নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে অনেক দল: ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যেসব রাজনৈতিক দল গত সংসদ নির্বাচন ও এরপর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও পর পর দু’বার অংশগ্রহণ করেনি সেসব দল নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি একটি আসনেও নির্বাচন না করে তাহলে নিবন্ধন আইন অনুযায়ী তারা নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তবে আরো অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়া থেকে যায়। তবে কতগুলো দল নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সেটি পরিসংখ্যান করা হয়নি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইসি সচিব। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। যদি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে কি হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব সরাসরি না দিয়ে হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, যে দলই পর পর দু’বার নির্বাচনে অংশ নেবে না তাদের সবারই ঝুঁকি রয়েছে।
ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হবে সেটা ধরেই প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়া হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যারা কাজ করবেন তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ারও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর পরই এটি শুরু হবে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অঞ্চল ভিত্তিক হবে। যারা তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন তাদের প্রশিক্ষণও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
সংসদে আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাবটি পাস না হলে বিদ্যমান আইনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহার করবে কি করবে না সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আরপিও সংশোধন হলে এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। যদি এই সংসদে এটি নাও হয়, সামনে অনেক স্থানীয় নির্বাচন আছে সেখানে এগুলো ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, কমিশন থেকে আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রিসভায় যদি এটি অনুমোদন হয়, তাহলেই সংসদে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি কোন পর্যায়ে আছে তার তথ্য পাইনি। যদি এটি সংশোধন হয় তাহলে ভালো, আর না হলেও তার প্রস্তুতি আছে। আগের আরপিও দিয়েও নির্বাচনের সব কর্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে বিদ্যমান আরপিও দিয়ে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সচিব বলেন, ৩০ অক্টোবরের পরে যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ বিষয়টি সামনে রেখে ইসি সচিবালয় বিভিন্ন প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা সারাদেশের ৪০ হাজার ১৯৯টি কেন্দ্রের তথ্য পেয়েছি। সেগুলো প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। যখন তফসিল ঘোষণা করা হবে তখন তালিকা রিটার্নিং কর্মকর্তারা কেন্দ্রগুলোর তালিকা আমাদের কাছে পাঠাবে। এরপর সেগুলো গেজেট আকারে ৩০০ আসনের তালিকা প্রকাশ করা হবে।