নেপথ্যে গরুর হাট ও ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তছির উদ্দিন খুনের নেপথ্যে ছিল ডিশ ব্যবসা ও গরুর হাটের নিয়ন্ত্রণ। এ ছাড়া খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণ ও খাসজমি দখলও ছিল এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল ও কমিশনার রাজিব গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। যার ফলশ্রুতিতে গত বুধবার রাতে মোহাম্মদপুরের রাজধানী উদ্যান এলাকায় তছির উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পিচ্চি হেলালের অন্যতম সহযোগী কাইল্যা সুমন গ্রুপে কাজ করত তছির। তার সঙ্গে রাজিব গ্রুপের ইয়াসিন, জাকির ও ফারুকের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে জাকির ও ফারুক ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তছিরকে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার জানান, ডিশ ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে ক্যাবল ব্যবসায়ী জাকিরের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় তছিরসহ বেশ কয়েকজনের। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বসিলা এলাকায় গরুর হাট বসানো ও স্থানীয় খালপাড়ে ট্রাকস্ট্যান্ড তৈরি এবং দোকান বরাদ্দ নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়। তিনি আরো জানান, উভয় গ্রুপের লোকজনই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

চাঁদ উদ্যান এলাকার ব্যবসায়ী আলম হোসেন জানান, সম্প্রতি ইয়াসিনের নেতৃত্বে রাজিবের লোকজন খালপাড়ে দোকান বরাদ্দ দেয়ার কথা বলে শতাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই লাখ করে টাকা নেয়। এই টাকা নিয়ে পিচ্চি হেলাল গ্রুপের কাইল্যা সুমনের সঙ্গে তাদের বিরোধ দেখা দেয়। রাজিব কয়েক বছর আগেও ছিল ছন্নছাড়া। তার বাবা ও চাচা ছিলেন রাজমিস্ত্রি। এখন সে কয়েকশ’ কোটি টাকার মালিক। এর সবই হয়েছে খাসজমি দখল আর চাঁদাবাজি করে। এসব কারণে পিচ্চি হেলাল গ্রুপের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক ব্যক্তি জানান, রাজিবের গডফাদার হিসেবে কাজ করছে একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক। ফলে সে ধরাকে সরা জ্ঞান করে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী হাউজিং ও চাঁদ হাউজিংয়ে ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথাকাটাটির জেরে উজ্জ্বল নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনা মীমাংসার জন্য রাত ১২টার দিকে বৈঠকে বসে। এ সময় কথাকাটাকাটির জেরে জাকির, ফারুক ও সোলায়মানসহ তিন-চারজন তছিরকে ধাওয়া দেয়। সে দৌড়ে রাজধানী উদ্যানের ভেতরে গেলে সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রাত দেড়টার দিকে মারা যায় তছির। চাঁদ উদ্যানের এক নম্বর সড়কের দুই নম্বর বাড়িতে থাকত তছির।

নিহতের বড় ভাই বছির উদ্দিন জানান, তছির আগে যুবলীগ করত এবং জাকিরের সঙ্গে মিছিল-মিটিংয়ে যেত। তার সঙ্গে চলাফেরা ছেড়ে দেয়ায় শত্রুতা তৈরি হয়।

মানবকণ্ঠ/এসএস