পোষাপাখি সম্পর্ক

শতাব্দী জুবায়ের :
পশু পাখির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কত বিচিত্র রকমের। আর মানুষের কত রকমের শখ তারও ইয়াত্তা নেই। কেউ বাগান করে, কেউ ডাক টিকিট সংগ্রহ করে, কেউ বা আবার ছবি আঁকে। এত সব শখের মধ্যে মানুষের অন্যতম প্রিয় শখটি হলো পোষাপ্রাণী পালন করা। বহুকাল আগে থেকেই মানুষ পোষা প্রাণী পালন শুরু করে। বলতে গেলে সেই আদিম সমাজ থেকেই। আজকাল শহরের ফ্ল্যাট বাড়িতে পোষা প্রাণীর আধিক্য লক্ষ্যকরা যায়। আবার শুধু শখের খাতিরেই নয়, বাসায় পশু-পাখি পালন করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। বিচিত্র ধরনের পাখি, হাঁস মুরগিপালন যেমন এই কাতারে পড়ে তেমনি বিদেশি কুকুর-বিড়াল-মাছ ইত্যাদি পালন করে জš§ নেয়া বাচ্চাও অনেকে বিক্রি করে উপার্জন করে থাকেন। পোষা প্রাণীকে কে না ভালোবাসে? বাসায় পশু-পাখি থাকলে শিশুরা যেমন আনন্দ পায় তেমনি বাড়িতে একটা উপভোগ্য দৃশ্যও সৃষ্টি হয়। যেসব পশু-পাখি বাড়িতে পালন করা যায় তাদের মধ্যে কুকুর, বিড়াল, খরগোশ , মংনা, কবুতর, কোয়েল, ইত্যাদি আছে। এছাড়াও নানা বর্ণ ও রঙের বিদেশি পাখি যেমন- লাভ বার্ড, কিংস, জেব্রা ফিঞ্চ, গোল্ডেন ফিঞ্চ, রেড রেম অন্যতম।
পাখির বিচরণের জায়গা হচ্ছে খোলা আকাশ, বন জঙ্গল আর গাছ। তবে অনেকে বাড়ির ছাদে অথবা বারান্দার এককোনায় পাখি পোষতে ভালোবাসেন। এতেপাখির জন্য অতিরিক্ত যতœ নেয়া জরুরি। এছাড়া একেক রকম পাখির একেক রকম খাবার ও আবাস দরকার। আর বিদেশি পাখিগুলো একটু নাজুক হয়। তাই এগুলোর যতেœর নিয়মটাও হয় একটু ভিন্ন। এদের খাবার, থাকার পরিবেশ, খাঁচা, হাঁড়ি বাসা, সবকিছুই এদের উপযোগী না হলে অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এই যে আমরা পাখি পালন করি এই পাখির সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক। কেমন ভালো লাগা কাজ করে আমাদের অবসর সময় পাখির সঙ্গে কাটাতে বা পাখির যতœ নিতে? আমরা যে পাখি খাঁচায় রাখি তা শুধু পালন করলেই হবে না। এদের দরকার সঠিক যতœ, সঠিক পরিচর্যা ও সর্বোপরি আপনার ভালোবাসা। আসুন জেনে নেই পোষা পাখির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেমন হয়া উচিত? কিভাবে যতœ করা দরকার পোষাপাখির।

নানা বর্ণের নানা ধরনের পাখি
বাংলাদেশে এখন নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি রয়েছে। লাভবার্ড, ম্যাকাও বাজরিগার, ককাটেল, ডায়মন্ড ডোভ, জাভাস্পারো, বুরকিজ প্যারোট, লিনিওলেডে প্যারাকিট, রেইনবো লোরিকীট, ছোট্ট ফরপাস, রেড রামপড় পারাকিট, হলুদ টিয়া, গোল্ডেন ফিঞ্চ আরো কত নামের পাখি। এগুলোর রং কোনটির রংধনুর সাত রঙের সম্মিলন, কোনটির সবুজ, গাঢ় নীল, বেগুনি, লালচে বা বাদামি। এসব পাখির আদিনিবাস অস্ট্রলিয়া, আফ্রিকা, মেক্সিকো, ভেনেজুয়েলা, পানামা, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে। কোনটির ঠোঁট ভোঁতালো। আবার কোনটির বাঁকানো সূচালো। কোনো পাখির লেজ খাটো, আবার কোনটির লেজ অনেক লম্বা। এসব বৈচিত্র্যের জন্য মানুষ গৃহের সৌন্দর্য এবং ভালোবাসা থেকে ঘরে পোষে পাখি।

পাখি রাখার স্থান
পোষা পাখিটি বাড়ির যে স্থান এ রাখবেন সেই স্থানটি যেন অবশ্যই আলো-বাতাস পূর্ণ হয়। আলো বাতাস এদের শরীরের জন্য খুবই দরকারী। বাড়ির শিশুটি পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলা করে, এদের শরীরে স্পর্শ করে। তাই তাদের শরীর সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে, এদের অপরিছন্ন শরীরে পোকাও বাসা বাঁধে। সপ্তাহে অন্তত একদিন জীবাণু নাশক শ্যাম্পু দিয়ে এদের গোসল করাতে হবে। গোসল করানোর পর শরীর ভালো মতো মুছে শুকিয়ে দিতে হবে।

পাখির খাবার
যে পাখি যে ধরনের খাবার পছন্দ করে তাকে সে ধরনের খাবার দিতে হবে। কোন কোন পাখি খায় বাজারের কিনা খাবার আবার কোন কোনটি প্রাকৃতিক খাবার। তবে পাখির চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিতে হবে। বাসি খাবার দেয়া যাবে না, খাবার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাত্রটি পরিষ্কার করে রাখতে হবে। তাহলে এতে জীবাণুর সংক্রমণ হবে না। পোষা প্রাণীকে সব সময় সুষম খাদ্য দিতে হবে।
কী থাকবে আহারে? পাখি বা পশু যেটাই পোষেণ না কেন, তার খাবার পাত্রও পানির আলাদাপাত্র নির্ধারণ করুন। খাবার শেষে পাত্রটিপরিষ্কার করুন। না হলে জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে। পোষা প্রাণীকে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার দিন। কবুতরসহ অনেক পাখি দেশি খাবার খায়। পাখিকে শস্য দানা, গম, ভুট্টা, ধান, তিল, তিসি, কাউন, বাদাম, সূর্যমুখী ফুলের বিচি দিতে পারেন। দেশি বা বিদেশি সব ধরনের পাখিই ফল পছন্দ করে। পাখিকে পাকা পেঁপে, কলা, আপেলের টুকরা, জাম, লিচু ইত্যাদি দিতে পারেন। বাজারে পাখির জন্য প্যাকেটজাত খাবার কিনতে পাওয়া যায়। সে সবও দিতে পারেন।

গরমে আরামে রাখি পাখি
প্রচণ্ড গরমে যখন চারদিকের সব প্রাণিকুল তৃষ্ণার্ত তখন বুঝতে আর বাকি থাকে না ঘরের ছোট পাখিটির অবস্থা কেমন হতে পারে। আপনার পাখির গরম লাগছে আপনি কিভাবে বুঝবেন-
পাখি রাখার স্থানে আপনার গরম লাগবে। পাখি হা করে ঘন নিঃশ্বাস নিবে। ডানা উঁচু করে রাখবে। পানির পটে গোসল করতে চাইবে। আর এরকম অবস্থায় আপনি কোনো পদক্ষেপ না নিলে পাখিটি হয়ত হিট স্ট্রোক করতে পারে। সকাল ৯টা ১১ মিনিটে মধ্যে গোসলের পানি দিতে হবে। খাওয়ার পানির সঙ্গে এলোভেরা ও লেবু মিশিয়ে ৩-৪ দিন দিতে পারেন। তরমুজ বীজ ছাড়িয়ে ছোট করে কেটে দিয়ে রাখতে পারেন, শশা এবং গাজরও দিতে পারেন। যদি বেশি গরম থাকে সকাল থেকেই, তখন স্যালাইন পানি দিতে পারেন। এভাবে গরমে পাকিকে আরামে রাখেতে পারেন।

শীতকালে পাখির যতœ
শীতকাল পোষা পাখির জন্য কঠিন সময়। এই সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। তাই পাকিকে রক্ষা করতে নিজেকে আরো যতœশীল হতে হবে। শীতকালে নিজের আদরের পাখিগুলোর কিভাবে যতœ নিবেন তার কিছু উপায় নিচে বর্ণনা করা হলো।
ঘরের ভেতরে রাখার চেষ্টা করুন। বাইরের ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ষার জন্য আপনার পোষা পাখিকে যথাসম্ভব ঘরের ভেতরের উষ্ণতাপ মাত্রায় রাখুন। প্রয়োজন বোধে পাখির জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করুন। কক্ষে উষ্ণ তাপমাত্রা বজায় রাখুন। পাখিকে শুধু ঘরের ভেতরে রাখা নয়, খেয়াল রাখতে হবে তাপমাত্রার ওপর। ঘরের তাপমাত্রা যেন উষ্ণ থাকে। সে জন্য প্রয়োজনে হিটার ব্যবহার করতে পারেন। সঠিক আর্দ্রতা বজায় রাখুন। হিটার ব্যবহারে অনেক সময় ঘরের বাতাস স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলতে পারে। যা আপনার পাখির স্বাস্থ্যেও জন্য ক্ষতিকর। আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য পাখিকে বাষ্পীয় পরিবেশে কিছুক্ষণ রাখতে পারেন। পানি গরমকরে আপনি এ বাষ্পীয় পরিবেশ তৈরিকরতে পারেন। পানি পরিবর্তন করুন: ঠাণ্ডা আবহাওয়া পাখির খাবার পানিকে দ্রুত ঠাণ্ডা করে দেয়, যা পাখির পান করার জন্য কষ্টকর। তাই এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন পাখির খাবার পানি উষ্ণ থাকে।

শীতকালে খাবার ও বাসস্থান
শীতকালে পাখির খাবারের ওপর আপনাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পাখি যেন শীতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি পায়, সে ব্যাপারে আপনাকে সচেতন হতে হবে। পাখিরা সাধারণত পানি নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। তাই শীতকালে পাখিকে গরম পানিতে গোসল করানোটা বেশভালো একটা উদ্যোগ। এটা পাখির জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সহায়ক। পাখিকে যে স্থানেরাখছেন, সে জায়গার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সব রকম দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য পাখিকে যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে রাখুন। পাখি আহত হতে পারে এমন জিনিস খাঁচা থেকে দুরে রাখুন। আর এই পন্থাগুলো অবলম্বন করলে এইশীতকালে আমাদের আদরের পাখিগুলো সঠিক যতœ পাবে বলে আশাকরা যায়।

আত্মবিশ্বাস বাড়ায় পোষা পাখি
পোষা প্রাণী মানুষের সুখ ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। হোক কুকুর, বিড়াল কিংবা খরগোশ এরা ছোট, বড় বা প্রবীণ সবারই বিশ্বাসী বন্ধু। পোষা প্রাণী ছোটদের যেমন দায়িত্ব নিতে শেখায়ও আত্মবিশ্বাসী করে, প্রবীণর তেমনি রাখে ‘ফিট’। শিশুদের জন্য পোষাপ্রাণী অনেক শিশু অস্থির বা অশান্ত প্রকৃতির হয়, লেখা পড়ায় মন বসে না বা অন্য কিছুতেও তেমন আগ্রহ নেই তাদের। এসবক্ষেত্রে শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুকে যে কোনো একটি পোষা প্রাণী দিন। দেখবেন তাকেযতœ, খাওয়া-দাওয়া, বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া এ সব করার মধ্য দিয়ে সে দায়িত্বশীল হয়েউঠবে। দায়িত্ববোধ থেকেই বাড়বে মানুষের আত্মবিশ্বাস। তাই পোষ্য থাকলে তাদের দেখাশোনা করতে করতে পড়াশোনা খেলাধুলাতেও ভালো করবে শিশুরা।

পোষাপাখির গায়ের পোকা
পাখির শরীরে এক ধরনের পোকা হয়। এটা পাখি ছাড়াও পরিবারের সবার জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য। পাখির শরীরে পোকার আক্রমণ হলে বিচলিত না হয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতেই তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পাখি খাঁচা থেকে সরিয়ে খাঁচাটি ভালোভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর নিমপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে আরেকবার ভালো করে ধুয়ে কড়ারোদে শুকাতে হবে। প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার এভাবে পাখির খাঁচার যত্ন করতে হবে। প্রতিদিন খাঁচার ট্রে, খাবারের বাটি, পানির পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। পাখিদের নিমপাতা সেদ্ধ করা পানিতে গোসল করতে দিন।
পোকা দূর করতে নিমের দ্রবণ দিয়েটানা ৭-১০ দিন গোসল করাবেন। গোসলের পর অবশ্যই কিছুক্ষণ রোদে রাখবেন শরীর না শুকানো পর্যন্ত। পাখির খাঁচায় বসার লাঠি (perch)পরিবর্তন করে তাজা নিমের ডাল ব্যবহার করতে হবে। নিমের ডালের পাঁচ জীবাণু নাশক/পোকা নাশক হিসেবে কাজ করে। পাখির চামড়া, পালক ও ঠোঁট সুস্থ রাখে, পাখির বসতে সবিধা হয়, ঠাণ্ডায়/শীতকালে পাখির শরীর গরম রাখে, ব্রিডিংয়ের সময়মেটিং সফল হতে ও ডিম ফার্টাইল হতে সাহায্য করে। নিমের দ্রবণ তৈরির নিয়ম: ১০টি নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে ১ লিটার পরিমাণ ফুটন্ত গরম পানিতে ছেড়ে দিন। এরপরে পাত্রটি ঢাকানা দিয়ে ঢেকে ১৫-২০ মিনিট ধরে হালকা আঁচে সিদ্ধ করুন। পানির রং হালকাসবুজাভ বাদামি হলে পাত্রটি চুলা থেকে নামিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ঠাণ্ডা হতে দিন। পাখিকে গোসলের জন্য এই পানিটা গোসলেরপাত্রে অথবা পাখির গায়ে স্প্রে করে দিতে পারেন।

পাখির নিরাপদ খাবার পানি
পাখিকে অবশ্যই নিরাপদ পানি পান করতে দিবেন। ফুটানো পানিকে ফিল্টার দ্বারা ছেঁকে নিবেন তার পর তা পাখিকে পান করতে দিবেন। খোলা পাত্রে পানি দিবেন না। পানির ফিডারে পানি দিবেন। প্রতিদিন লবণ মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে পানির ফিডার পরিষ্কার করুন। কেন ওয়াটার ফিডার ব্যবহার করবেন? এতে পানি থাকে নিরাপদ। খোলা পাত্রে পানি দিলে পাখি তাতে পুপু (পায়খানা) করে, সেই পানি আবার পাখি পান করে ফলে পাখির পেট খারাপ হয় কিন্তু ওয়াটার ফিডারে তা হয় না। পানির ফিডারে পানির তাপমাত্রা অক্ষণ্য থাকে অনেক ক্ষণ তাই শীতের সকালে আপনি যদি একটু কুসুম গরম পানি ফিডারে দেন তা অনেক্ষণ গরম থাকবে এবং আপনার পাখি আরাম করে পানি খেতে পারবে।

লাভবার্ড
পৃথিবীতে মাদাগাসকার, রেড ফেইস, অ্যাবসিনা, সুইনডারন্স, পিস ফেস, হায়াসা, বাকচেক্টড, ফিসারস, মাসকড- এই নয় ধরনের লাভবার্ড থাকলেও আমাদের দেশে তিন-চারধরনের লাভবার্ডই বেশি পাওয়া যায়। লাভবার্ড হচ্ছে টিয়া পাখির ছোট্টরূপ। এরা টিয়া পাখির মতো সবুজ শরীরের অধিকারী হলেও মাথার কাছে থাকে হরেক রকমের রং। এই পাখিগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে এরা যাকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয় সব-সময় তার আশপাশেই থাকে। আর এ কারণেই একে ভালোবাসার প্রতীক বা লাভবার্ড বলা হয়। লাভবার্ড পাখির ছেলে ও মেয়ে চেনার সহজ উপায় হলো পুরুষ পাখির ঠোঁটের উপরে নাকের দিকে নীল রং থাকে এবং মহিলার থাকবে বাদামি রং। লাভবার্ডের একটি জোড়া বিক্রি করা হয় ৪০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

পাখির জন্য খরচ
পাখি খুবই সুন্দর একটি প্রাণী যা যে কোনো গৃহে প্রাণচাঞ্চল্য ও আনন্দ বয়ে আনতে পারে। শিশুরা এদের খৃব ভালোবাসে এবং কিছু পাখি আছে বেশ মজার, যেমন-তোতা। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি কিনতে পাওয়া যায়, যেমন- লরিকিট, প্যারাকিট, ম্যাকাও, কাকাতুয়া, গ্রে প্যারট এবং অ্যামাজন প্যারট। পাখি কেনার পূর্বে আপনাকে বুঝতে হবে, এই অসম্ভব সুন্দর প্রাণীদের পোষাতে হলে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেহেতু এটাই আপনার প্রথম পাখি পোষা, সেহেতু আপনাকে সঠিক পাখি বেছে নিতে ও পরবর্তীতে তাকে প্রশিক্ষণের জন্য অনেক ধৈর্যশীল হতে হবে। নিচের বিষয়গুলো জানা থাকলে তা আপনার অনেক কাজে আসবে- খরচ আপনার ভুলে গেলে চলবে না যেপাখি পোষারও খরচ আছে। এটা শুধু পাখি কেনার খরচই না, বরং পাখির জন্য খাঁচা, খাবার, সরঞ্জাম, এবং খেলনা কেনারও খরচ রয়েছে। পাখি কিনতে গিয়ে আপনার খরচের সীমাবদ্ধতার কথাচিন্তা করলে চলবে না। পাখি আকারে বড় হলে তার জন্য বড় খাঁচার দরকার হবে এবং বেশি যতেœর প্রয়োজন। ছোটপাখি সহজেই রাখা যায়। টাকার জন্য কখনো গুণগতমান বিসর্জন দেবেন না। সস্তায় পেয়ে কখনই অসুস্থও খারাপ জাতের পাখি কিনবেন না। সবসময় স্বাস্থ্য ভালো দেখে পাখি কিনবেন, কারণ এটা কার্পণ্য করার জায়গা না।

পাখি ক্রয় করা
একটি ব্যাপার মনে রাখবেন, বাড়িতে নেয়ার আগে দেখে নেবেন যেতা উইনিং (weaning) করা কিনা বা বাইরের খাবার খায় কিনা। তা না হলে আপনার পাখিটি খেয়ালিপনা করবে। উইনিং করা পাখি (Weaned Bird) কিছু মানুষ ও ব্রিডারের মতে, পাখি ও এর মালিকের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হয় যখন পাখিটি উইনিং করা না থাকে। আবার, অনেক বিক্রেতা হাতে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অনীহার কারণে উইনিং না করা পাখি (un-weaned) বিক্রি করতে চান। আপনি যখন অনলাইনে পাখির তালিকা দেখবেন, তখন আপনার উচিত হবে উইনিং করা পাখি (weaned) পছন্দকরা। পাখির খাবার তৈরি করা ওঠিকভাবে হাতে খাওয়াতে অনেক কারিগরি জ্ঞান ও সময়ের প্রয়োজন। আপনার যদি এ দুটো না থাকে তবে এটা আপনার নিজের করা উচিত নয়। অনলাইনে পাখি কেনার সময় ‘উইন্ড’(‘weaned’) এবং ‘হ্যান্ডফেড’ (‘handfed’) শব্দ দুটো দেখে পাখি কিনবেন। আপনি পোষা পাখি খুঁজতে গেলে অনেক অনাকাক্সিক্ষত বিষয় দেখতে পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে সব সময় বাচ্চা পাখি খুঁজে না পাওয়া। মাঝে-মধ্যে, আপনি বয়স্ক পাখি খুঁজে পাবেন। মূল যে বিষয়টিজানা প্রয়োজন তাহলো, বয়স্ক প্রাণীগুলো পোষ মানানো অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে, এগুলো যদি প্রশিক্ষিত না হয়ে থাকে তবে এদের সামাজিক ও আদুরে হিসেবে তৈরি করা যাবে না। যদি পাখির সঙ্গে এক ধরনের বন্ধন গড়ে তুলতে চান, তবে আপনাকে অনেক ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে, বিশেষ করে সেটি যদি তার আগের মালিকের সঙ্গে ভালোভাবে জুটি বেঁধে থাকে। একটি পাখি তার নতুন মালিককে বিশ্বাস করতে অনেক সময় লাগে এবং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। পাখির খাঁচা- পাখির খাঁচার আকার পাখির চাইতে অনেক বড় হওয়া প্রয়োজন, কেননা পাখিটিকে খাঁচার মধ্যে চলাচল করতে হবে। এটাই পাখির একমাত্র ব্যায়াম। তাই যখন আপনি খাঁচা কিনবেন তখন সবচেয়ে বড় খাঁচাটি কিনবেন। খাঁচার কাঠিগুলোর মধ্যে ফাঁকা জায়গা সঠিক মাপের হতে হবে। কাঠির ফাঁকা জায়গা ভুল মাপের হলে তা পাখির জন্য শুধু অস্বস্তি করই হবে না, বরং তাতে পাখিটি মারাত্মকভাবে আহত হতে পারে। আড়া-আড়ি সজ্জার খাঁচা তোঁতা পাখির জন্য বেশ প্রচলিত, কারণ এর খাঁচার পাশ বেয়ে উপরে উঠতে পছন্দ করে। ছোট পাখিদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি খাঁচার প্রয়োজন নেই কিন্তু এগুলোর খাঁচা উঁচু হওয়া প্রয়োজন। সহজে পরিষ্কার করার জন্য খাঁচার নিচে টেনে বের করা যায় এমন ট্রে থাকলে ভালো।

পাখি কেনার পরামর্শ
যদি সম্ভব হয়, পাখি কেনার পূর্বে তা একজন পশু চিকিৎসককে দেখিয়ে নিন। যদি পারেন, পাখিটির বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলুন এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করুন। পাখিটির যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে তা ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ রাখবেন। পাখির লিঙ্গ, ব্যান্ড নাম্বার এবং ডিম ফুটে বের হওয়ার তারিখ (hatchdate) জেনে নেবেন। বিক্রয় ও ফেরতের শর্তগুলোও জেনে নেবেন। আমদানিকৃত পাখির ক্ষেত্রে, কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা দেখে নিন। উপরের পরামর্শগুলো মেনে চললে আপনি সম্ভাব্য সেরা পাখিটিই কিনতে পারবেন।