প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর সরকারের কড়া নজরদারি

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর সরকারের কড়া নজরদারি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই প্রশাসনে একশ্রেণির বিএনপি-জামায়াত অনুসারী কর্মকর্তা সরকারবিরোধী রাজনীতিকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা শুরু করেছেন। ফোনালাপে তাদের বিষয়ে এসব তথ্য বেরিয়ে আসছে। এ জন্য কর্মচারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখছে সরকার। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই তাদের গতিবিধিতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বলে সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মাঠের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের (ডিসি, এডিসি, ইউএনও, এসপি ও ওসি) ওপর সরকারের কড়া নজরদারি থাকবে। যাতে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিসহ কোনো পক্ষ ফায়দা নিতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

একাধিক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সরকারের কাছ থেকে পদোন্নতিসহ নানা সুবিধা নেয়া বিএনপি ও জামায়াত অনুসারী একশ্রেণির ঘাপটিমারা কর্মকর্তা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছে। তারা ঢাকায় ও নিজ কর্মস্থলে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে একত্র হচ্ছেন। এই কর্মকর্তারা প্রশাসনের ভেতরে থেকে নির্বাচন ও নির্বাচনের দিনে সরকারবিরোধীদের সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করবেন। এমন সব বার্তা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে অনেকে আগেই চলে গেছে। এসব কারণে বিএনপিসহ ঐক্যজোটকে নির্বাচনে যাওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনের সিডিউল (তফসিল) ঘোষণার আগেই প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা শুরু করেছেন। এর কিছু প্রমাণাদি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হাতে আসা শুরু করেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে মাঠপ্রশাসনের পদ থেকে অন্যত্র পদায়ন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সরকারের একটি সংস্থা বিএনপি নেতা ও সাবেক বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুকের সঙ্গে জেলাপ্রশাসনের এক এডিসির কথোপকথনের রেকর্ডসহ সিডির কপি জনপ্রশাসনে জমা দেয়া হয়েছে। প্রথমে ওই কর্মকর্তা নিজেকে এ বিষয়ে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয়নি। পরে তাকে মোবাইল ফোনের রেকর্ড শোনানো হলে তিনি ভড়কে যান। ওই কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

আরেকটি ঘটনা ঘটেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক জেলায়। জেলাপ্রশাসনে কর্মরত একজন নারী কর্মকর্তার (সিনিয়র সহকারী সচিব) জেলা জামায়াতের এক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলছেন। এমন অভিযোগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের সব পর্যায়ের রদবদল প্রায় শেষে হয়েছে। সিডিউল ঘোষণার আগ পর্যন্ত প্রশাসনে কর্মকর্তাদের রুটিন রদবদল অব্যাহত থাকবে। কিন্তু আগামী ৮ নভেম্বরের পর থেকে নির্বাচন কমিশনের মর্জি মাফিক রদবদল হবে।

সরকার ৬৪ জেলার ডিসি ও এসপিসহ মাঠপ্রশাসনের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রদবদল ইতিমধ্যে শেষ করে ফেলেছে। এরপরে বদলি হবে নির্বাচন কমিশনে জমাপড়া অভিযোগের ভিত্তিতে।

মানবকণ্ঠ/এসএস