পাকিস্তানের জালে বঙ্গকন্যাদের ১৪ গোল

পাকিস্তানের জালে বঙ্গকন্যাদের ১৪ গোলপাকিস্তানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে থিম্পুর আকাশে রূপকথা ফিরিয়ে আনলো বাংলাদেশের মেয়েরা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিদের জালে ১৪ গোল দিয়ে অনন্য ইতিহাস গড়লো মারিয়া মান্দা বাহিনী। বাংলাদেশ মেয়েরা ৯০ মিনিটের খেলায় প্রতি ৬.৫ মিনিটে একটি করে গোল করেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে শুরু হয় ম্যাচটি। ম্যাচের শুরু থেকে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণে সফলতা পেতেও সময় লাগেনি।

প্রথমার্ধেই এক এক করে ৬-০ গোলে এগিয়ে যায় মারিয়া মান্দারা। বড় ব্যবধান নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করতে এসে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠে বাংলাদেশ। মাত্র ৬০ মিনিটের মাথায় পাকিস্তানকে ১২ গোল দিয়ে উল্লাসে ভাসে মেয়েরা।

দলের পক্ষে শামসুন্নাহার একাই করেছেন ৫ গোল। এছাড়া তহুরা খাতুন, সাজেদা খাতুন ও আনাই মোগিনি দুটি করে গোল করেন। একটি করে গোল পান মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা ও আঁখি খাতুন। গেলবার নেপালের জালে ৬ গোল দিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল মেয়েরা। এবার সেই সুখস্মৃতিকে আরও শাণিত করলো পাকিস্তানকে ১৪ গোল দিয়ে। বিপরীতে অক্ষত রেখেছে নিজেদের রক্ষণদূর্গ।

এর পর একের পর এক আক্রমণে বেসামাল হয়ে উঠে পাকিস্তানের রক্ষণ দূর্গ। দূরপাল্লার শটে গোলের অনেক সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। কিন্তু ১২ গোল হজম করে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে উঠে পাকিস্তান।

তবে সেই দেয়ালও ভেঙে ফেলে বাংলাদেশ। ৮৮ মিনিটের সময় ১৩তম ও ৯০ মিনিটে ১৪তম গোল করে দলের জয়কে আরও স্মরণীয় করে রাখে বাংলাদেশের মেয়েরা।

এদিন ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটেই তহুরা খাতুনের গোলে লিড পায় বাংলাদেশ। এরপর ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মনিকা চাকমা। ১৯ মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্যবধান ৩-০ করেন তহুরা খাতুন। পুরো ম্যাচে গোল উৎসবে ভাসা বাংলাদেশের মেয়েরা ৩১ মিনিটে শামসুন্নাহারের গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ম্যাচের ৩৯ মিনিটে মারিয়া মান্দার পা থেকে আসে দলের পঞ্চম গোল। ৪০ মিনিটের মাথায় আঁখি খাতুনের গোলে প্রথমার্ধে ৬-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও ক্ষুরধার বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ নারীরা। দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটেই গোল করেন সাজেদা খাতুন। এরপরের তিন গোলই আসে শামসুন্নাহারের পা থেকে। ৩১ মিনিটে প্রথম গোলের পর ৫৭ মিনিটের মধ্যে ৪ গোল বসে শামসুন্নাহারের নামের পাশে। তিনি ৫০ মিনিটে দলের অষ্টম গোল করেন। ৫৪ এবং ৫৭ মিনিটে নবম এবং দশম গোলও করেন শামসুন্নাহার।

এরপর ৫৮ মিনিটে বাংলাদেশ মেয়েরা ব্যবধান ১১-০ করে। তার দুই মিনিট পরে আনাই মোগিনির গোলে ১২-০ গোলের লিড নেয় মেয়েরা। পাকিস্তানের অবস্থা তখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। কিন্তু ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কোন রেহায় নেই সেই পণ করেই নেমেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েরা।

৮৮ মিনিটে মোগিনির দ্বিতীয় গোলে ১৩-০ ব্যবধানের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৯০ মিনিটে নিজের পঞ্চম এবং দলের ১৪তম গোল করে থিম্পুর আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে জয়োল্লাসে মাতে বঙ্গকন্যারা।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ আধিপত্য দেখিয়েই শুরু করলো এবারের আসর। যেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪-০ গোলের জয়টি সেমিফাইনালের পথে মারিয়া মান্দাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

মানবকণ্ঠ/ডিএইচ