প্রশ্নপত্র ফাঁস: ব্যাধিগ্রস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা

ফরিদুল আলম : আমাদের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা সমস্যার মূলে হাত না দিয়ে এর ফলাফলজনিত কারণে সৃষ্ট ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করি। এর কারণে বাস্তবে যা হয় তা হচ্ছে সমস্যার ফলে সৃষ্ট ক্ষত কিছুটা উপশম হলেও এর শিকড় থেকে পরবর্তীতে আরো নতুন সমস্যার জন্ম হয়, ফলত আমাদের ঘুরপাক খেতে হয় সমস্যার আবর্তের মধ্যেই। আজকের আলোচনায় সঙ্গত কারণেই বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেছি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস তথা পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়গুলো একটা অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়ে যাওয়া নিয়ে। এবারের ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণিত (আবশ্যিক) বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসের মধ্য দিয়ে, যা সর্বপ্রথম একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদ পোর্টালে ছাপা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া আগের রাতে সৃজনশীল এবং পরীক্ষার দিন সকালে পাওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার মূল প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষামন্ত্রী এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিজি প্রেসের কিছু কর্মচারীকে দায়ী করে যে মন্তব্য করেছেন একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর পক্ষ্যে এ ধরনের মুখস্থ মন্তব্যে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসতে বাধ্য যে তিনি যদি এতটাই নিশ্চিত হন যে এর জন্য অন্য কিছুই নয়, একমাত্র বিজি প্রেসের কর্মচারীরা দায়ী তবে এক্ষেত্রে তিনি, তার মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পূর্ব থেকেই কেন তৎপর থাকলেন না?
এ ধরনের ঘটনা তো অতীতেও অনেকবার হয়েছে। একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রে অনেক ধাপের সম্পৃক্ততা থাকে। এর কোনোটিকেই সন্দেহ না করে তিনি কেন একতরফাভাবে প্রতিবার কেবল বিজি প্রেসকেই সন্দেহ করেন তা বোধগম্য নয়। অবশ্য এর একটি কারণ হতে পারে এটি বাদে অন্য সব প্রক্রিয়ার সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা থাকে বলেই অনেকটা নিজের দোষ আড়াল করার এক কৌশল হতে পারে এটি। এখানে রাখঢাক করার কোনো বিষয় নয়। খুব স্পষ্ট করে যে কথাটি জানিয়ে আমার আলোচনার বাকি অংশে যেতে চাই তা হচ্ছে বারবার এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং মন্ত্রীর নিজের দায় এড়ানোর প্রবণতা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার এবং এ কথা স্পষ্ট যে মন্ত্রণালয় সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষাকর্ম সম্পাদন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা এক ধরনের অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। এই সব ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে মন্ত্রীকে তার পদ ছাড়ার মধ্য দিয়েই শুরু হোক এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় এখনই এই পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে না, বরং এই ফাঁসের ঘটনায় কি প্রভাব পড়েছে, কতটুকু প্রভাব পড়েছে, আংশিক না সার্বিক তা বুঝেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার কথার যা মানে দাঁড়ায় তা হচ্ছে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে থাকলেও এর ফলে খুব বেশি প্রভাব পড়ে না থাকলে এই পরীক্ষা বাতিলের কোনো প্রয়োজন নেই, যার আরেক অর্থ হচ্ছে খুব বেশি প্রভাব না পড়ে থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা খুব একটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক। একইদিনে তিনি আবারো এই ঘটনার সঙ্গে বিজি প্রেস জড়িত বলে মন্তব্য করেন। এখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, যা মন্ত্রী নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন। সেই ফাঁসের ধরন যে রকমই হোক না কেন এই পরীক্ষা টিকিয়ে রাখার আইনি এবং নৈতিকতার আলোকে কোনো রকম সুযোগ নেই। বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটবে আর এমন ঘটনায় কেবল বিজি প্রেসকেই যদি অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় তবে কেন বার বার বিজি প্রেসেরই শরণাপন্ন হওয়া? এর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা কি নেই? অবশ্যই রয়েছে। অতীতেও এ ধরনের নানা ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এ সব কমিটির প্রতিবেদনের কোনো সুপারিশকেই আমলে নেয়া হয়নি বলেই ঘটনার মাত্রা কেবল বেড়েই চলেছে। এখানে সকলের জানা প্রয়োজন যে বিজি প্রেসকে একতরফাভাবে দায়ী করার পূর্বে একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষা হলে একজন পরিক্ষার্থীর হাতে প্রশ্নটি আসার আগ পর্যন্ত কি কি প্রক্রিয়া রয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন প্রণয়নের জন্য গঠিত একটি কমিটি সার্বিক কাজের দেখভাল করে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রশ্ন প্রণেতা নির্ধারণ, মডারেশন, প্রশ্ন ছাপানো, সংরক্ষণ এবং বিতরণ প্রক্রিয়া রয়েছে। এ সব জায়গায় অতীতে অনেক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে যে প্রতিবছর কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি এ ধরনের কিছু দায়িত্ব পালনের ফলে তাদের সঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ের কিছু গোষ্ঠী, যারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, গাইড বই প্রকাশনী সংস্থা, ফটোকপি দোকান মালিক এবং কর্মচারী, বিজি প্রেসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অসাধু অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রী রয়েছে। সুতরাং যথার্থ তদন্ত এবং এর প্রতিবেদন প্রকাশ ব্যতীত আমাদের সামনে নিশ্চিত হবার সুযোগ নেই যে কোন কারণটি আসলে এ ধরনের ঘটনার জন্য দায়ী। তবে গত ২০১৪ সালে ঢাকা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি ও গণিত (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র হুবহু ফাঁস হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এ ধরনের ফাঁস রোধে কিছু সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছিল, যা অদ্যাবধি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন দেখা যায়নি। ওই সব সুপারিশের একটি ছিল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংশোধন ও প্রশ্ন নির্বাচনের কাজটি একটি নির্দিষ্ট সফটওয়ারের মাধ্যমে করতে হবে। ওই সফটওয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশ্ন প্রণয়নকারীদের কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন ভাণ্ডার তৈরি করা হবে এবং সেখান থেকে প্রশ্নের সেট তৈরি করে প্রতিটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে পাঠনো হবে এবং তা স্থানীয়ভাবে প্রিন্টারে ছাপিয়ে তা পরীক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো হবে। প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ফাঁসরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও এক্ষেত্রে সমস্যা যা দেখা দিতে পারে তা হচ্ছে এই পদ্ধতি সম্পর্কে সকলের সঠিক জ্ঞান নিশ্চিতকরণ। যদি এক্ষেত্রে কোনো কেন্দ্রে প্রযুক্তিগত কোনো বিভ্রাট দেখা দেয় তবে এর ফলে সম্পূর্ণ পরীক্ষাই বাধাগ্রস্ত হবে। যদ্দুর জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই পদ্ধতিটি পরবর্তী পরীক্ষা থেকে কার্যকর করার ব্যাপারে ভাবছে। আমরা নিশ্চিত নই এর কতটুকু সফল প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব হবে। তবে একটি বিষয় ভাবতে খারাপ লাগছে যে অনেকটা আমরা জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে বর্তমান ব্যবস্থায় সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নয় এমন বিষয়টি মেনে নিয়েছি।
আমাদের ভাববার সময় এসেছে যেভাবে প্রতিবছর এবং বিসিএসসহ প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় নিয়মিতভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে এই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করা যায় কি না। কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের এবং প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস করে যেভাবে মেধাকে হেয় করে দেখা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা কোনোভাবেই জাতি গঠন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পারব না। তাই আজ একটি মৌলিক প্রশ্নের সম্মুখীন আমরা সবাই আর তা হচ্ছে আমরা কি মেধাভিত্তিক একটি জাতি গঠনের দিকে এগিয়ে যাব নাকি দুর্বৃত্তের সংস্কৃতিকে লালন করব? ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় এর আগের ৪ বছরে কেবল এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি এবং পিএসসি পরীক্ষায় ৬৩টি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হলেও এর অনেক প্রতিবেদন সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না এমনকি আমরা আজ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনায় কোনো প্রকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়ে অবগত নই। অচিরেই যদি এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধানে রেখে আইন প্রয়োগ করে দ্রুততার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শাস্তি প্রদানের উদাহরণ সৃষ্টি করা হয় তাহলে এ ধরনের ঘটনার ব্যাপকতা অনেকটা হ্রাস পেতে পারে। আরেকটি বিষয় আমরা বেশ অবাক বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করি, আর তা হচ্ছে সরকারের ভেতর থেকে ঘটনা লুকানোর প্রবণতা। এ পর্যন্ত যতগুলো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে এর কোনোটাই সরকারের তরফ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ঘাটিত হয়নি, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রেই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এর সত্যতা নির্ণিত হয়েছে এবং এর মধ্যে অনেক অভিযোগকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নাকচ পর্যন্ত করে দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে নেয়া হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের ঘটনার উদ্ঘাটন, প্রতিরোধ এবং প্রতিবিধানকল্পে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতার যে অভাব রয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অভিযোগ যখন উত্থাপিত হয় তখন আমরা বরাবরই দেখি এর তদন্তে যে কমিটি গঠন করা হয় সেটাও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়েই গঠিত হয়, যার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে এর তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক স্বচ্ছ হবে। সমস্যার সমাধানেও সঠিক দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। অবশ্য সমাধানের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কতটুকু আন্তরিক সেটার ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু।
২০১৫ সালে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছিল প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছা পর্যন্ত ৪০টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়, যার মধ্যে কোনো এক বা একাধিক ধাপের মাধ্যমে ফাঁসের ঘটনা ঘটে থাকে। তারা জানিয়েছে এ ধরনের ঘটনা সরকারি পর্যায়ের সম্পৃক্ততা ছাড়া ঘটানো সম্ভব নয়। এ ধরনের কাজে সরাসরি যুক্ত থাকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কিছু লোক, যাদের মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনে নেতাকর্মী, কোচিং সেন্টার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। বর্তমানে বিদ্যমান ব্যবস্থায় পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগেই প্রশ্নপত্র প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় পাঠিয়ে দেয়া হয়, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তত্ত্ব¡াবধানে থাকে। পরীক্ষার দিন তাদের মাধ্যমে প্রতিটি সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠানের আধ ঘণ্টা আগে তা খোলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় যে কোনোভাবে তা ফাঁসের ঘটনা ঘটতে পারে। সুতরাং কোনো প্রক্রিয়ায় কিভাবে ফাঁস হচ্ছে তার যথার্থ তদন্ত করে অপরাধী যেই হোক তার শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করা ছাড়া এর থেকে উত্তরণের কোনো বিকল্প নেই। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যে ভাবনাটির কথা বলা হচ্ছে অর্থাৎ পরীক্ষার দিন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পাঠিয়ে দিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রিন্ট বা কপি করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের ব্যস্থা করা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস রোধের নিশ্চয়তা দেয়া যায় না, কারণ বর্তমানে প্রায় মানুষের কাছেই ইন্টারনেট সংবলিত আধুনিক স্মার্টফোন রয়েছে, যার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আমাদের মনে রাখতে হবে অতীতে পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক স্বচ্ছতা আনয়ন করা সম্ভব হলেও বর্তমান সরকারের গুটিকয়েক ব্যর্থতার মধ্যে নিঃসন্দেহে এটি সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা, আর এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু লোকের চরম দায়িত্বহীনতা। ফি বছর এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে আর আমরা অজুহাত শুনতে থাকব, এই সংস্কৃতির পরিবর্তন করে যারা এ ধরনের ঘটনা রোধে ব্যর্থ হচ্ছে তাদের স্থলে সরকারের ভেতর অনেক যোগ্য লোকের মধ্য থেকে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধার যথার্থ মূল্যায়নের লক্ষ্যে সরকারের আশু মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
লেখক: শিক্ষক, আন্তর্জাতিক
সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মানবকণ্ঠ/আরএস