পদ্মা সেতুতে অষ্টম স্প্যান বসছে বুধবার

পদ্মা সেতুতে অষ্টম স্প্যান বসছে বুধবার

দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতুর অষ্টম স্প্যান আগামীকাল বুধবার বসতে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি ক্রেনে তুলে জাজিরার দিকে নেয়া হয়। সেতুর ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের মধ্যে বসবে এই স্প্যানটি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মাওয়া থেকে স্প্যানটি ৩ হাজার ৬০০ ট‌ন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ক্রেনে তুলে জাজিরা প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সকালে পিলারের ওপর এটি বসানো হবে।

সেতু প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা জানান, জাজিরা প্রান্তে সেতুর শেষ পিলার ৪২ থেকে ৩৬ নম্বর পিলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬টি স্প্যান বসানো হয়েছে। আর মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর পিলারে একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। পুরো প্রকল্পের ৬৩ ভাগ কাজ এগিয়েছে। এখন থেকে প্রতি মাসেই এভাবে পিলারের ওপর স্প্যান বসতে থাকবে।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুঁটিতে বসানো হয় দ্বিতীয় স্প্যান। গত বছরের ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির ওপর বসে তৃতীয় স্প্যান। ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর খুঁটির ওপর চতুর্থ স্প্যান বসানো হয়। ২৯ জুন সেতুর পঞ্চম স্প্যান বসানো হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায়। এ বছরের জানুয়ারি মাসে জাজিরা প্রান্তের তীরের দিকের ষষ্ঠ শেষ স্প্যান বসে। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হয়। আর গত বছরের শেষ দিকে মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর একমাত্র স্প্যানটি বসানো হয়। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে। বর্তমান ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

মানবকণ্ঠ/এসএস