পণ্যমূল্যে পয়সা বিষয়টি হাস্যকর

পণ্যমূল্যে পয়সা বিষয়টি হাস্যকর

ওষুধ কিংবা কিছু ভোগ্যপণ্য কিনতে গেলে ভোক্তাদের যে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তা বড় ধরনের সমস্যা না হলেও মাঝে মধ্যে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ঊর্ধ্বমূল্য নয়; তা হচ্ছে পণ্য বা ওষুধের মোড়কের গায়ের মূল্য তালিকার অদ্ভুত সংযোজন। বিশেষ করে ওষুধের মোড়কের গায়ে এক ধরনের হাস্যকর মূল্য লেখা থাকে। যেমন- ২০.৭০ টাকা অথবা ১২.৬৫ টাকা (ভ্যাটসহ) ইত্যাদি। সেই মূল্য আমাদের পরিশোধ করতে হচ্ছে যথাক্রমে ২১ টাকা, ১৩ টাকা হারে। এ হারে প্রতিটির খুচরা মূল্যই আমাদের টাকার অঙ্কে পরিশোধ করতে হচ্ছে। সচেতন ক্রেতাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। তাদের কাছ থেকে দোকানি খুচরা পয়সাটা নেন না ঠিকই, তবে অধিকাংশ ক্রেতার ক্ষেত্রে খুচরা পয়সার পরিবর্তে এক টাকা হাতিয়ে নেন দোকানি। সাধারণত আমরা এ ধরনের ধোঁকাবাজি মানতে বাধ্য হচ্ছি পয়সা সংকটের কারণে।

উল্লেখ্য, এ ক্ষেত্রে পয়সা সংকট বলা যাবে না। বলা যাবে, পয়সার প্রচলন নেই। অর্থাত্ বাংলাদেশ ব্যাংক এক পয়সা থেকে দশ পয়সার কয়েন কিংবা সিকি-আধুলি এখন আর প্রস্তুত করে না। ধাতব মুদ্রা প্রস্তুত না করার কারণে বর্তমানে পাঁচ, দশ, পঁচিশ, পঞ্চাশ ও পঁচাত্তর পয়সার কোনো পণ্য নেই দেশে। অবশ্য এক টাকার জিনিসপত্রও খুব একটা নেই। থাকলেও অন্য অঙ্কের সঙ্গে যোগ করে নিতে হচ্ছে এক টাকাকে। সে হিসেবে বলা চলে এক টাকার প্রচলন যত্সামান্য রয়েছে। এর ফলে এক টাকার কয়েন মুদ্রণও হচ্ছে।

এখানে মূল প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে দেশে এক টাকার নিচের ধাতব মুদ্রার প্রচলন নেই, সেখানে ওষুধ কোম্পানি মোড়কের গায়ে কী করে টাকার অঙ্কের সঙ্গে পয়সা জুড়ে দেয়? বিষয়টাকে অসাধুতা, নাকি অসাবধানতা, না তামাসা বলা যেতে পারে? জবাব হতে পারে, ‘মূল্য সংযোজন কর’। সেক্ষেত্রে বলতে হচ্ছে, মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করতে ভোক্তা কি নিজেই মুদ্রা প্রস্তুত করবেন! নাকি তিনি ‘এক টাকা’ পুরিয়ে দোকানির হাতে দেবেন? যদি এক টাকায় একবারই ল্যাঠা চুকে যেত, তাহলে সমস্যার সমাধানও হয়ে যেত। কিন্তু সেটি হচ্ছে না, বরং সমস্যা থেকে যাচ্ছে বছরের পর বছর। যে সমস্যার মুখোমুখি প্রতিনিয়ত হচ্ছেন দেশের আমজনতা। বিষয়টি মাথায় নিয়ে কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট হতে হবে, তবেই এ হাস্যকর বিষয় থেকে মুক্তি মিলবে।
লেখক: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ

মানবকণ্ঠ/এসএস