প্রার্থী শূন্য ৭ আসনে কী করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট?

ভোটযুদ্ধে নামার আগেই ৭ আসনে প্রার্থিতাই থাকলো না জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে নানা ত্রুটিবিচ্যুতির কারণে বগুড়া-৭, ঢাকা-১, শেরপুর-১, মানিকগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, রংপুর-৫ ও শরীয়তপুর-১ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ওই ৭টি আসনে বিএনপির মনোনীত ১৫ প্রার্থী ও বিদ্রোহী ১ প্রার্থী থাকলেও শেষ রক্ষা হলো না কারো। এসব আসনে ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি কিংবা জোটের শরিক দলেরও কোনো প্রার্থী নেই। এখন আপিলই শেষ ভরসা। আপিল করে যদি প্রার্থিতা ফিরে না পাওয়া যায় তাহলে ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থীই থাকছে না আসনগুলোতে।

তবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোটের নেতারা মানবকণ্ঠকে জানিয়েছেন, এ রকম হবে তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন তারা। এ জন্য একই আসনে একাধিক মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল।

নেতারা বলেন, আপিলের সময় এখনো যায়নি। আপিলে শূন্য আসনে আমাদের মনোনীতদের প্রার্থিতা ফেরত পায়ার আশা করছি। যদি তা না হয়, তাহলে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন তারা। প্রয়োজনে শূন্য আসনে ঐক্যফ্রন্টের সমমনা কাউকে কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া হবে।

বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পাশাপাশি গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটনকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। তাছাড়া আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য সরকার বাদল। আদালতের রায় থাকায় খালেদা জিয়ার তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তা। উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলেও তা গৃহীত না হওয়ায় সরকার বাদল ও মোর্শেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ঢাকা-১ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক ও ফাহিমা হোসাইন জুবিলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দলীয় মনোনয়নের প্রত্যয়নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের স্বাক্ষরে মিল না থাকায় জুবিলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। আবু আশফাকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় উপজেলা চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেয়ার পর তা গৃহীত না হওয়ায়।

শেরপুর-১ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির ৩ প্রার্থীর। এদের মধ্যে চার ব্যাংকের ঋণ খেলাপির অভিযোগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া জেলা যুবদল সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল কাদের মনোনয়নপত্রে বিএনপির প্রার্থী বলে উল্লেখ করলেও দলীয় মনোনয়নের চিঠি সংযুক্ত না করায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত ২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাবেক এমপি মঈনুল ইসলাম খানের দলীয় মনোনয়নে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের স্বাক্ষর মিল না থাকায় এবং সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান রোমান চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

জামালপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল কবির তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায়। এই আসনে বিএনপির বিকল্প কোনো প্রার্থী ছিলেন না।

রংপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি সোলায়মান আলম ফকির এবং জেলা বিএনপির সদস্য মমতাজ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে নথিতে ত্রুটি থাকায়।

শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরদার নাসিরউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায়। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত টেলিফোন বিল বকেয়া থাকায় বাছাইকালে তার মনোনয়পত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী আবু তাহের। নাসির উদ্দিনের কাছে ৩ হাজার ৮১৫ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে।
এসব আসনে আপিল করে যদি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে না পান তাহলে কী করবেন- এ নিয়ে কথা হয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক ও গণফোরামের গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে।

তিনি বলেন, এখনো আপিলের সময় রয়েছে, আসন শূন্য থাকার পরিস্থিতি এখনো আসেনি। তবে এ বিষয়টি আন্দাজ করে আমরা আগে থেকেই ফ্রন্টের পক্ষ থেকে এক আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে রেখেছি। আমরা আশা করি, কাউকে না কাউকে পাওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, যদি আপিল করে কেউ প্রার্থিতা ফিরে না পান তাহলে শূন্য আসনে ঐক্যফ্রন্টের সমমনা কাউকে কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া হবে।

এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা সব রকম আইনগত চেষ্টা চালিয়ে যাব। আপিলে যদি ফের সবাইকে বাতিল করা হয় তাহলে আমরা বসে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব। তবে সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে আমরা ভাবব। সে সব আসনে কারা কারা আছেন সে সব দেখে সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কারী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট। বাতিলকৃত প্রার্থীরা আপিল করবেন। যদি এতেও না হয় তবে বিকল্প চিন্তা করা হবে। আমরা দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।