প্রকাশক দীপন হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল

জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফীন দীপন হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ৮ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযোগপত্রটি দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমান।

হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পর বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর বিচারক ১৮ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

অভিপত্রভুক্ত আসামিরা হলো- আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার প্রধান ও বরখাস্তকৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে স্বাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ। আসামিদের মধ্যে জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেন পলাতক।

এছাড়াও গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৬ জন হলেন- সুনামগঞ্জের মইনুল হাসান শামীম (২৪), কুমিল্লার মো. আব্দুস সবুর (২৩), চট্টগ্রামের খায়রুল ইসলাম (২৪), মো. শেখ আব্দুল্লাহ (২৭), লালমনিরহাটের মো. আবু সিদ্দিক সোহেল (৩৪) ও ময়মনসিংহের মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (২৫)।

অভিযোগপত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১১ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। তারা হলেন-আরাফাত রহমান, সেলিম ওরফে হাদী, আলম, আকাশ, তৈয়ব, জনি, আসাদ, হাসান, তালহা, শরিফুল ও তারেক। এর মধ্যে প্রথম জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় এবং অন্য আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, লেখক-প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের উপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ে আক্রান্ত হন দীপন। বদ্ধ ঘরে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। ওইদিনই দীপনের স্ত্রী রাজিয়া রহমান জলি শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। দীপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে।

মানবকণ্ঠ/এএম