নড়াইলে এসএম সুলতানের ৯৪তম জš§বার্ষিকী পালিত

নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৪তম জš§বার্ষিকী পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্য ছিল কোরান খানি, পুষ্পমাল্য অর্পণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও দোয়া মাহফিল।
গতকাল শুক্রবার সকালে নড়াইল জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শহরের মাছিমদিয়ায় এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে কোরান খানির মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর সকাল ৭টায় শিশুস্বর্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুইশ’ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। সকাল ৮টায় শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নড়াইলের জেলা প্রশাসন, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, এসএম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়, এসএম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মুর্ছনা সংগীত নিকেতন, নড়াইল প্রেসক্লাব, সপ্তর্ষির আলো, গ্রেফ শিল্পগোষ্ঠী, লালবাউল সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
সকাল পৌনে ৯টায় শিশুস্বর্গে বরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম, এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান মিকু, নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুল আরিফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশিদ, জেলা কালচারাল অফিসার মো. হায়দার আলী প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে শিল্পীর বিহেদী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও সুলতান ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট তৎকালিন মহকুমা শহর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা পাখির কলকাকলীতে মুখরিত মাছিমদিয়া গ্রামে জš§গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. মেছের আলী এবং মাতার নাম মাজু বিবি। বাবা-মা আদর করে তার নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া।
শিল্পীর জীবদ্দশায় তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতী মানুষের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্সিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.