প্রকল্প বাস্তবায়নসহ জনসেবার অঙ্গীকার নতুন মন্ত্রীদের

প্রকল্প বাস্তবায়নসহ জনসেবার অঙ্গীকার নতুন মন্ত্রীদের

প্রথম দিনে সচিবালয়ের অফিসে এসে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ জনসেবা প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। শপথ নেয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার প্রথম অফিস করেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। অফিসে এসেই নিজ মন্ত্রণালয়ের ফ্লোর ঝাড়ু দিতে দেখা গেছে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে। কাজ শুরুর দিন এটি ভিন্ন মাত্রার আলোচনার জন্ম দিয়েছে সচিবালয়ে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের বরণ করতে সকাল থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন সাচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা সোয়া ১২টার দিকেই সচিবালয়ে প্রবেশ করে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ে যান তারা। এ সময় মন্ত্রীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফুলেল শুভেচ্ছায় গোটা সচিবালয় যেন ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। সচিবালয়ে এদিন ছিল ভিন্ন এক রূপ। মন্ত্রীরা অফিসে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের আগামীর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এবার আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন। আমরা আগেও জঙ্গিবাদকে মাথাচারা দিতে দেইনি, আগামী দিনেও সেটা হতে দেব না।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নতুন করে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করে নতুন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা তাদের সচিবালয়ের দফতরে আসেন। মন্ত্রীরা নিজ নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে একথা বলেন। মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মন্ত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। যেন ফুলের শুভেচ্ছায় ভেসে গেলেন নতুন মন্ত্রীরা। আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘তবে আমরা মাদকের বিষয়েও অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থাকতে চাই। আগের যেকোনো সময়ের মতো মাদকেও থাকবে জিরো টলারেন্স নীতি। যেকোন মূল্যে সমাজ থেকে মাদক দূর করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সন্ত্রাস প্রতিরোধে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে কাজ করেছে। তারা এখন অনেক বেশি প্রস্তুত যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, এর আগেও আমি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছি। যেসব কাজ আগে করা সম্ভব হয়নি সেই কাজগুলো সম্পাদনও থাকবে আমার বড় চ্যালেঞ্জ।’

গ্রামে শহরের সুবিধা দিতে মন্ত্রণালয়ের গতিশীলতা বাড়াতে হবে -গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী: বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেয়া। এ সুবিধা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের গতিশীলতা আরো বাড়াতে হবে। তা হলে গ্রামের মানুষ উন্নত জীবনযাত্রার সুবিধা পাবে, নগরমুখী জনস্রোত রোধ করা যাবে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। গতকাল মঙ্গলবার নবনিযুক্ত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রোজাউল করিম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি ও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের বিষয়ে অবহিতকরণ সভায় এ কথা বলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী বলেন, একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে সরকারের বর্তমান মেয়াদেই দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রামে শহরের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একজন সত্, পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান এবং জনগণের কল্যাণে সর্বদা নিবেদিত নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বব্যাপী পরিচিতি রয়েছে। সেই গুণাবলীকে ধারণ করে সেবার মনোভাব নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মন্ত্রণালয়ের সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে নীতি-নির্ধারকদের জানানোর জন্য গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। সঠিত তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা হলে অবশ্যই তার আলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব মো. আখতার হোসেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের চ্যালেঞ্জ হবে সুবিচার নিশ্চিত করা —আইনমন্ত্রী: দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘এই মেয়াদে আমাদের চ্যালেঞ্জ হবে সুবিচার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। তবে আমাদের কিছু কিছু সমস্যা আছে সেগুলো নির্ধারণ করে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
গত মেয়াদে আমাদের অনেকগুলো পদক্ষেপ ছিল। সেগুলো আরো জোরদার ও সুদৃঢ় করা হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটি কথা বলতে চাই, গতবার আমাদের মন্ত্রণালয়ের দুটো বিভাগই আমাকে সহযোগিতা করেছে। যার ফলে অনেক কাজই করা সম্ভব হয়েছে। গতবারের অভিজ্ঞতার আলোকে বাকি কাজগুলো এগিয়ে নিতে চাই।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয়, তবে কঠিন। এটা নিয়ে আমরা কাজ করেছি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা কঠিন হওয়ার কারণ আছে। আর সেটা হলো ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে খুনের পর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে। দেশেও অনেককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আপনারা জানেন, ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে। এমনকি তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্যসচিব বিমানবন্দরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মেজর ডালিমের স্ত্রীর মরদেহ গ্রহণ করেছেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, এরপর ২০০৯ সালে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়। আমরা ফিরিয়ে আনতে পারিনি, ব্যর্থ হয়েছি এটা ঠিক নয়। আমরা একটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করেছি। তবে এ প্রক্রিয়া অনেক বেশি দীর্ঘ হবে। আর এসব খুনি কোথায় আছেন তাদের শনাক্ত করাও একটু কঠিন হবে। তবে বঙ্গবন্ধুর খুনের নেপথ্যে কারা দায়ী তাদের শনাক্তে আমরা কমিশন গঠনের চেষ্টা করব।

বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার হাসপাতাল করা হবে —স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে ১০০ শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সব মেডিকেল কলেজের কাজ শেষ করা হবে। শেষ করা হবে ১০ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ প্রক্রিয়া।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেজন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন পাস করা হবে।

তিনি আরো বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার ঘোষণা করেছে, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিশ্রুত গুলো বাস্তবায়ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নতুন শুরু করতে গেলে কিছু বিষয়ে আপত্তি থাকে —বাণিজ্যমন্ত্রী: সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকরা। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, নতুন স্যালারি (বেতন) যুক্ত হতে বাস্তবায়ন যাচ্ছে এ মাসে। কোনো কিছু নতুন নতুন শুরু করতে গেলে কোনো ব্যাপারে কিছু কিছু আপত্তি থাকে। ক্লিয়ারিফিকেশনের কিছু ব্যাপার থাকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ আয়োজনে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা আগামী ৯ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে। ওইদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিকেল ৩টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

টিপু মুনশি বলেন, ‘মেলায় বিভিন্ন ডাইভার্সিটি (বিচিত্রতা) ছাড়াও মানুষের বিনোদনেরও একটা বিষয় থাকে। অসংখ্য মানুষ আসবে, দেখবে, ঘুরে বেড়াবে। এ বিষয়গুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।’

দেশের পোশাকশ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গতকালকেই আমি বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট, সাবেক প্রেসিডেন্ট, একজন সাংসদসহ পোশাকশিল্পের নেতাদের সঙ্গ কথা বলেছি।

গ্রামে যাবে শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা —তাজুল ইসলাম: শহরে যেসব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে সেগুলো গ্রামে পৌঁছে দেয়ার জন্য কর্মপরিকল্পনা নেয়া আছে। এগুলো আরো ত্বরান্বিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন মন্তব্য করেন স্থানীয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া নতুন এ মন্ত্রী। পরে তিনি সচিবালয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন

ভূমি অফিসগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা হবে —ভূমিমন্ত্রী: সারাদেশের ভূমি অফিসগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, ‘যাদের সমস্যা আছে তাদের চলে যেতে হবে। নইলে ভালোভাবে কাজ করতে হবে।’ সচিবালয়ে নিজ দফতরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেবার মান ও কাজের গতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মূল কাজ হচ্ছে টিমওয়াকের্র মাধ্যমে সেবা বাড়ানো।’

এ ছাড়া ভূমি অফিস থেকে দুর্নীতি দূর করতে দুই বছরের মধ্যে সারাদেশের ভূমি অফিসগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
পাটের ব্র্যান্ডিংয়ে বহুমুখী চেষ্টা চালাব —বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী: প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে পাটকে বহুমুখী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক। তিনি বলেন, ‘এজন্য পাটের ব্র্যান্ডিং করতে হবে। যে পাট নিয়ে পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছে, সেই পাটের ব্র্যান্ডিং করতে বহুমুখী চেষ্টা চালাব।’

সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের কাছে এ সব কথা বলেন।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘পাট ও বস্ত্র খাত নিয়ে আমাদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। পাট আমাদের পুরনো সেক্টর। আর বস্ত্র নতুন। বস্ত্র নিয়ে এরই মধ্যে আমরা সারা বিশ্বে পরিচিত হয়েছি। এটি এখন আমাদের ১ নম্বর রফতানি পণ্য।’

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘এখন আমাদের পাট সেক্টরকে দাঁড় করাতে হবে। তার কারণ পাটের জন্যই পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানিরা এই পাট বিক্রি করে অর্থ নিয়ে চলে যেত। এই সেক্টরকে এখন আধুনিক করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। আমার আদি উত্থান শিল্পের সঙ্গে। এটাও যেহেতু শিল্প, তাই এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা তার টার্গেট উল্লেখ করেন মন্ত্রী বলেন, ‘সেই টার্গেটকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করে যাবো। এটাই আমার চ্যালেঞ্জ।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ে আসেন। এ সময় সাবেক মন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক নতুন মন্ত্রীকে নিজ চেয়ারে বসিয়ে দেন। পরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে —বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী: অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুত্ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা যাবে না, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সামনে তিন মাসের মধ্যে প্লানিং করতে হবে। আর পরের সাড়ে ৪ বছর হবে বাস্তবায়নের বছর। ২০২১ সালকে টার্গেট করে বিশেষ প্লান থাকতে হবে। আমি এবার জ্বালানিতে বেশি সময় দেব।

এ সময় তিনি বলেন, শুক্রবার-শনিবারেও কাজ করার জন্য মানসিকতা রাখতে হবে। পুরনো ধাঁচের ধ্যান-ধারণা বদলাতে হবে। এবার সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখবে। আপনাদের সেভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাকে আবার এই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করতে পারাটা দারুণ সৌভাগ্যের।

এর আগে সকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিপিসি, পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন দফতর পরিদফতরের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর বিদ্যুত্ ভবনে বিদ্যুত্ বিভাগ ও অধীনস্থ সংস্থা, দফতর ও পরিদফতরেরর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রবাসীদের কল্যাণে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবো -ইমরান আহমদ: নবনিযুক্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণে সব চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করব। এ ছাড়া অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়েও আমরা বিশেষ পদক্ষেপ নেব। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয়পর্বে প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রৌনক জাহান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান বেগম সামছুন নাহার, অতিরিক্ত সচিব (অভিবাসী কল্যাণ) ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস, বিএমইটি’র মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরণ কুমার চক্রবর্তীসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

মানবকণ্ঠ/এসএস