নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে তৃণমূল বিএনপি


আগামী একাদশ নির্বাচনে অংশ নিতে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে দলটির তৃণমূলে চালানো জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি এ জরিপ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। বিএনপি কোন পদ্ধতিতে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে, সেই পরামর্শ তুলে আনতেই ঈদুল ফিতরের আগে এ জরিপের উদ্যোগ নেয় দলটির গবেষণা উইং বিএনআরসির (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার)। মাঠ নেতারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণের পক্ষেই মতামত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে তৃণমূল বিএনপির নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিলেও কোনো ধরনের সমঝোতা কিংবা ফয়সালা ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে অর্থাৎ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে নন বলেও গবেষণা সেন্টারের চালানো জরিপে তথ্য উঠে এসেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে মুখিয়ে আছেন সারাদেশের নেতাকর্মীরা। এতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা একমত। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে দলীয় গবেষণার জরিপ দেয়া হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির গবেষণা উইং বিএনআরসির (বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার) সঙ্গে যুক্ত একাধিক সিনিয়র নেতা, দেশি ও বিদেশি কমপক্ষে ৯ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেতাদের পরামর্শ তুলে আনার জন্য এ কার্যক্রম চালান। সহায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরার আগে তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য কিংবা মতামত বিশ্লেষণ করে তারা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে এ তথ্য পেশ করেন।

জরিপ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এক নেতা জানিয়েছেন, কট্টর বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকা এবং নেগিটিভ এলাকা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট এলাকার মাঠ নেতাদের পরামর্শ নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত পাওয়া মাঠ নেতাদের মতামত অনেকটাই স্পষ্ট। তারা প্রায় সবাই নির্বাচনের যাওয়ার পক্ষে রয়েছেন, তবে বর্তমান পদ্ধতিতে নয়। প্রয়োজনে বিএনপিকে আন্দোলন করেই নির্বাচনের মাঠ তৈরি করতে হবে বলে তারা পরামর্শ দিয়েছেন।

ওই নেতা আরো জানান, মাঠ নেতারা নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের বিষয়েও কথা বলেছেন। বিশেষ করে মনোনয়নপ্রত্যাশী বেশি হওয়ায় নির্মোহভাবে জনপ্রিয়তা যাচাই করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। এক্ষেত্রে প্রার্থীর আচার-আচরণ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখতে বলেছেন মাঠের নেতারা।

দলটির সূত্র আরো জানায়, তৃণমূলের মতামত সঠিকভাবে তুলে আনতে হাই প্রোফাইল নন অর্থাৎ কম পরিচিত দলের এমন ব্যক্তিদের দিয়ে জরিপ কাজ চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক নেতা জানান, হাইপ্রোফাইল নেতাদের এ কাজের দায়িত্ব এ জন্য দেয়া হয়নি যাতে তৃণমূল নেতারা নির্ভয়ে ও চাটুকারিতামুক্ত হয়ে কথা বলার সুযোগ পান। একই সঙ্গে আসনভিত্তিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কে কতটা জনপ্রিয় তারও একটি তালিকা তৈরি করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এটা অনেকটা অনানুষ্ঠনিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এতে অনেকের ভাগ্য খুলবে, আবার অনেকের কপাল পুড়বে।

বিএনপির নেতারা মানবকণ্ঠকে জানিয়েছেন, ২৩০টি আসনে তাদের প্রার্থী অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে আছে। বাকি ৭০টি আসনে কারা প্রার্থী হবেন, সেটি নিয়ে কাজ চলছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবকণ্ঠকে বলেন, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ। এজন্য আমরা তৃণমূলের পরামর্শ নেয়াসহ কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন কাজ প্রায় শেষ করে এনেছি। আমাদের মহাসচিব তৃণমূলকে চিঠি দিয়ে তাদের পরামর্শ নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আর এই দেশে হবে না। শিগগিরই আমদের দলীয় প্রধান সবার সঙ্গে পরামর্শ করে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই সহায়ক সরকারের একটি রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন। সেই আলোকে এ সরকার বাধ্য হবে একটি নিরপেক্ষ পদ্ধতি বের করবে। সেটি সহায়ক সরকার বা নির্দলীয় সরকার অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে নামেই হোক।

জানা গেছে, সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকে অথবা সংবিধান সংশোধন করে সহায়ক সরকারের একাধিক ফর্মুলা তুলে ধরবে বিএনপি। এ রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে জোটের শরিক দলগুলোর সুপারিশও নেয়া হয়েছে। জোটের সবক’টি রাজনৈতিক দল সহায়ক সরকারের পদ্ধতি কেমন হতে পারে, তা লিখিতভাবে বিএনপি মহাসচিবের কাছে জমা দিয়েছেন। আগামী মাসে বা নভেম্বরের শেষে বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করতে পারে। এমনটি জানা গেছে দলটির একাধিক শীর্ষ নেতার কাছ থেকে।

অপরদিকে রূপরেখা প্রকাশের ক্ষেত্রে দলটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক বিতর্ক ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির অবসানে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছা।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ