পর্বত থেকে উদ্ধারের পর নতুন বিপদে মুসারা

মুসা ইব্রাহীম

ওশেনিয়া (পাপুয়া নিউগিনি, ইন্দোনেশিয়া) মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কার্সটেঞ্জ থেকে উদ্ধার পেলেও নতুন বিপদে পড়েছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী মুসা ইব্রাহীমসহ তিন অভিযাত্রী। আর তা হচ্ছে হেলিকপ্টারের ভাড়া।

মুসা অভিযোগ করেছেন, হেলিকপ্টার কোম্পানি এশিয়াওয়ানের দাবি অনুযায়ী ১১ হাজার ডলার দিতে না পারায় তাদের পাসপোর্ট আটকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

সোমবার তিনি তার ফেইসবুকে লিখেন, ‘উদ্ধার পেয়েছি বেস ক্যাম্প থেকে, কিন্তু উদ্ধার হচ্ছে না হেলি কোম্পানির হাত থেকে। অ্যাডভেঞ্চার কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। যে হেলিকপ্টার কোম্পানি এশিয়াওয়ান আমাদের বেস ক্যাম্প থেকে নিয়ে এসেছে, তারা আমাদের পাসপোর্ট অবৈধভাবে বাজেয়াপ্ত করে গৃহবন্দী করে রেখেছে।’

মুসা আরো লিখেন, ‘এশিয়াওয়ানের দাবি, তাদেরকে তিনবার তিমিকা থেকে বেস ক্যাম্প পর্যন্ত ফ্লাই করার খরচ দিতে হবে (১১০০০ ইউএস ডলার)। কিন্তু রোববার তারা নিজেরাই দেরি করে সকাল ১০টায় বেস ক্যাম্পের দিকে গিয়েছিল, ততোক্ষণে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গিয়ে হেলিকপ্টার ফিরে এসেছে তিমিকায়, যা কি না পুরোটাই হেলিকপ্টার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। কারণ আমরা সকাল ৬টা থেকে প্রস্তুত ছিলাম।’

‘আজ সোমবার তারা সকালে আমাদের বেস ক্যাম্পের পাশের একটা জায়গা থেকে প্রথমবার গিয়ে ফিরে আসে। আমরা দেখতে পেয়েছিলাম হেলিকপ্টার, কিন্তু তারা প্রথমবার উদ্ধার না করেই ফিরে আসে। দ্বিতীয়বার আমরা পতাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম যেন হেলিকপ্টার দেখা মাত্রই তা উড়িয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি এবং তা করেছি। এখন হেলিকপ্টার কোম্পানির কথা হলো, তাদেরকে পুরো তিনবারের টাকা দিতে হবে।’

‘আমরা, ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে রাজি হয়েছি। ইতিমধ্যে সাড়ে চার হাজার ডলার দেয়া হয়েছে। কিন্তু হেলিকপ্টার কোম্পানি এশিয়াওয়ানের জ্যাকবের দাবি- তাকে পুরো টাকাটা (১১ হাজার ডলার) দিতে হবে।’

ফেইসবুকে তিনি আরো লিখেন, ‘চিন্তা করছি যে, ফিরতে পারবো তো দেশে???’

musa ibrahimমুসার সঙ্গ এই অভিযানে আছেন, ভারতের এভারেস্টজয়ী দুই পর্বতারোহী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত ও নন্দিতা চন্দ্রশেখর। ওশেনিয়া অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কার্সটেঞ্জ পিরামিড থেকে ফেরার পথে খারাপ আবহাওয়ার কারণে বেইজ ক্যাম্পে আটকা পড়েন তারা।

তাদের খাবার শেষ হয়ে যায়। দুই দফা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে সোমবার এশিয়াওয়ানের হেলিকপ্টার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ২৫৭ মিটার উচ্চতায় ওই বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছায়। আর তাদের উদ্ধার করে।

মানবকণ্ঠ/জেডএইচ