পশুপালক ও কৃষকদের সংঘাতে নাইজেরিয়ায় নিহত ৮৬

মানবকণ্ঠ ডেস্ক:
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে গোষ্ঠীগত সংঘর্ষে অন্তত ৮৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় বেরোম গোষ্ঠীর কৃষকরা পশুপালক ফুলানি গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করে। এর বদলা নিতে শনিবার পাল্টা হামলা হলে আরো বহু মানুষের মৃত্যু হয়। প্লাটো রাজ্যের পুলিশ কমিশনার উনদি আদি জানান, সহিংসতার পর গ্রামে গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে ৮৬ জন নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন তারা। এই সংঘাতের মধ্যে অন্তত ৫০টি বাড়ি, ১৫টি মোটরসাইকেল ও দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্লাটো রাজ্যের তিন জায়গায় কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রিয়ম, বারিকিন লাদি ও জস সাউথ এলাকায় এই কারফিউ বলবত থাকবে। বিবিসি বলেছে, নাইজেরিয়ার ওই অঞ্চলে জমি নিয়ে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বহুদিনের। তবে সম্প্রতি এই সহিংসতা সাম্প্রদায়িক সংঘাতের রূপ পেয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে কেবল ২০১৭ সালেই সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ গেছে। আধা যাযাবর পশুপালক গোষ্ঠী ফুলানিরা মূলত মুসলমান। অন্যদিকে নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে বসতি গড়া বেরোম কৃষকরা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। ভূমির অধিকার ও পশু চড়ানো নিয়ে এ দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব^ কেন সাম্প্রতিক ধর্মীয় সহিংসতার দিকে মোড় নিচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য লিবিয়া থেকে অবৈধ অস্ত্র আসার বিষয়টিকে দায়ী করে আসছেন।
আবার অনেকে বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের সামলাতে ব্যস্ত থাকায় গোষ্ঠী সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। রাজ্যের গভর্নর সিমন লালং বলেছেন, ওই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। সংঘাতের পেছনে কারা উসকানি দিচ্ছে, তাদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।