পাশবিক নির্যাতনের পর শিশুকে তিনতলা থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ

রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় আয়েশা (৩) নামে তিন বছরের এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতন করে তিনতলা থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. নাহিদ (৪৫) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। রোববার নিহত শিশুর পিতা ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে গেণ্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সোমবার দুপুরে দীননাথ সেন রোডের এলাকাবাসী আসামিকে গ্রেফতারের দাবিতে গেণ্ডারিয়া থানা ঘেরাও করে। এর আগে নাহিদের বিচারের দাবিতে গত রোববার দুপুরে এলাকাবাসী গেণ্ডারিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকত আয়েশা। আয়েশার বাবা মো. ইদ্রিস ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেন। মা রাজিয়া সুলতানা এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। তাদের চার মেয়ের মধ্যে আয়েশা দ্বিতীয়। বাবা-মা কাজে গেলে আয়েশা ওই গলিতে খেলাধুলা করত। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে টিনশেড বস্তির পাশের চার তলা বাড়ির সামনে আয়েশার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে আয়েশার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্তের পর গত রোববার জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

গেণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনার পর আয়েশাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণার পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্তের পর রোববার জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। উদ্ধারের সময় আয়েশার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে আয়েশার শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে।

তিনি আরো বলেন, মামলার বাদী ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে ওই বাড়ি থেকে নাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। নাহিদ পুরান ঢাকার ইসলামপুরে ব্যবসা করতেন। তবে বর্তমানে তিনি ব্যবসা করেন না। দীননাথ সেন রোডে নিজের চার তলা বাড়ির ভাড়ার টাকায় তার সংসার চলে। নাহিদ উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির মানুষ। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি ফের বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী নাহিদের সংসার ছেড়ে চলে গেছেন। তাকে কিছুটা হলেও মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়।

ঢামেক হাসপাতালে আয়েশার মামা মো. আলী সাংবাদিকদের বলেন, আয়েশাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছেন ৫৩/১জ দীননাথ সেন রোডের চার তলা বাড়ির মালিক নাহিদ। তিনি ভবনের তিন তলায় থাকেন। আয়েশা বিকেলে যখন খেলছিল, তখন তাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান নাহিদ। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে ফ্ল্যাটের খোলা বারান্দা থেকে আয়েশাকে নিচে ফেলে দেন নাহিদ। তবে এসব বিষয় তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন বলে দাবি করেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ