পরীক্ষায় নকল করার অপরাধে টিসি, ভিকারুন্নেসা ছাত্রীর আত্মহত্যা

পরীক্ষায় নকল করার অপরাধে টিসি, ভিকারুন্নেসা ছাত্রীর আত্মহত্যা

পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকল করার অপরাধে টিসি দেয়ায় আত্মহত্যা করেছে অরিত্রি অধিকারী (১৪) নামে ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ২৩/২৪, শান্তিনগরের বাসায় এ ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকেল ৪টার দিকে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত অরিত্রি ভিকারুন্নেসায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, তারা শান্তিনগরের ২৩/২৪ নম্বর বাসার সাত তলায় ভাড়া থাকেন। তিনি কাস্টমসের সিঅ্যান্ডএফ’র ব্যবসা করেন। গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। মেয়ে বেইলি রোডে ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান শাখায় পড়ত। ছোট মেয়ে ঐন্দ্রিলা অধিকারীও একই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। বর্তমানে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার অরিত্রির ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। স্কুলে মোবাইল নেয়া নিষেধ করা সত্ত্বেও সে মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এবং মোবাইলে কিছু লেখার ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে শিক্ষকরা তার মোবাইল ফোন নিয়ে তাকে পরীক্ষা হল থেকে বের করে দেন। সোমবার আবার সকালে পরীক্ষা দেয়ার জন্য স্কুলে যায়। কিন্তু তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয় না স্কুল কর্তৃপক্ষ। তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ অরিত্রির বাবা-মাকে স্কুলে আসতে বলে। বাবা-মা দু’জনই স্কুলে যায়। স্কুল অধ্যক্ষ তাদের জানিয়ে দেন, অরিত্রি পরীক্ষায় মোবাইলে নকল করছিল। তাকে স্কুল থেকে টিসি দেয়া হয়েছে। তখন অরিত্রির বাবা-মা স্কুলের শিক্ষকদের অনেক অনুরোধ করেন টিসি না দেয়ার জন্য। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো কথা না শুনে অরিত্রিকে স্কুলে রাখা যাবে না বলে জানিয়ে দেয়।

অরিত্রির বাবা জানান, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাসায় চলে আসি। তাদেরকে বাসায় রেখে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে তদবির শুরু করি। হঠাৎ বাসা থেকে ফোন আসে অরিত্রি দরজা খুলছে না। পরে দরজা ভেঙে তাকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেখতে পায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অরিত্রির বাবা দীলিপ অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, অরিত্রি পরীক্ষায় মোবাইলে নকল করেছে। বড় ধরনের অপরাধ করেছে। তাকে স্কুলে রাখা যাবে না। তখন আমি এবং অরিত্রির মা অনেক অনুরোধ করি তাকে টিসি না দিয়ে আরেকবার সুযোগ দিতে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। অরিত্রিকে আরেকবার সুযোগ দিলে হয়তো আমার মেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেত না। অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা আমাদের কথা রাখল না।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (এসআই) বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি পল্টন থানায় জানানো হয়েছে।

পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতাউর রহমান জানান, স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করছে, এই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে আমি হাসপাতালে আছি। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস