নির্বাচনের আগে দাবি পূরণে খুশি শিক্ষকরা

নির্বাচনের আগেই দাবি পূরণে খুশি সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকরা। শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের পদোন্নতি, পদায়ন, নিয়োগ ও বকেয়া বেতন ছাড়ের ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে বড় ধরনের নিয়োগ ও পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তিন শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার এমপিওভুক্ত পৌনে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বৈশাখী ভাতা ও ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের দাবি পূরণ হয়েছে। এ দাবি আদায়ে তারা দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন। এদিকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অবসরের পর তাদের সুবিধাদি পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টসহ বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য মোট এক হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর অপেক্ষমাণ যত পদোন্নতি ও নিয়োগ রয়েছে, সব নির্বাচনের তফসিল জারির আগেই শেষ করা হয়েছে। শিক্ষা ক্যাডারে সহযোগী অধ্যাপক থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৪০৯ জনকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। পদ না থাকার পরও তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়। একইভাবে ৫৭৪ সহকারী অধ্যাপককে পদোন্নতি দিয়ে সহযোগী অধ্যাপক করা হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ৬৩৪ জন প্রভাষক ৩১ অক্টোবর পদোন্নতি পেয়েছেন।

যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেখানে একটি করে কলেজকে জাতীয়করণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর তিন শতাধিক কলেজ সরকারিকরণ করা হয়। এসব কলেজে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক রয়েছেন।

সরকারি ও বেসরকারি স্কুলেও নিয়োগ পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে এক হাজার ৩৭৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। প্রথমবারের মতো পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অধীনে এ নিয়োগ দেয়ার জন্য ৯ সেপ্টেম্বর পিএসসি এ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। শিগগিরই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করবে পিএসসি। সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের ৪২০ শিক্ষককে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭১ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ৫২ জন সহকারী মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। নিয়োগের ২৭ বছর পর পদোন্নতি পেলেন তারা। এই পদোন্নতির মধ্য দিয়ে ওই শিক্ষকরা নবম গ্রেডে, অর্থাৎ প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত হলেন।

এ ছাড়া পদোন্নতির তালিকায় আছেন শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকরা। তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রস্তাবে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিলেছে। এর ফলে শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন পাবেন। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ (টিটিসি), সরকারি আলিয়া মাদরাসাসহ সারাদেশে ৩২৭টি পুরনো সরকারি কলেজসহ সদ্য সরকারি হওয়া তিন শতাধিক সরকারি কলেজে শারীরিক শিক্ষকদের পদ ৬০৭টি। দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত হলে এবং নতুন সরকারি কলেজে পদ সৃজন হলে সেসব কলেজের শিক্ষকরাও সমমর্যাদা পাবেন।

সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য এ সুপারিশ করবে। বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের অন্যতম বড় দাবিও পূরণ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে তাদের জন্য ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং বৈশাখী ভাতার ঘোষণা এরই মধ্যে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই ইনক্রিমেন্টের জন্য বাড়তি ৫৩১ কোটি ৮২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা লাগবে। আর বৈশাখী ভাতার জন্য লাগবে ১৭৭ কোটি ২৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের জন্য ছিল বেশকিছু সুখবর। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ নেই। দেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে ৬৫ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর বাইরে প্রধান শিক্ষকদের ঠিক এক ধাপ নিচে বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সহকারী শিক্ষকরা যে আন্দোলন করে আসছিলেন, তা নির্বাচনের আগমুহূর্তে এসে কিছুটা বাস্তবায়ন হয়েছে। সম্প্রতি সারাদেশের ১৫ হাজার সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দিয়ে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব পদে তাদের স্থায়ী করার কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে এই ১৫ হাজার শিক্ষক ভীষণ খুশি।

উল্লেখ্য, সারাদেশে ৬৫ হাজারের কিছু বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চার লাখের কাছাকাছি প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ