প্রধানমন্ত্রীর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

‘যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর জেলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পে দুর্নীতির খবরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৩২টি, কাশিয়ানী উপজেলায় ৪৭১টি, মুকসুদপুরে ৩৫৮টি, কোটালীপাড়ায় ৩০৭টি ও টুঙ্গীপাড়া উপজেলায় ১১৩টি পরিবারের নামে ঘর বরাদ্দ করা হয়। অর্থাৎ জেলায় মোট ১ হাজার ৫৮১ ঘর নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। আর বরাদ্দকৃত ঘরগুলো নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ১৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের উপকারভোগী ঝন্টু বিশ্বাস, কাঞ্চন বিশ্বাস, গিরীষ বিশ্বাস, গীতা বিশ্বাস জনপ্রতিনিধিদের টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করেন। তারা জানান, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার কামনা বিশ্বাস বিকেলে ঘর পাওয়ার সংবাদ দিয়ে রাত ৮টার মধ্যে তাদের ২৫ হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য চাপ দেন। অন্যথা ঘর অন্য কাউকে দেয়ার ভয় দেখান তিনি। এর ফলে তারা বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে মহিলা মেম্বারকে চাহিদা মাফিক টাকা পরিশোধ করেন। তাদের মধ্যে ঝন্টু বিশ্বাস ওই মেম্বারকে টাকা দেননি। টাকা না দেয়ায় মহিলা মেম্বার একই বাড়ি সমির বিশ্বাসের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেন। এরপর তিনি সমির বিশ্বাসের জায়গায় ঘর নির্মাণের খুঁটি স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সমির বিশ্বাসের জায়গা থেকে ওই খুঁটি উত্তোলন করে ঝন্টু বিশ্বাসের জায়গায় খুঁটি স্থাপন করেন। এছাড়া মেম্বারকে টাকা দিতে অস্বীকার করায় উপকারভোগী নির্মল পাড়ে বাড়িতে ঘর নির্মাণের মালামাল নিয়েও সে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু বৌলতলী ইউনিয়নেই নয়, খোঁজ নিলে জেলার প্রায় ইউনিয়নেই টাকা নিয়ে শুধু দরিদ্রদেরই নয়, অনেক অবস্থাসম্পন্নেরও এ প্রকল্পের আওতায় ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আগামীতে ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে অগ্রিম ২৫-৩০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এবার তারা বৌলতলী ইউনিয়নে এ প্রকল্পের আওতায় ১৩টি ঘরের বরাদ্দ পেয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘর না পাওয়া সদর উপজেলার দুই বাসিন্দা জানান, সদর উপজেলার বড়ফা গ্রামের ফরিদ মোল্লা, পাইককান্দি ইউনিয়নের সাগর সরদার, আফতাব মীর, উলু দাড়িয়ার ঘর পাওয়ার উপযুক্ত না হলেও তাদের ঘর দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে আগামীতে ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে অগ্রিম ২৫-৩০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ অন্যান্য ইউনিয়নে গেলেও পাওয়া যাবে। তবে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের সংরক্ষিত-২ আসনের মেম্বার কামনা বিশ্বাসের টাকা নেয়ার কথা খুব সহজেই স্বীকার করেছেন।
সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরান হোসেন মিয়া বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পের ঘর দেয়া শুরু হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ঘর বরাদ্দের কাজ চলছে। আগামীতেও চলবে। বিভিন্ন ইউনিয়নে এ প্রকল্পে অনিয়মের কথা আমি শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

জেলার কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মাঈনুদ্দিন বলেন, আমার উপজেলায় কোনো অনিয়ম নেই। তবে কোনো ইউনিয়ন থেকে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একটি কল্যাণমুখী প্রকল্পকে যারা কলুষিত করছে, প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস