পদোন্নতি হচ্ছে প্রশাসনে ৫ শতাধিক কর্মকর্তার

প্রশাসনে ফের তিন স্তরের পদোন্নতি হতে যাচ্ছে। অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব এই তিন স্তরে পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপেই অতিরিক্ত সচিব পদে ১৬০ কর্মকর্তা, দ্বিতীয় দফায় যুগ্মসচিব পদে ২শ’ ও তৃতীয় দফায় উপসচিব পদে ২২৫ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পাচ্ছেন। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আগেই এসব পদে পদোন্নতি হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রথম দফায় ১৬০ যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। এ পদোন্নতির জন্য কয়েক দফা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাড়ে তিনশ’ কর্মকর্তার মধ্যে থেকে ১৬০ কর্মকর্তাকে যুগ্মসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য সার-সংক্ষেপ (সামরি) তৈরি করা হয়েছে। যে কোনো সময় আদেশ জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হবে ২শ’ কর্মকর্তাকে। এসব পদোন্নতি দিতে ইতিমধ্যে একাধিক সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুগ্মসচিব পদের তালিকা চূড়ান্ত করতে আরো কয়েক দফা বৈঠক হবে। এ মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি হবে।

তৃতীয় দফায় সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি হবে। উপসচিব পদে ২২৫ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি হতে পারেÑ এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) শেখ ইউসুফ হারুন মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রশাসনে তিন স্তরের পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে। অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব এসব পদে পদোন্নতির সংখ্যা সম্পর্কে কোনো ধারণা দেননি তিনি।

জনপ্রশাসন সূত্র জানায়, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিব এই তিন স্তরে নির্ধারিত পদের বিপরীতে এ সময়ে প্রায় দ্বিগুণ কর্মকর্তা রয়েছেন। ১ আগস্টের হিসাবে, বর্তমানে উপসচিবের নিয়মিত (ডিউটি) এক হাজার ৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১ এক হাজার ৭৫৯ জন। যুগ্ম সচিবের ৪১১টি স্থায়ী পদের বিপরীতে আছেন ৭৮০ জন এবং অতিরিক্ত সচিবের ১২১টি স্থায়ী পদের বিপরীতে আছেন ৪৮২ জন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এবার ১০ম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিসিএস ১৯৮২ স্পেশাল ব্যাচ, ৮৪, ৮৫, ৮৬ ও ৯ম ব্যাচের যেসব কর্মকর্তা পূর্বে পদোন্নতি পাননি তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকছে। এর মধ্যে ১০ম ব্যাচের পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছে ১২০ জন। এর বাইরে ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচ থেকে নবম ব্যাচ পর্যন্ত ৫ ব্যাচের কয়েকশ’ কর্মকর্তা যোগ্যতা থাকার পরও পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তাকে এবার পদোন্নতি দেয়া হতে পারে। সব মিলিয়ে ১৬০ কর্মকর্তাকে এবার অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ১৫তম ব্যাচকে নতুন করে পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ পদে ১৫, ১৭ ও ১৮তম ব্যাচের ১৯০ কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এ পদে শতাধিক কর্মকর্তা পদোন্নতি পেতে পারেন। এ পদে পদোন্নতির জন্য এসএসবির বৈঠক বসছে।

সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদের পদোন্নতিতে নতুনভাবে ২৫তম ব্যাচকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ব্যাচের উপসচিব পদে ১৫০ জন কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এ ছাড়া যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আগে পদোন্নতিবঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা রয়েছেন। এই স্তরে পদোন্নতির জন্য ২২৫ কর্মকর্তার একটি তালিকা চূড়ান্ত। যুগ্মসচিব পদের শেষ হলেই শুরু হবে উপসচিব পদের এসএসবি।

জাতীয় নির্বাচনের আগে তিন স্তরে পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তাকে একইসঙ্গে পদোন্নতি না দিয়ে আলাদাভাবে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যাতে পদোন্নতি নিয়ে শেষ মুহূর্তে সরকারকে বাড়তি কোনো সমালোচনায় পড়তে না হয়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি উপসচিব পদে পদোন্নতি হয়েছিল ৩৯৬ জন সিনিয়র সহকারী সচিবের। এর আগে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ১৯৩ উপসচিব যুগ্ম সচিব পদে এবং ১১ ডিসেম্বর ১৩৩ কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। প্রায় দ্বিগুণ কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করে ওইসব পদে পদোন্নতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

মানবকণ্ঠ/এএএম