নোয়াখালীর আমির আলীসহ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় নোয়াখালীর সুধারামের আমির আলীসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়াও অপর আরেক আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

এদের মধ্যে আমির আলী, মো. জয়নাল আবদিন, ও আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুরের ফাঁসির রায় হয়েছে। আর মো. আব্দুল কুদ্দুসের হয়েছে ২০ বছরের কারাদণ্ড। এই চার আসামির মধ্যে মনসুর পলাতক। বকি তিনজন রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা তিন অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের তিন আসামির সাজা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করতে হবে।

সেই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে।

নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের মামলায় রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। তবে পলাতক আসামিকে সে সুযোগ নিতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার আদালত বসার পর নোয়াখালীল চার আসামির রায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে তার আগেই কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।

শুরুতেই নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে আদালত।

তিন সদস্যের এ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম প্রারম্ভিক বক্তব্যে জানান, এ মামলায় তারা যে রায় দিচ্ছেন, তা ১৫০ পৃষ্ঠার।

পরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার রায়ের সার সংক্ষেপের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন। বিচারপতি আমির হোসেন পড়েন রায়ের দ্বিতীয় অংশ। সবশেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সাজা ঘোষণা করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে এ মামলায় শুনানি করেন জাহিদ ইমাম। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তরিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, গাজী এমএইচ তামিম ও মাসুদ রানা।

মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন প্রসিকিউশনের তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন। তিনিসহ মোট ১৫ জন প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনালে কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি।

প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল গত ৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিল।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি যে কোনো দিন রায় দেয়া হবে বলে সিএভি রেখে দেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। আইনজীবী তারিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, গাজী এমএইচ তামিম ও মাসুদ রানা আসামি পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

প্রাথমিকভাবে ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলও মামলার অভিযোগ গঠনের আগে আসামি মো. ইউসুফ আলী গ্রেফতারের পর অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরে ২০১৬ সালের ২০ জুন চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামিরা নোয়াখালীর সুধারামে ১১১ জনকে হত্যা করে। এছাড়া্ও লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

এ মামলাটির তদন্ত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন। এই তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষ ১৫ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়। আসামিদের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে কোনো সাক্ষী আসেনি।

২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়ে ৩০ আগস্ট শেষ হয়। ৩১ আগস্ট তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে তদন্ত সংস্থা। এর ভিত্তিতেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।

মানবকণ্ঠ/এসএস