পানিতে ডুবে ৩ জেলায় সহোদরসহ ৭ শিশুর মৃত্যু

মানবকণ্ঠ ডেস্ক:
কিশোরগঞ্জ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও জামালপুরে পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার ও গত শনিবার এসব দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এরমধ্যে কিশোরগঞ্জে সহোদরসহ ৫ শিশু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক শিশু ও জামালপুরে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ ও বাজিতপুরে একই দিনে পানিতে ডুবে জোনাকী (৯), চাঁদনী (৭) ও সাফায়েত উল্লাহ (৪) নামে তিন সহোদরসহ মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার দুপুরের প্রায় একই সময়ে করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়নের উত্তর আশতকা গ্রামে এবং বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে এসব দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। সবার অগোচরে ডোবার পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার পর তিন সহোদর জোনাকী, চাঁদনী ও সাফায়েত উল্লাহর লাশ গতকাল ভোর ৬টার দিকে ভেসে ওঠে।
অন্যদিকে গত শনিবার দুপুরেই বাজিতপুরের কামালপুরের গ্রামের একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় দুই শিশু প্রিয়ামণি (৪) ও রিফাতুল ইসলামকে (৫) উদ্ধারের পর বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই দুই শিশুর মধ্যে প্রিয়ামণি কামালপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের মেয়ে এবং রিফাতুল ইসলাম একই গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার দুপুরে সবার অগোচরে ডোবার পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার পর গতকাল ভোর ৬টার দিকে তিন সহোদর জোনাকী, চাঁদনী ও সাফায়েত উল্লাহর লাশ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে স্বজনরা লাশ উদ্ধার করেন। উপজেলার গুনধর ইউনিয়নের উত্তর আশতকা গ্রামের পরশ আলীর বাড়ি সংলগ্ন ডোবা থেকে এই তিন সহোদরের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরশ আলী নিহত তিন সহোদরের খালু।
নিহত তিন শিশু একই উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের ভাটিয়া গাংপাড়ার পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের সন্তান। তাদের মধ্যে জোনাকী দ্বিতীয় শ্রেণি এবং চাঁদনী প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
পারিবারিক সূত্র জানায়, হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী জোৎস্না আক্তার শিশু সন্তানদের সাথে নিয়ে দুই দিন আগে তার বড় বোন আছমা আক্তারের উত্তর আশতকা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। বড় খালার বাড়িতে বেড়ানোর সময় খেলা করতে গিয়ে গত শনিবার দুপুরের দিকে তিন ভাই-বোন সবার অগোচরে ডোবার পানিতে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যায়। তাদের কোন খোঁজ না পেয়ে তিন শিশু পানিতে পড়ে থাকতে পারে, এ ধারণা থেকে স্বজনেরা দুপুর থেকেই আশপাশের পুকুর, বাড়ি সংলগ্ন বর্ষার পানি ও নদীতে জাল ফেলে তাদের খোঁজে তৎপরতা চালান। তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মাইকিংও করানো হয়। কিন্তু এই তিন শিশুর কোন খোঁজ মিলেনি। গতকাল ভোর ৬টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে তাদের লাশ ভেসে ওঠলে স্বজনেরা উদ্ধার করেন। তিন ভাই-বোনের মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরশ আলীর বাড়িতে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। কান্না আর আহাজারিতে ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। বাবা হেলাল উদ্দিন, মা জোৎস্না আক্তারসহ স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।
এদিকে খবর পেয়ে গুনধর ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল সাকির নূরু সিকদার এবং দেহুন্দা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সঞ্জু ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন শিশুর লাশ দাফনের জন্য ভাটিয়া গাংপাড়া গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। পরে ভাটিয়া গাংপাড়া গ্রামের বাড়িতে তাদের লাশ দাফন করা হয়।
অন্যদিকে বাজিতপুরের কামালপুর গ্রামের বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে গত শনিবার দুপুরে দুই শিশু প্রিয়ামণি ও রিফাতুল ইসলাম পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে ডুবে যায়। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরে দুই শিশুকে ভাসতে দেখে। পরে তাদের উদ্ধার করে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রা??হ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে পানিতে ডুবে মো. ইমরান (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার শিবপুর গ্রামের আনিছুল হক অপুর পুত্র। গতকাল রোববার দুপুরের দিকে এ ঘটনা সংঘটিত হয়।
শিশু ইমরান বাড়ির লোকজনের অগোচরে পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ে খেলা করার সময় পানিতে পরে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা ঘটনা টের পেলে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথি মধ্য সে মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর): জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পুকুরের পানিতে ডুবে নয়ন ইসলাম (৮) নামে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়–য়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পুঠিয়ারপাড় গ্রামে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দরিদ্র কৃষক আল-আমিনের ছেলে নয়ন ইসলাম গত শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।