নির্বাচন নিয়ে ধুয়াশায় ঐক্যফ্রন্ট সমস্যা সমাধানের আশ্বাস ইসির

নির্বাচন নিয়ে ধুয়াশায় ঐক্যফ্রন্ট সমস্যা সমাধানের আশ্বাস ইসির

নির্বাচনে থাকা না থাকার বিষয়টি সরকারের আচরণের উপর নির্ভর করছে বলে নির্বাচন কমিশনকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সরকার বিরুপ আচরণ করছে অভিযোগ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশী হামলার নালিশ জানান ফ্রন্ট নেতারা। এসময় তারা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে না বলেও ইসিকে জানান।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে এসব কথা বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন তাদের। সেইসঙ্গে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় দু|খও প্রকাশ করেন তিনি।

সিইসি কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, মোকাব্বির খান, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যেও মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমদসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক থেকে বেরিয়েই প্রথমেই আলোচনা সন্তোষজনক হয়েছে বলে জানান ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আমরা সংবিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে জন্য বলেছি। তাদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, তা সন্তোষজনক।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে থাকবো, কি থাকবো না তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের আচরণের ওপর। আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে কথা বলেছি। তারা বলেছে, সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। তবে প্রতি কেন্দ্রে সেনা মোতায়েন করতে পারবে কিনা, তা ভেবে দেখবেন।

তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার জন্য আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই ভোটযন্ত্র কেবল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সীমিত আকারে ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে ইভিএম নিরাপদ নয়, এটা যদি আমরা প্রমাণ করতে পারি, তবে তারা এটি ব্যবহার করবেন না। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনকে ইসির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি তারা বিবেচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

তিনি জানান, গায়েবী মামলা ও হয়রানী বন্ধের বিষয়ে আমরা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়ার দাবি করলে সিইসি বলেছেন, শুধু রাজনৈতিক কারণে যেন হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নেবেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনী এজেন্টদের যাতে হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে গণমাধ্যম যেন সরাসরি সম্প্রচার না করতে পারে সে সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারা এখনো অনড় রয়েছেন। আমরা বলেছি এটা করতে না দেয়া উচিত হবে না। কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে এখনো অনড় আছে। এছাড়া বৈঠকে আমরা বলেছি, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন ফলপ্রসু হবেনা। তারা জানিয়েছে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি দেখবেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি, তারা বলেছে দেখবেন। আলোচনা করে জানাবেন। তারা তো সব সময়ই এ কথা বলেন। কতটুকু দেখবেন এখন সেটাই দেখার বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দলীয় কার্যক্রম চালানোর বিষয়টি ইসির কাছে তুলে ধরলে সেটিও তারা ব খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস