পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না রোহিত শর্মার ভারত

ক্রীড়া ডেস্ক :
ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই উত্তেজনায় ঠাসা এক ম্যাচ। ক্রিকেটের ময়দানে জমজমাট এক লড়াইয়ের দিন। কিন্তু কোথায় কি? এশিয়া কাপে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে রোহিত শর্মার ভারত। তাদের কাছে পাত্তাই পায়নি পাকিস্তান। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ১৬২ রানের বাধা ৮ উইকেট এবং ২১ ওভার হাতে রেখে অনায়াসেই টপকে যায় রবি শাস্ত্রীর দল।
দুবাইয়ে মূলত প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। ভারতীয় বোলারদের বোলিং তোপে মুখ থুবড়ে পড়া পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের সামান্য পুঁজি নিয়ে লড়ার কোনো সুযোগই পায়নি মিকি আর্থারের বোলিংভাগ। তাদের কাজ আরো কঠিন করে দেয় রোহিতের ব্যাটিং তাণ্ডব। ৩৬ বলে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম হাফসেঞ্চুরি।
রোহিতকে যোগ্য সঙ্গ দেন শিখর ধাওয়ান। উদ্বোধনী জুটিতে তারা দলের খাতায় যোগ করেন ৮৬ রান। যদিও শাদাব খানের বলে রোহিত (৫২) আউট হওয়ার কিছু সময় পর সাজঘরে ফেরেন ধাওয়ান। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফাহিম আশরাফের শিকার বনেন তিনি। তাতে অবশ্য বিপদ বাড়েনি ভারতের। ৬০ রানের জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান আম্বতি রাইধু (৩১) এবং দিনেশ কার্তিক (৩১)।
এর আগে দুবাইয়ে ম্যাচ শুরুতেই বল হাতে জ্বলে উঠেন ভুবনেশ্বর কুমার। নিজের প্রথম তিন ওভারেই পাকিস্তানের দুই ওপেনার ইমাম উল হক এবং ফখর জামানকে মাঠ ছাড়া করেন তিনি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে দারুণ এক সুইংয়ে পরাস্ত করেন ইমামকে (২)। আরেক ওপেনার ফখর ইমামের পিছু ধরেন রানের খাতা খোলার আগেই। এতে মাত্র ৩ রানেই ২ উইকেট খুইয়ে বসে পাকিস্তান।
শুরুর জোড়া ধাক্কা সামলে নেন বাবর আজম এবং শোয়েব মালিক। এই দুই ব্যাটসম্যানের জুটিতে পাকিস্তানের রানের চাকা ধীরগতিতে চললেও সঠিক পথে ছিল দল। কিন্তু কুলদীপ যাদবের প্রহারে তাদের সেই পথচলাটা থমকে যায় ২২তম ওভারে। কুলদীপের ঘূর্ণি জাদুতে বাবর বোল্ড হলে ভাঙে পাকিস্তানের ৮২ রানের জুটি। তবে সাজঘরে ফেরার আগে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন বাবর।
বাবর আউট হওয়ার পরই পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন মিশে যায় মাটির সঙ্গে। দ্রুত ৩ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন কেদার যাদব। দুই অঙ্কের রান স্পর্শের আগেই ভারতীয় অফস্পিনারের ছোবলে কাটা পড়েন সরফরাজ (৬), আসিফ আলী (৯) এবং শাদাব খান (৮)। শুরুটা করেন সরফরাজকে দিয়ে। নিজের পরের ওভারেই আসিফকে বানান দ্বিতীয় শিকার।
আর নিজের ভুলে সাজঘরে ফেরেন শাদাব। কেদারের ঘূর্ণি বল ডাউন দ্য উইকেট খেলতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। এরই মাঝে মালিক (৪৩) রান আউট হলে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১২১ রান। এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন আশরাফ এবং মোহাম্মদ আমির। তবে বুমরাহ পেসে সেটাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
আশরাফকে (২১) আউট করে বুমরাহ ভাঙেন তাদের ৩৭ রানের জুটি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৫৮ রান। কিন্তু শেষ দুই উইকেটে দলের খাতায় মাত্র ৪ রানই যোগ করতে পারে তারা। ভুবনেশ্বর কুমারের ছোবলে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফেরেন হাসান আলী। আর ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলেই উমসান খান বুমরাহর বলে বোল্ড হলে ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।