পদাবলি

আগুন এবং আমি :
আজাদুর রহমান

আগুন এসে বলবে আমায়
দুঃখ করি, চলো।
পোড়াবার আর বাকি নেই কিছু
নিজেরা পুড়ি, জ্বলো!

কার্বনডাই অক্সাইড
স্বরূপ মণ্ডল

আমি তো আছি
তোমার না থাকার হƒদয় তন্তুতে
অনন্ত জিজ্ঞাসার আড়ালে
হারিয়ে গ্যাছে উত্তর-মেরুদণ্ড

তোমাকে হারায় কার সাধ্য
হারানো যায় তাকেই
যার হারাবার ভয় প্রাণে

তুমি তো গাছেদের মতো
তোমাকে ছাড়া বাঁচেনা মানুষ
অথচ তোমারি তলে ঘুমালে নিশিথে
নিভে যায় বুকের স্পন্দন

মঙ্গলা মা আমার
আদ্যনাথ ঘোষ

প্রভাতের শিশিরের স্নিগ্ধতায়
মননের কুহুকেরা ডেকে যায়
সত্তার সজীবতায়
সুবাসিত শেফালির ফোয়ারায়
কাশবনের শুভ্রতায়
মা আমার এই ধরাধামে
ভক্তের গৃহদ্বারে এলে
প্রীতিভাসে ভেসে ভেসে
মঙ্গলের আশায়
শারদীয়া বাতাসের দোলায়।
যৌবনা ধরণী আজ
ফুলে ফুলে সেজেছে
অনাবিল প্রেমনিবেদনে
সাদা সাদা মেঘগুলো
নীলাকাশে খেলে যায়
উড়ন্ত বলাকার পাখায়
ভক্তের মনাকাশে
ভেসে বেড়ায় নিরবধি
ধূপ-দীপের মন্থনের মাখামাখি
ঢাক-ঢোল-কাঁসর-শাঁখের
সুরতানের মধুরতায়
দিব্য-প্রত্যয়ে খেলে যায়
পবিত্রতার মঙ্গলায়
আপন জ্যোতি বিলিয়ে।

শরতের উপাখ্যান
শাহীন ভূঁঞা

হাওয়ার মিষ্টি ঘ্রাণ … সঞ্জীবনী কাশবন জুড়ে
কুমারী মেয়ের হাতে প্রাণবন্ত শিউলির মালা;
মেঘেরা সাঁতার কাটে অতঃপর জলের নূপুরে
সুনীল আকাশ যেন শুভ্র শুভ্র মেঘের পেয়ালা।

শিশিরের ফোঁটা ঝরে ঝিলিক মারছে দূর্বাঘাস
সমুদ্রের বুক যেন ফেনায়িত ঢেউয়ের সাপ,
রাত্রির ঘোমটা খুলে বাসনার ব্যাকুল বাতাস
মন্ত্রমুগ্ধ এই চোখে ঢেলে দেয় প্রেমের সিরাপ।

তুমি কী এখনো ঘরে? সেতারের সুর ও সঙ্গীতে
ধূসর মলিন চোখে এঁকে নাও নীলাভ কাজল;
প্রকৃতিও ডেকে যায়…সুরে সুরে, প্রণয় ইঙ্গিতে
সমুদ্রে সমুদ্রে খেলে … নীলাম্বরী পূর্ণিমার জল।

এ-শরতে প্রাণ পাক … তোমার সবুজ মনভূমি
কোমল শিশির জলে সুর তোলে মন ও মরমী।

ধূসর আঙিনা
শারমিন সুলতানা রীনা

আত্মমগ্নতাই ছিলো যার নেশা
তাকে গোপন করাঘাতে
কুয়াশার আবরণ থেকে তুলে এনে
রাঙিয়ে দিলে মুখরতায়।
যে বুকে লুকিয়ে ছিলো দগদগে
আগুনের মতো এক পৃথিবী।
পাজরে বন্দি ছিলে ক্ষুধার্ত প্রেম।
গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলের সুবাসে
এঁকে দিলে হিরা-পান্নার সুখ।
অতঃপর তার সত্বা জুড়ে হয়ে উঠলে
প্রেম বিরহের দীর্ঘ দীর্ঘ নিদ্রাহীন রাতের
স্বপ্নিল মুখচ্ছবি।
তাকেই আবার ঘোর অমানিষায় একাকী করে
বিশ্বাসের মাস্তুল ভেঙে ফিরে গেলে
আলোকবর্ষ দুরে।
এখন আমার আঙিনা ধূসর ধুলো মাখা
নির্জনতায় ফেটে পরে তিমির অট্টহাসিতে

চলমান প্রত্যক্ষ
অসীম কুমার

ঝকঝকে ফকফকে সকাল। সবে পুবাঙ্গণে অরুণ রেখা
ছড়িয়েছে; অন্তিমার নীল ছুঁয়ে উড়ছে পাখি ফুটছে ফুল
বাতাস দিচ্ছে মুক্ত-অনুরণ…
পথঘাট ফাঁকা। শুধু গাছদের ভেঙেছে ঘুম
কাকের পেটে যদিও রাত্রিযাপন ক্ষুধা
তবুও ওরা করেনি কা-শব্দ!
চরাচর কার ধ্যানে ভাবিত
শিশির গায় টলমলে গান
আকাশের দরজা খুলে এলো
মহানের আলো