নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে খালেদা জিয়ার নির্দেশনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির কারাবন্দী চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। দলটির কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতীয় ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার।

গতকাল নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারের জন্য প্রায় এক মাস চিকিৎসার পর বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবারো কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।সেখানে ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়।

দলটির সূত্র জানায়, একাদশ নির্বাচনে করণীয় সম্পর্কে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত আদালত প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়াকে জানায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই একাদশ নির্বাচনের বিষয়ে মীর্জা ফখরুলকে নির্দেশনা দিয়েছেন বেগম খালেদ জিয়া।

তবে এই সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপির মহসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান আদালত প্রাঙ্গণে খালেদার জিয়ার সঙ্গে তার স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, আদালত প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়ার থেকে পাওয়া নির্দেশনা পরে তিনি দলের অনান্য বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেন। দলটির সূত্র জানায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার সময় সীমা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করার জন্য আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখবে বিএনপি।

সূত্রটি আরো জানায়, আদালত প্রাঙ্গণে প্রায় ১ মিনিটের ওপরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা হয় মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সেখানেই একাদশ জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের কথা খালেদা জিয়াকে জানান তিনি। জবাবে খালেদা জিয়া ২০ দলীয় ঐক্যজোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলন কর্মসূচী ঠিক করার জন্য নির্দেশ দেন।

এদিকে বুধবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে নির্বাহী কমিটির সভা আয়োজন করে বিএনপি। নির্বাহী কমিটির ৩৫ সদস্যের মধ্যে ৩২ জন সদস্যই অংশগ্রহণ করে ওই সভায়। সভায় অংশগ্রহণ করা সবাই একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আন্দোলনের বিষয়ে একমত হন।

এই বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। তবে আমরা আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, আমাদের দাবি আদায়ের জন্য আমাদের আন্দোলন করতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপি আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রাখবে।

যদিও সরকার এখনো বিএনপি এবং অন্যান্য দলের সমন্বয়ে দেয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মেনে নেয়নি তবুও বিএনপি নির্বাচন বয়কট করবেনা বলে জানিয়েছেন বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা।

গত বুধবার একাদশ নির্বাচনের আগে সরকারের বিরোধী ৭২ টি দলের সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী সংলাপ শেষ হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে ওই সব দলের প্রধান দাবি যেগুলোর কারণে নির্বাচনে অস্থিতিশীলতা হতে পারে সেগুলো এখনো পূরণ হয়নি।

দ্বিতীয় দফার সংলাপেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচন আরো এক মাস পিছিয়ে দেয়ার মত প্রস্তাবগুলো মেনে নেয়নি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ।

এদিকে এই দাবিগুলো সরকার মেনে না নিলে দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করার হুমকি দিয়েছে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।  নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পরেও নির্বাচন পিছিয়ে নেয়ার জন্য ইসিকে অনুরোধ করতে নির্বাচন কমিশনে আবারো যাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

মানবকণ্ঠ/এআর