পরোক্ষ করের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে হবে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক :
বাজেটে প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়িয়ে পরোক্ষ কর তথা মূল্য সংযোজন করের (মূসক) বোঝা না বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বক্তারা। গতকাল বেসরকারি সংস্থা ‘সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র’ আয়োজিত এক সংলাপে তারা আরো বলেন, এই করের বোঝা নি¤œআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
‘এসডিজি অর্জনে দরকার, প্রগতিশীল কর সংস্কার’ শীর্ষক এ সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।
সংলাপে আলোচকরা প্রগতিশীল কর সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা জনগণের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। এ ছাড়া নাগরিকদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেন তারা।
কর ব্যবস্থায় পরোক্ষ কর বা ভ্যাটের ওপর নির্ভরশীল, যা দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলে, এ নীতির পরিবর্তনের কথা বলেন তারা। এ ছাড়া কর ও রাজস্ব আহরণে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেন তারা। একইসঙ্গে দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা জেলাগুলোর জন্য আলাদা বাজেটের দাবি করা হয়।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। রাজধানীতে এখন অনেক সুন্দর সুন্দর ভবন দেখা যাচ্ছে। ভেতরে গেলে বোঝাই মুসকিল দেশে না বিদেশে আছি। কিন্তু বাড়ির বাইরে বের হলেই দেখা যায় রাস্তা ভাঙা। নিজের বাড়ি সুন্দর করলেও রাস্তার খবর তারা নেন না। এটি শুধু রাজধানীর চিত্র নয়, প্রতিটি জেলার একই অবস্থা। দেশের সব সড়ক এখন ভাঙা। কারণ রাস্তা ব্যবহার করে সবাই নিজের মতো সুবিধা নিচ্ছে। আর তা সংস্কার হচ্ছে করের টাকায়। তিনি বলেন, উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাবে কাজ এগুচ্ছে না। তাই উন্নয়ন কাজে সমন্বয় করতে হবে। এক্ষেত্রে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সুপ্রর চেয়ারপার্সন এসএম হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য কাজী রোজী, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রমুখ।