প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলাম প্রচার প্রসারের জন্য অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ) এর কো-চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র এমএ আউয়াল এমপি।

তিনি বলেন, দেশে ইসলামের প্রচার প্রসার, মিলাদ, কেয়ামসহ ধর্মীয় প্রচার হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ইসলামি ফাউন্ডেশন, আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সর্বশেষ কওমি সনদের স্বীকৃতি এ সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এর ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে এ সরকারের উন্নয়নের জন্য আসন্ন একাদশ নির্বাচনে নৌকাকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান এম এ আউয়াল।

সম্প্রতি সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে মানবকণ্ঠকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানান। এ সময় নির্বাচনের আগে তার নেতৃত্বাধীন নতুন ইসলামী জোট গঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ইসলাম প্রচারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান, তার নিজ সংসদীয় এলাকায় লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের ব্যাপক সাফল্যসহ নানা বিষয় খোলামেলা কথা বলেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে।

এক প্রশ্নের জবাবে তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল বলেন, মুসলমানদের বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতিক দল ও সংগঠন বহুদলে বিভক্ত। বিভিন্ন আকিদাগত কারণে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। আমার মূল কনসেপ্ট হচ্ছে যে সমস্ত ইসলামী দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাস করে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং মদিনা সনদের আলোকে যারা দেশ গড়তে চায় তাদের নিয়ে মূলত এ জোট গঠন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ১৫টি ইসলামী দল নিয়ে জোট গঠন করেছি। এ জোটের নেতৃত্বে ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব রয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, আমি কো-চেয়ারম্যান ও মুখপাত্রের দায়িত্বে আছি আর মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম।

এমএ আউয়াল বলেন, এ জোট গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও ধর্মীয় অঙ্গনে সাড়া জাগিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকগুলো ধর্মীয় দল জোটে আসার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছে। এরশাদের জোট থেকে কয়েকটি দল আসার চেষ্টা করেছে। আমরা শুধু মাত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ জোট সৃষ্টি করিনি। আমরা নির্বাচনের পরেও যে লক্ষ্য এটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাব।

নতুন জোটের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র এমএ আউয়াল বলেন, আজকের বিদ্যমান রাজনৈতিক সমস্যা, সন্ত্রাস দমন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের দেশপ্রেমিক ইসলামী ও সমমনা দলসমূহ যদি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সংগঠিত করার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ অবশ্যই এটাকে সমর্থন করবে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এদেশে ইসলামী ও সমমনা শক্তিই তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।

আউয়াল বলেন, এই জোট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী। চলতি মাসের শেষের দিকে ঢাকায় গণসমাবেশের মাধ্যমে জোটের কর্মসূচি দেশবাসীকে জানানো হবে। আমি আশা করছি, দেশপ্রেমিক দল ও বিখ্যাত আলেম এবং ইসলামী চিন্তাবিদরা এই জোটে যোগদান করবেন। এ সময় ইসলামের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে ধর্মীয় নেতাদের নানাভাবে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে, তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন।

তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব বলেন, দেশের ৮০ হাজার মসজিদে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা ও কোরান শিক্ষা, ২০১০টি দারুল আরকাম মাদরাসা, ইমাম প্রশিক্ষণসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নানামুখী কর্মসূচির বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন সম্পর্কে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের এ নেতা বলেন, আমার নির্বাচনী আসন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা। এখানে ১৯৭৩ সালের পর থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল তরিকত ফেডারেশন নৌকা প্রতীক নিয়ে আমাকে পাঠান। তিনি বলেন, ভোটের দিন প্রায় ৫০টি কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভোটের পরিবেশ বিঘ্ন ঘটায় বিএনপি জামায়াত। তার আসনে ৫ জানুয়ারি ও ১৬ জানুয়ারিসহ ২ দফা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল ভোটে তিনি নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করেন বলেও আউয়াল জানান।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমার আসনে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছি। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, মসজিদ, মন্দিরসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখি। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ আমার এলাকাতে হয়েছে। আরো ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হলে একটি আদর্শ মডেল ডিজিটাল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব। ১৪ দলের এ শীর্ষ নেতা বলেন, আমি আশা করব জোট নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আসন্ন একাদশ নির্বাচনে আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ভূমিকা রাখতে সহযোগিতা করবেন ইনশাআল্লাহ।

মানবকণ্ঠ/এসএস