প্রত্যাশার আশ্বাস মেলেনি বরিশালবাসীর

দীর্ঘ ছয় বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনে চাওয়া-পাওয়ার হিসেবে ৫টি উন্নয়নের বিষয়ে কোনো ঘোষণা না আসায় কিছুটা হলেও হতাশ হয়েছে বরিশালবাসী। তবে দাবিকৃত ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বরিশালে সরবরাহ ও বরিশালে স্বতন্ত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। না চাওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন ও বরিশাল-ভোলা সড়কপথে ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে ঘোষণায় আসেনি বাকি ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের। এগুলো হলো- বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলকে বাঁচাতে নদী খনন, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা, বরিশাল বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃস্থ ক্যাম্পাস বাবুগঞ্জে স্থাপিত ‘অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদকে’ স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতিকরণ, উজিরপুরের সন্ধ্যা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ উন্নয়ন প্রকল্প। এতে করে অনেকটাই হতাশ হয়েছেন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বাসিন্দারা।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে থাকা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার জনসভাস্থলে আসলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের এমপি ও জনসভার সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে দাবির বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ৩০ মিনিট ভাষণ দেন।

ভাষণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বরিশালে সরবরাহেরর ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ভোলাকেও কিছু দেয়া হবে বলে সেখানে বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগে ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী থেমে থাকেননি। তিনি দেশে সকল বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনেরও ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর একটি বিশ্ববিদ্যালয় বরিশালেও হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। আহ্বান জানিয়ে চুপ থাকেননি প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন রাখেন ভোট দেবেন কিনা। তখন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে আগত হাজারো লোক হাত উঁচিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বিগত বছরগুলোতে যেসব উন্নয়ন করেছেন তা তুলে ধরেন। আগামীতেও এ ধরনের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী একটি কবিতার লাইন বলে ৩০ মিনিটের ভাষণ শেষ করেন। এতে করে চাওয়া-পাওয়ার হিসেবে ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে কোনো ঘোষণা না আশায় হতাশা ভর করে বরিশালবাসীর ওপর।

ঘোষণা না আসায় বেশি হতাশ হয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। কারণ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ভেন্যু করার উপযুক্ত। খেলার মাঠ থেকে শুরু করে আবাসিক হোটেল এবং বিমানবন্দর সব কিছু রয়েছে। শুধু প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেই বরিশালে আন্তর্জাতিক ভেন্যু করা সম্ভব ছিল। এটা না হওয়ায় ক্রীড়াপ্রেমীরা হতাশ হয়েছেন। একই অবস্থা ছিল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃস্থ ক্যাম্পাস বাবুগঞ্জে স্থাপিত ‘অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদকে’ স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ। সেখানেও সবকিছু আছে শুধু প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেই এটি স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হয়ে যেত।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক আলমগীর হোসেন খান আলো বলেন, দক্ষিণাঞ্চল আওয়ামী লীগের অভিভাবক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে ৭টি দাবিনামা উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেই দাবিগুলো মেনে নেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি প্রফেসর এম. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, জনগণের চাহিদা যার কাছ থেকে পাওয়া যায়, তার কাছে উপস্থাপন করে। দেশের যিনি নির্বাহী প্রধান তার হিসেব-নিকেশ থাকে অন্য রকম। তিনি আঞ্চলকিতার ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। আমরা আমাদের চাহিদা তার কাছে পেশ করেছি। এটা মানা না মানা তার ব্যাপার। ভবিষ্যতে ৫টি দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব দেখাবেন বলে বিশ্বাস করেন এ শিক্ষাবিদ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালীর লেবুখালীতে শেখ হাসিনা সেনানিবাসের উদ্বোধন শেষে বরিশালের জনসভায় ভাষণ দেন। ভাষণের আগে বরিশালে ৭২টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

মানবকণ্ঠ/আরএ

Leave a Reply

Your email address will not be published.