প্রধান বিচারপতি ‘নজরবন্দী’: রিজভী

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) এখন ‘নজরবন্দী’ বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি রোববার নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন বলেন, সন্ত্রাসী কায়দায় প্রথমে প্রধান বিচারপতিকে গৃহবন্দী করে রাখার পরে এখন নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে।

এর আগে বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দাবি করেছিলেন যে, প্রধান বিচারপতি ‘গৃহবন্দী’। বিএনপি থেকে এ ধরনের অভিযোগ আসার পরই এস কে সিনহা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দেন। প্রধান বিচারপতির পূজা দেয়ার ঘটনা উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেন, তিন গৃহবন্দী থাকলে পূজা দিতে গেলেন কিভাবে। এরপরই প্রধান বিচারপতি নজরবন্দী বলে দাবি করলো বিএনপি।

রিজভী বলেন, বর্তমান হাসিনার সরকার কতখানি বেপরোয়া ও নীতিজ্ঞানহীন স্বৈরাচার হতে পারে তার পরিমাপক যন্ত্র এখনও আবিস্কার হয়নি। এখন সার্বক্ষণিক প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে দেশ ত্যাগের জন্য।

তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রধান বিচারপতির ওপর আক্রোশের নির্দেশদাতা স্বয়ং সরকার প্রধান। সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন এজেন্সির লোকেরা প্রতিনিয়ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে পারলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বারবার চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত দেখা করতে পারেননি।

রিজভী মনে করেন, এ কারণে বিরোধী দল এবং বিরোধী মতের মানুষদের সুবিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়ে গেল। বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং ভিন্ন মত ও বিশ্বাসের মানুষেরা এখন ক্রুদ্ধ সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হতে থাকবে। প্রতিকার পাওয়ার আর কোন জায়গা থাকলো না।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের ওপর সরকারের পরিকল্পিত আক্রমণ সাধারণ মানুষের জীবনপ্রবাহ রুদ্ধ করে দেয়ার মতো অভিঘাত। তাই এই মুহূর্তে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

রিজভী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘বাংলাদেশের ভূমিকার কারণেই আন্তর্জাতিক বিশ্ব রোহিঙ্গাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে’ উল্লেখ করে বলেন, দেশবাসী দেখেছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা কী ছিল। বরং আন্তর্জাতিক ভূমিকার কারনেই আওয়ামী সরকার রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলতে বাধ্য হয়েছে। জনগণ ও বিএনপি রোহিঙ্গাদের পক্ষে সোচ্চার হওয়াতে সরকারের রোহিঙ্গা বিরোধী তৎপরতা কিছুটা ক্ষান্ত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, প্রবঞ্চনামূলক ও জনগণকে ধোকা দেয়ার শামিল।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাশিয়া-চীনের মতো বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে পাশে তো নিতে পারেইনি বরং নিরপেক্ষও রাখতে পারেনি। এই রাষ্ট্রগুলো মিয়ানমার সরকারের নীতিকেই সমর্থন করেছে। এই সরকারের সবচেয়ে বড় বন্ধু ভারতও আওয়ামী সরকারকে কাঁচকলা দেখিয়ে মিয়ানমার সরকারের নীতির প্রতি সমর্থন দিয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করেন, নাটোরের বড়াইগ্রামে বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নুর বাবুকে হত্যাকাণ্ডের পর সাতটি বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এই মামলার চার্জশিট দেয়া হয়নি। ৯ বার এই মামলার আইও পরিবর্তন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এতবড় নৃশংস হত্যা মামলার সুরাহা দূরে থাক, উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতিই হয়নি। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাম কামনার অনুষ্ঠানও করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি সানাউল্লাহ নুর বাবুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে অবিলম্বে এই হতাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ