পাহাড়চূড়ায় তারা জ্বলন্ত উদাহরণ

নিশাত মজুমদার: যিনি প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ১৯ মে শনিবার সকাল নয়টা ৩০ মিনিটে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন। নিশাত মজুমদারের জš§ ১৯৮১ সালের ৫ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরে। তার বাবার নাম আবদুল মান্নান মজুমদার। তিনি ব্যবসায়ী। তার মায়ের নাম আশুরা মজুমদার। এ দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে নিশাত মজুমদার দ্বিতীয়। তিনি ১৯৯৭ সালে ঢাকার ফার্মগেটের বটমূলী হোম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৯৯ সালে শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। নিশাত মজুমদার ঢাকা ওয়াসার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার ২০০৩ সালে এভারেস্ট বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া (৩,১৭২ ফুট) কেওক্রাডং জয় করেন।
ওয়াসফিয়া নাজরীন: সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশি এবং দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট বিজয়ী ওয়াসফিয়া নাজরীন। তার জš§ ২৭ অক্টোবর, ১৯৮২ সাল। তিনি এখনো পর্যন্ত সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশি এবং দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ২৬ মে শনিবার সকাল পৌনে ৭টায় বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন। ওয়াসফিয়ার জš§ ঢাকায়, দাদার বাড়ি ফেনী জেলায়। এরপর তার পরিবার যান খুলনায়। পাঁচ বছর বয়সে চলে যান চট্টগ্রামে। সেখানেই পাহাড়ের সঙ্গে তার সখ্য শুরু হয়। ও
অরুনিমা সিনহা
১৯৮৮ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশে জš§ অরুনিমা সিনহার। ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন। ২০১১ সালের এপ্রিলে ট্রেনে চড়ে দিল্লি যাচ্ছিলেন। এমন সময় ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হন তিনি। পরবর্তীতে তিনি যখন তাদের প্রতিহত করতে যান, ডাকাত দল তাকে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন এবং তার এক পা হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু তার ইচ্ছাছিল মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার। তার এক পা কেটে ফেলা একটা বাধা হলেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে একে মোকাবিলা করেন। তিনি তার অদম্য ইচ্ছার বলে ২০১৩ সালের ২১ মে এভারেস্ট জয় করেন।
তামে ওয়াতানাবে
জাপানি এই নাগরিক সবচেয়ে বেশি বয়সে এসে এভারেস্ট জয় করেছেন। তিনি ৭৩ বছর বয়সে এভারেস্টে ওঠেন। তিনি নিজেই নিজের রেকর্ড ভঙ্গ করেন, যা তিনি ২০০২ সালে গড়েন। তিনি তার ক্যারিয়ার শুরু করেন পর্বতারোহী হিসেবে যখন তার বয়স ২৮ বছর। তিনি এভারেস্টের পাশাপাশি ম্যাক কিনলি পর্বত, কিলিমাঞ্জারো, ব্ল্যাংক জয় করেন। তিনি বলেন, ‘এখনকার তরুণরা যদি প্রাকৃতিক এসব ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় তবে তারা বুঝতে পারবে যে আমরা যদি এখন পরিবেশ দূষণ করি তবে পরবর্তী প্রজš§ কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং এতে তারা সচেতন হবে।’
তাসি এবং নুংশি মালিক
তাসি এবং নুংশি মালিক, যমজ বোনদের অ্যাডভেঞ্চারের গল্প শুনে আপনারও গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবে। তারা প্রথম যমজ হিসেবে মাত্র ২১ বছর বয়সে এভারেস্ট জয় করে রেকর্ড গড়েন। ভারতের হরিয়ানা অঞ্চলের এই দুই বোনের পর্বতারোহণের প্রতি আগ্রহ জš§ায় তাদের অবসরপ্রাপ্ত আর্মি বাবা থেকে।
জুনকো তাবেই
আজ থেকে ৪১ বছর আগে সর্বপ্রথম নারী পর্বতারোহী হিসেবে জুনকো তাবেই ১৬ মে ১৯৭৫ সালে এভারেস্ট জয়লাভ করেন। তিনি এই রেকর্ড সেই সময় গড়ে তোলেন যখন সমাজ অনেক পিছিয়ে ছিল, যখন মনে করা হতো পর্বতারোহণ করা কেবল ছেলেদের কাজ। তিনি বলেন, ‘১৯৭০ সালের দিকে জাপানের নাগরিকদের ধারণা অনেক পুরনো ধাঁচের ছিল, তারা মনে করত বাইরের কাজ কেবল পুরুষরা করবে আর ঘরের কাজ মেয়েরা।’
গারলিন্ডে কাল্টেনব্রুনার
অস্ট্রিয়ার এই নারী পর্বতারোহীর পাহাড়ে চড়ার শখ ছোটবেলা থেকেই। তিনি যখন প্রথম ২০২৮ মিটার উচ্চতার ‘স্টুরজান’ শৃঙ্গ জয় করেন তখন তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। পরবর্তীতে যখন ২০০৩ সালে তিনি নাংগা পর্বত জয় করেন তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি পেশা হিসেবে পর্বতারোহণ করাকেই বেছে নেবেন। ২০১২ সালে তিনি সম্মানসূচক ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হন।
জাহ্নভি শ্রী পেরামবুদুরু
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এল্ব্রাস জয় লাভ করেন তিনি। সবচেয়ে কম বয়সে এত উঁচু শৃঙ্গ জয় লাভ করা প্রথম নারী তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি শৃঙ্গ জয়লাভ করেন। তিনি একজন পর্বতারোহী হওয়ার পাশাপাশি মোটিভেশনাল স্পিকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
সিসিলি সøগ
২০০৪ সালে এভারেস্ট জয়লাভের পর থেকে নরওয়ে এর এই পর্বতারোহী একজন পেশাদার গাইড এবং অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিই সর্বপ্রথম নারী যিনি সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলো জয় করেছেন। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে তিনি সফলভাবে এন্টার্টিকা পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি নৌযানের মতো আরো খেলাধুলার প্রতি তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। – নারী ডেস্ক