চন্দনের সঙ্গে পরিচয় বহু বছর আগে। প্রায় ত্রিশ বছর তো হবেই। বইমেলায় উন্মাদের স্টলে বসে আছি। সাদা শার্ট পরা এক ছটফটে কিশোর এসে হাজির। সে এসেই দাবি করল উন্মাদে তার একটা ছড়া বেড়িয়েছে সেটা তার চাই। সে নিজেই ডিসপ্লে থেকে খুঁজে বের করল উন্মাদটা তারপর নিয়ে দিব্যি হাঁটা দিল। এই হচ্ছে আমাদের চন্দন। এরপর তো চন্দন আমাদের উন্মাদের একরকম স্টাফই হয়ে গেল। তখন সে রীতিমতো তরুণ। নিয়মিত উন্মাদে ছড়া ফিচার লেখে। তার ছড়া ফিচার ছাড়া উন্মাদ বেরই হবে না এমন অবস্থা। আর বলাই বাহুল্য উন্মাদের অফিস হচ্ছে একা মজার জায়গা সেখানে চন্দন না থাকলে চলে? হাসান খুরশীদ রুমী, কাজী তাপস, ডা. কল্লোল, ডা. টুটুল সাজ্জাদ কবীর সবাই মিলে ফিউরিয়াস আড্ডা চলত তখন…। এ রকম এক আড্ডায় ঠিক হলো না অনেক ফাজলামো হয়েছে এবার আমরা একটা সিরিয়াস কাজ করব আমরা একটা অ্যাকশন নাটক করব। কোন নাটক? রিচার্ড কর্নেলের ‘শিকার’ (কাজী আনোয়ার হোসেন অনুদিত)। নাটক লেখার দায়িত্ব নিল চন্দন। বিনিময়ে তাকে দিতে হলো এক প্যাকেট বেনসন। দু’দিন পর সে নাটকের স্ক্রিপ্ট নিয়ে হাজির। আমরা সবাই সিরিয়াস। আমরা দল বল নিয়ে চলে গেলাম রামু শুটিং করতে। প্রথম শুটিংয়ের দিন চন্দনকে বলা হলো স্ক্রিপ্ট বের করতে সে বলল
-স্ক্রিপ্টতো ঢাকায়
-মানে? ঢাকায় কেন?
-আমাকে তো স্ক্রিপ্ট আনতে বলা হয়নি। তার সোজা-সাপ্টা উত্তর।
পরে আর কি করা তার মুখে মুখে স্ক্রিপ্ট শুনে নাটক শেষ করতে হয়েছে। এই হচ্ছে আমাদের চন্দন। তাকে নিয়ে কতরকম উল্টা-পাল্টা স্মৃতি কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা লিখি।
মারা যাওয়ার আগে আমার অফিসে এসে বলল সে একটা ছড়ার বই বের করতে চায়। বইয়ের নাম হবে ‘চন্দনের গন্ধনে’ আমাকে একটা প্রচ্ছদ করে দিতে হবে।
তখন অফিসে যারা ছিল তারা ঠাট্টা করে বলল চন্দন ভাই আপনার কোন গন্ধের কথা বলছেন? শরীরের ঘামের গন্ধ না আপনার মোজার গন্ধ? চন্দনও ঠা ঠা করে তার স্বভাবসুলভ হাসল। সেই হাসি-খুশি চন্দন আর নেই। সে হুট করে চলে গেল? তাই কী সম্ভব না বিশ্বাস করা যায়?
এখন মনে হচ্ছে ‘চন্দনের গন্ধ নে’ নামে আসলেই চন্দনের সব বই এক সঙ্গে বের হতে পারে বা হওয়া উচিত … তার সুবাসিত ছড়ার যে সুগন্ধ সে ছড়িয়ে দিয়ে গেছে তার গন্ধ নেয়ার এখন সময় হয়েছে।
প্রিয় চন্দন তুমি যেখানেই থাক ভালো থেক। তোমার সুন্দর সব স্মৃতি নিয়ে আমরা বেঁচে থাকব। যদি একে বেঁচে থাকা বলে।