পানি কমলে প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
শরীয়তপুরের নড়িয়ার পদ্মা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সুরেশ্বর লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মুলফৎগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা স্পিডবোট যোগে তিনি ঘুরে দেখেন। পরে মন্ত্রী সুরেশ্বর লঞ্চঘাট এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সাংবাদিকদের তিনি জানান, নড়িয়া-জাজিরার পদ্মা নদীর ডান তীরের ৯ কিলেমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধ রক্ষা প্রকল্পের জন্য ১০৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ তত্ত্বাবধানের কারণে এত বড় অংকের টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকায় চলে এসেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ভাঙন কবলিত এলাকাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার সুযোগ নেই। তবে ইতিমধ্যে ২৮টি আশ্রয় কেন্দ্র ভাঙন কবলিতদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভাঙন কবলিত সব পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল দেয়া হয়েছে। আর পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে টিন ও নগদ টাকা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশাপাশি চর ড্রেজিং করে তীর হতে সে াত মাঝ নদীতে নেয়া হবে। প্রকল্পের কাজ কেন দেরি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একটু সময় লেগেছে। এরপর ঠিকাদারদের সাথে প্রতিষ্ঠানের সাথে দর কষাকষি করতে আরেকটু সময় চলে গেছে। এখন প্রকল্পের কাজ যে কোনো সময় শুরু করা হবে। বন্যার কোনো সম্ভবনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, নদী মাতৃক দেশ বাংলাদেশ। এখানে প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হচ্ছে। আল্লাহর রহমত থাকলে এ বছর কোনো বন্যা হবে না। তবে পানির চাপ একটু বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, মহিলা আসনের এমপি নাভানা আক্তার, পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক খালেকুজ্জান, জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের, পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, সিভিল সার্জন মো. খলিলুর রহমান, পাউবোর শরীয়রতপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াছমিন, নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাঢ়ি, নড়িয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ব্যাপারী প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত তিন মাসের ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর, কেদারপুর ও ঘরিসার ইউনিয়ন ও পৌরসভার ২ নম্বর ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আটটি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। অব্যাহত পদ্মার ভাঙনে প্রতিদিনই গিলে খাচ্ছে নড়িয়া এলাকার সরকারি বেসরকারি ভবন ও মুলফৎগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বহু লোকের সাজানো গোছানো ঘরবাড়ি।