পদবলি

বিবাহের গুঞ্জনে:
শিবলী মোকতাদির
কত গান, কত কলি ও কথার আগমনে ভরা
গৃহটি তেমন তথা- বিবাহের ভারে আনকোরা
যত দিদি ও দাদার খানদানি শত চিৎকারে
বিষণœ শাড়িতে খালা, খালু তার বসেছে আহারে
গন্ধে তুলে গতি এ-ঘরে ও-ঘরে নিত্য আসে যায়
আমাকেই খাদ্য ক’রে হেসে-খেলে কণ্ঠে ও লালায়
জরী আর জরোয়ায় যত তেজি আনাচে-কানাচে
ধরে হাতে হাত, আঁখিতে আঁখির প্রশ্নে তারা নাচে
গোলাপে আলাপ রেখে রাখে মন সূর্যমুখী ফুলে
ও-পলাশ কাঁটার কাহিনী শুনে গেঁথে রাখো চুলে
আমি তবে কোথায় নিযুক্ত সাঁই? কে আমাকে বাঁধে?
কোন মালা বালিকা সাজাও চাঁদ ওঠা দূর ছাদে
মাতা আর মাতামহী জাগে অচেনা ভাসুর, জা’য়ে
সাধু ও সন্ন্যাসী ধুম্র-সিক্ত-বালে- চলে চার পায়ে
ফলে বজ্রে ডাকা মেঘ, তাতে বৃষ্টিমাখা বর-কনে
বাহিরে ননদ কাঁদে আগাগোরা ছন্দে আনমনে
সেহেতু তৃণের বদলে ইস্পাতে রাখি অতিশয়
দাবির দহনে পোড়া এই দেহ, চিত্তে চড়ে ভয়
ধরণী পড়েছে ধরা ধর্মে-কর্মে, তবু এই রাতে
তুমি বাজো সাঁনায়ের সুরে, কবি তার কলিজাতে।

শরতে
গাফফার গাজালী
তুলট তুলট মেঘের পাহাড়
দূর আকাশের গায়,
ভেসে বেড়ায় মুক্তো মনে
হালকা হালকা বায়।

কখনোবা স্বচ্ছ নীলে
জোছনা মাখা রাতে,
ঘাসের ডগায় মুক্তো শিশির
ঝলমল করে প্রাতে।

সাদা সাদা কাশফুলগুলো
নাচে বালুর চড়ে,
দুগ্ধ ফেনিল ঢেউয়ে যেনো
নরম হাওয়ায় নড়ে।

শেফালী আর মালতী ফুল
মধুর মধুর ঘ্রাণে,
মল্লিকা ও বকুল ফুলে
মাখা শরৎ প্রাণে।

নদী-নালা খালে-বিলে
জলে কানায় কানায়,
ধানের চারা শরতেরি
নাচে ডানায় ডানায়

কিছু ভুল
সালমা খানম রাণু

তুমি যে রাস্তায় হেঁটেছো-
আমিও হেঁটেছি তোমার পাশেই,
তুমি বুঝতে পারোনি আমার উপস্থিতি।

তোমার কথার ধরন, হাসির শব্দ,
ঘামের গন্ধ সবই নীরবে উপলব্ধি করেছি।

খুব সকালে তোমার শূন্যতা আমাকে করেছে নিঃসঙ্গ,
রাতের আঁধারে তোমার অবহেলার আগুনে পুড়ে
নিজেকে করেছি অঙ্গার,
তবুও নীরবে ভালোবেসেছি।

একবার ডাকলেই ভুলে যাই রোদ্দুরের জ্বালাময়
তোমার উত্তাপ,
বর্ষার আকাশ, না ফুরানো দীর্ঘ রাত!
তুমি একবার ডাকলেই ভুলে যাই-
ভুলে পা বাড়াই নতুন ভুলের দিকে।

ঠিকানা
আরজুমুন
কোন এক মায়াঝরা সন্ধ্যায় ঠিক পৌঁছে যাবো
তোমার ঠিকানায়।
যেখানে মিলিত হয় নদী মোহনায়।
ফেরারি মন উদাসী বিকেল
কিংবা ভরা বরষার টুপটাপ জল
ছলকে ছলকে পড়বে তোমার বাহুলতায়।
পৌঁছে যাবো, সত্যি করে দেবো
অজানা অভিমানের ঘোর ভেঙে
সোনালি আলোয়।

বাংলাদেশ জেগে আছে
তরুন ইউসুফ
আজকাল রেসকোর্স শান্ত উদ্যান বলে
মাঝে মাঝে জেগে ওঠে মতিঝিল
ব্যবসায়িক খোলস বেরিয়ে আসে
সুকান্তের আঠারো
নুড়িপাথরের শাপলা জীবন্ত হয়
নান্দনিক বৈভবে জাগে বুক
সেøাগান আর কড়া রোদে উত্তপ্ত হয় রাজপথ
কচ্ছপের খোলসের মতো দালান থেকে
উঁকি মারে মানুষ
দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর খানিকটা সংশয় জাগে
এভাবে বেঁচে থাকা ঠিক কি?
সংশয় প্রত্যয় হবে বলে কবিরা বুক বাঁধে
কলমও প্রস্তুত হয় লিখবে আবার
বাংলাদেশ জেগে আছে!