প্রযুক্তির সুবিধায় আসছে ৬ ট্রেন ও ২৫ স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগছে রেলওয়েতে। এরই মধ্যে ১৩টি রেলওয়ে স্টেশনে ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়েছে। শিগগিরই এ সুবিধার আওতায় আসছে আরো ১২টি স্টেশন। সেইসঙ্গে ৬টি আন্তঃনগর ট্রেনেও সার্বক্ষণিক ওয়াইফাই সেবা চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
কমিটির সভাপতি এ. বি. এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং ইয়াসিন আলী অংশ নেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে কি পরিমাণ ভূমি রয়েছে এবং চট্টগ্রামের রেলস্টেশন রোডে কল্যাণ ট্রাস্টের অধীন টিনশেড মার্কেটের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণ সম্পর্কে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বেদখলকৃত জমির পরিমাণ সম্পর্কে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের কর্মকর্তারা কে কোথায়, কতদিন কর্মরত আছেন সে সম্পর্কে, গত সাড়ে ৪ (চার) বছরে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির জন্য গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প (স্থাপনা) সম্পর্কে, বাংলাদেশ রেলওয়ের লিজকৃত জমি থেকে আয় ও ব্যয় সম্পর্কে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে রেলস্টেশনসহ সব ট্রেনে ওয়াইফাই ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৩টি রেলওয়ে স্টেশনে (ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর, যশোর ও খুলনা) ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়েছে। আরো ১২টি রেলওয়ে স্টেশনে (লাকসাম, আখাউড়া, চাঁদপুর, জামালপুর, ভৈরববাজার, ঈশ্বরদী, পার্বতীপুর, সৈয়দপুর, লালমনিরহাট, নরসিংদী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও বনানী স্টেশন) সেবা প্রদানের নিমিত্তে চুক্তি করা হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ৬টি আন্তঃনগর ট্রেনে (সোনার বাংলা, সুবর্ণ পারাবত, সুন্দরবন, একতা ও ধূমকেতু) শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কোচসমূহে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা প্রদানের নিমিত্ত রবি আজিয়াটা লি.-এর সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
কমিটি বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির জন্য রেলওয়ের অধীনস্থ ভূসম্পত্তি লিজ প্রদানের ক্ষেত্রে রেট বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে এবং রেলওয়ের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের পর সীমানা প্রাচীর তৈরি করতে সুপারিশ করে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে চাকরি করছেন তাদের কর্মস্থল পরিবর্তনের এবং পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়ার সুপারিশও করে কমিটি।