নীরব অনুভূতির নাম কবিতা

টিপু সুলতান :
কবিতা একটি উপাদান যার ব্যবহার গোটা বিশ্বপ্রকৃতির গুণ বৈশিষ্ট্য আবিস্কার ও মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সার্বজনীন অংশ বিশেষ। মোটা দাগে কবিতার কথা বলতে গেলে, সেটাকে প্রকৃতভাবে নবচেতনার আঙ্গিকে শ্রেণিবিস্তর এবং কাব্যিক সৌন্দর্য্যরে উপমায় আলোড়ন সৃষ্টি করতে হয়। যেমন কবি শহীদ কাদরী স্পষ্ট উচ্চারণ করেছেন অনুচ্চারিত উচ্চারণ ও অনালোকিতকে গ্রেফতার করাই হচ্ছে কবিতা। লাঙ্গলের ফলা এবং মাটির বুক পাতানো বিনিময়ে নতুন সংস্কারের নৈর্ব্যক্তিক ব্যাপার (ফসল) উঠে আসার নামই কবিতা। প্রয়োজন এবং যৌগিক প্রমাণঘনত্ব কাব্যপরিক্রমা শব্দাবলীর সান্নিপাতিক অনুসারে কেবলমাত্র কবিরা কখনো কখনো কবিতার শিল্পী, শিল্প হয়ে ওঠে। ইন্দ্রিয়গ্রাহের বিশেষ চেতনার জালে আটকায় নতুন প্রজন্মের কবির কবিতায় আধুনিক, অনাধুনিক বোধের চিত্রকল্প, সন্ধানকামী শব্দের উপমা, কবিতার গোঁড়ামি সীমা অতিক্রম করা বাঁক বদল। আমার অনুভূতির তরুণ ভাবনায় কবিতা হলো উপমা, বৈশিষ্ট্যবোধক একাডেমি এবং একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সুস্থ, ক্লান্ত, অক্লান্তের পরিচয়।

জ্যোৎস্নার পায়াভারী শব্দ
অনেক খবর ছিল, অধ্যুষিত গোপনীয়তা:
রাত্রির তলপেটে লুকিয়ে যায় ধূলো-পথ
দূরের ছায়াটানা দ্বীপের মতন টিমটিম গ্রাম্যল্যাম্প;
সেদিন একা ছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে
হেমন্তের কুয়াশায় জ্যোৎস্নার পায়াভারী শব্দ,
বাতাসের ছলাৎছলাৎ ঢেউ, ঘোর রাত্রিতে ঘিরে ধরে
অ্যাভিনিউ ভাবনার একাকীত্ব ছায়ানট।

গান গাইতে থাকি। শিশিরধৌত ধান গাছ-
মহাশূন্যে তাকিয়ে বেজোড় সুর শোনে।
বাঁদুড় ডানা ঝাপটায়-ইলিশা আকাশে।
ঝিঝি রাত্রির অবারিত মাঠ, শেয়ালের চোখে জ্বলে
-দীপজ্যোতি; ওদিকে ধীরেধীরে রাত পোহায়।

পা থেকে ধুলো
পা থেকে ধুলো উড়লো, নাক সোজা বাতাসে;
কেবল হুপিং কাশিতে ছেপে গেল
একটা একটা রোগ, আহ্বান; তারপর! পথে-পথে, মোড়ে মোড়ে
ক্ষুব্ধ ট্রিটমেন্ট ও বিব্রত আচরণ, নগ্ন গর্ভের পুত্রক দ্বারা।

অথচ সেদিনকার ধুলোগুলো ছিল
বড্ড আনন্দের, স্কুলগামী শিশুরা-আগামীর বাসন্তী রং।

জমাটবাঁধা স্নায়ুর হাড়
পৃথিবী একদিন ত্যাজ্যপুত্র বলে জানান দেবে
প্রিয়তমা ভুলে যাবে আঙ্গুলের ইতিকথা;
পিতৃগৃহ মাটিচাপায় ভুলে যাবে দ্রুত; স্তব্ধ হবে বিচরণ:
তারপর! বাঁকবদলের ইতিহাস;
কবিতার ভ্রƒণঃবৃক্ষ এবং পাখিদের লোকালয়
বেবাক বাতাসের গর্জনে তাজা হবে
জমাটবাঁধা স্নায়ুর হাড়ে,
ভোরের বক্রমে যৌবনের খেলাঘর,
শৈল্পিক ঠিকানা;সুউচ্চ রূপসী বাংলার সিঁড়িপাথে-
আবার এসে দাঁড়াবে
অমৃত প্রেম জাগানো অভিমানী সন্তান!