প্রত্যাবাসন ব্যাহত করার চক্রান্তে রোহিঙ্গারা!

মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট সেনা অভিযানের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাবাসন বা ফেরত নেয়ার চুক্তি হওয়ায় অধিকাংশ রোহিঙ্গা সন্তুষ্ট হলেও একটি অংশ এর বিপক্ষে সক্রিয়।



প্রত্যাবাসন কার্যক্রম ব্যাহত করতে তারা নানাভাবে তৎপরতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন মসজিদ নূরানী মাদরাসা ও মক্তবে ইমাম এবং শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রোহিঙ্গারা এই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া পুরাতন রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ এবং উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাঝির দায়িত্বে থাকা অনেকেই নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে না যেতে প্ররোচণা দিচ্ছেন বলে প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় অধিবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, টেকনাফ ও উখিয়ার পুরনো রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩ শতাধিক মসজিদ, নূরানী মাদরাসা ও মক্তব গড়ে ওঠেছে। নতুন রোহিঙ্গারা আসার পর ইতোমধ্যে আরো প্রায় দেড় শতাধিক এ ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। এখানে ইমাম ও শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন রোহিঙ্গাদেরই শিক্ষিত অংশের প্রতিনিধিরা। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার আগে থেকেই এদের অনেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছিলেন। সুযোগ পেলেই তারা মিয়ানমারের সাধারণ নারী-পুরুষ যারা রয়েছেন, তাদের ওপারে আর ফিরে না যেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মিয়ানমারে ফিরে গেলে পুনরায় তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু হবে- এমন কথা বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার চুক্তি হলেও আতঙ্কবোধ করছেন তারা। আবার ১৯৭৮ সালের পর থেকে কয়েকধাপে আসা পুরাতন রোহিঙ্গাদের অনেকেই এখানকার বর্তমান পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। তারাও নতুন করে আসা তাদের আত্মীয়স্বজনদের আর মিয়ানমারে ফিরে না যেতে প্রলোভন দেখাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা যে বন্দীদশায় ছিলেন, সেখানকার তুলনায় তারা এখানে অনেক অনেক গুণ ভাল অবস্থায় রয়েছে। কষ্ট করে তাঁবুতে থাকতে হচ্ছে- এটাই সমস্যা। কিন্তু তারা এখানে যে আধুনিক জীবন ব্যবস্থার স্বাদ পেতে শুরু করেছেন, তাতে ফেরত না যেতে কেউ কেউ তাদের প্ররোচিত করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক দিক থেকে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রত্যাবাসনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত রয়েছে এ রকম প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। চুক্তিবিরোধী যে কোনো তৎপরতাই হবে গর্হিত কাজ।

মানবকণ্ঠ/আরএ