পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে নতুন এডিসি পদ সৃষ্টি হচ্ছে

দেশে পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে জেলা প্রশাসনে নতুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (এডিসি) পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পর্যটন খ্যাত জেলাগুলোতে এ পদ করা হবে, যাতে পর্যটকদের সেবার মান বাড়ে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সরকার পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও পর্যটকদের সেবার মানোন্নয়নে দৃষ্টি দিয়েছে। এ কারণে দেশের পর্যটনকেন্দ্রিক জেলাগুলোতে নতুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পর্যটনের একটি পদ সৃষ্টি করছে। সাধারণ পর্যটকদের সেবার পাশাপাশি রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) প্রটোকল সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন এই এডিসি কাজ করবেন।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন পর্যটনভুক্ত জেলাগুলোতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (পর্যটন ও রাষ্ট্রাচার) একটি পদ সৃজনের প্রস্তাব করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি নতুন এই পদটি সৃজনের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন জেলা হিসেবে প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার, সিলেট ও পটুয়াখালী জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (পর্যটন ও রাষ্ট্রাচার) একটি পদ সৃজন করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে চিঠি দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে কক্সবাজার, সিলেট, পটুয়াখালী জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (পর্যটন ও রাষ্ট্রাচার) পদটি দ্রুত সৃজন করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, পর্যটনভুক্ত জেলাগুলোতে পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে নতুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (পর্যটন ও রাষ্ট্রাচার) সংক্রান্ত একটি পদ সৃষ্টি করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। জনপ্রশাসন এ বিষয়ে কাজ করছে।

সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকাগুলোতে প্রথম পর্যায়ে নতুন এই এডিসি পদ সৃষ্টি করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে পর্যটনভুক্ত অন্য জেলাগুলোতেও এই পদ সৃষ্টি হবে। এ তালিকায় রয়েছে মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট ও ঢাকা জেলার নাম।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন তার পাঠানো প্রস্তাব সম্পর্কে বলেন, পর্যটনভুক্ত জেলাগুলোতে পর্যটন সংক্রান্ত অনেক কাজ। পর্যটন এলকাগুলোর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রচুর কাজ করতে হয়। লাখ লাখ পর্যটককে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সব কর্মসূচি সহজে পালনের জন্য আমরা পর্যটন এলাকাগুলোতে আলাদা জনবল চেয়েছি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সরকার পর্যটন শিল্পকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া এদেশে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি। নতুন করে কৌশল ঠিক করে সম্ভাবনার সবটুকুকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পর্যটনে মডেল হতে পারে।

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানবকণ্ঠকে বলেন, পর্যটন এলাকাগুলোতে দেশি-বিদেশি অনেক ভিআইপি ভ্রমণের উদ্দেশে আসেন। এতে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) নিজেই ভিআইপি প্রটোকল করে থাকেন। এ ছাড়া পর্যটন শিল্পের অগ্রগতির জন্য কাজ করেন সংশ্লিষ্ট ডিসিরা। এ কারণে মাঝেমধ্যে কিছু ঝামেলার সৃষ্টি হয়। এসব কাজ করার পাশাপাশি জেলার অন্যান্য কাজ করতে হিমশিমও খেতে হয় ডিসিদের। নতুন এডিসি (পর্যটন ও রাষ্ট্রাচার) পদ সৃষ্টি হলে পর্যটনের অগ্রগতি ও ভিআইপিদের প্রটোকল করতে কোনো ঝামেলার সৃষ্টি হবে না।

নতুন এডিসির কাজের পরিধি: পর্যটন জেলাগুলোয় বিদ্যমান পর্যটন স্পটগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, স্পটগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্য বজায় রাখা, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে জেলায় স্থানীয়ভাবে পর্যটনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি, পর্যটন খাতে বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব প্রেরণসহ দেশের পর্যটন শিল্পের অগ্রগতির জন্য কাজ করবেন নতুন এই এডিসি। একইসঙ্গে পর্যটন এলাকায় ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের সফর সমন্বয়, অভ্যর্থনা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, হাউস গার্ড ও পুলিশ এস্কর্ট ব্যবস্থা, ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের সভার আয়োজন, রাত্রিকালীন অবস্থানের জন্য সার্কিট হাউস, ডাকবাংলো, রেস্ট হাউজ ইত্যাদি সংরক্ষণ ও সার্কিট হাউস ব্যবস্থাপনা এবং ভ্রমণের জন্য বিমান, রেল, স্টিমার, লঞ্চ, বাস ইত্যাদির টিকিট সংরক্ষণের সমন্বয় করবেন নতুন এই পদটি।

মানবকণ্ঠ/আরএ