পাক-ভারত সীমান্তে তুমুল গোলাগুলি

জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় নতুন করে ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জম্মু ও কাশ্মিরের সীমান্তবর্তী শহর রাজৌরির কাছে দুই দেশের মধ্যে অস্ত্রযুদ্ধ হয়। ভারতীয় প্রতিরক্ষাসূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাদের গোলা হামলা প্রতিহত করতেই ভারত পাল্টা গুলি ছুড়েছে। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে এ ব্যাপারে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে রাজৌরি ও পুঁচ জেলার নিয়ন্ত্রণরেখায় থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে সব স্কুল এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত সুন্দেরবানি সেক্টরে দুই পক্ষের গোলাগুলি হয়। এ ব্যাপারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবেন্দর আনন্দ হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘পাকিস্তান তাদের অন্যায় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং একদিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে। সকাল সাড়ে দশটার দিকে নওশেরা ও সুন্দেরবেনি সেক্টরের নিয়ন্ত্রণরেখায় তারা (পাকিস্তান গোলাবারুদ নিক্ষেপ এবং ছোটখাটো অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছে। ভারতীয় বাহিনী কঠোর ও কার্যকরভাবে এর জবাব দিচ্ছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক সিআরপিএফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে। এর পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এ ঘটনার ১২ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারত। এর পরদিন দুই দেশের সেনাদের মধ্যে কাশ্মীর সীমান্তে গোলা ও গুলিবিনিময় হয়। আকাশযুদ্ধে ভারত হারায় দুটি যুদ্ধবিমান। তখনই পাকিস্তান বাহিনীর হাতে বন্দী হন ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলমান থাকা অবস্থাতেই গত ১ মার্চ আটক পাইলট অভিনন্দনকে মুক্তি দেয় ইসলামাবাদ। এদিন বিকাল থেকেই সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পরস্পরকে লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ শুরু করে দুই দেশের সেনাবাহিনী।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ