প্রবীণদের খাদ্য তালিকায় যত্নবান

সাধারণত ৬০ বছরের ওপরে চলে গেলে আমার মনে করি ব্যক্তিটি আর কাজকর্ম করতে পারবে না। আস্তে আস্তে যত বয়স বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যরা তাদের থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। আবার পরিবারের প্রবীণ ব্যক্তি অনেক সময় মনে করেন তাদের চাহিদা অনুযায়ী সন্তানরা কোনো কিছু পূরণ করতে পারছে না। একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে সুস্থ রাখতে হলে তাদের প্রয়োজনমাফিক খাবার খুবই প্রয়োজনীয়। সাধারণত দেখা যায় প্রবীণদের খাবার খাওয়ার পর হজমের ঘাটতি থাকে। যে মানুষটি প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সব খাবার খেতে পারতেন তিনিই প্রবীণ হয়ে গেলে আর সব ধরনের খাবার খেতে পারেন না।
সাধারণত এ বয়সে প্রচুর রোগ হতে থাকে। ডায়বেটিস হতে পারে, হার্টের সমস্যা হতে পারে, প্রেসার হতে পারে, পাকস্থলীর কিছু সমস্যা থাকতে পারে। খাবার খেলে বমি হয়, খাবার খেলে অরুচি হয়। এ বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল করে প্রবীণদের খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হবে। এটা এমনভাবে করতে হবে যেন তাদের সারা দিন ক্যালরির চাহিদা পূরণ হয়। এমন খাবার দিতে হবে যাতে সেই খাবার তারা গ্রহণ করতে পারে। শোষণ করতে পারে। কম মসলাযুক্ত খাবার খেতে হবে। তবে তাদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার হতে হবে।
তবে রোগ অনুযায়ী যে খাবার তাকে নিষেধ করা হবে তা এড়িয়ে যেতে হবে। ধরুন একজনের ডায়বেটিস আছে তিনি মিষ্টি খেতে পারবেন না। তাকে মিষ্টি বাদ দিয়ে তার পছন্দঅনুযায়ী অন্য যে কোনো খাবার দিতে হবে। তবে এ বয়সে শরীরে চর্বি জমার মাত্রা বেশি থাকে। এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যেমন, খাসি, গরুর মাংস, ঘি, মাখন, মেওনেজ ইত্যাদি কম খেতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে পনির, লবণজাতীয় খাবার একদম বাদ দিয়ে দেয়া উচিত। সাধারণত অল্প অল্প করে ব্যক্তি অনুযায়ী দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পর পর দিনে যদি সাত থেকে আট ঘণ্টা খেতে দেয়া হয় তাহলে পাকস্থলী নিরাপদ থাকবে। ধারাবাহিকভাবে যে খাবার সে নিচ্ছে সেটি হজম হয়ে যাবে।
এভাবে যদি আমরা প্রবীণদের দিকে একটু খেয়াল রাখি, তাহলে তাদের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে তারা কর্মঠও থাকবেন। – গুরুজন ডেস্ক