নির্বাচনী অনিয়ম রোধে ইসির দেড়শ’ তদন্ত কমিটি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী, দলীয় কর্মী এবং সমর্থকদের নির্বাচনী অনিয়ম রোধে দেড়শ’ তদন্ত কমিটি গঠন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সাড়ে ৬শ’ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এরই মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় ভোটের পরদিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী, ২০০৯-এর আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের পরের দিন পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা প্রয়োজন। প্রতিটি উপজেলায় একজন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত প্রতি ৩ থেকে ৪টি ওয়ার্ডের জন্য একজন, সিটি কর্পোরেশন ছাড়া জেলা সদরে প্রতি পৌর এলাকায় এক থেকে দু’জন এবং পার্বত্য এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত ৩ থেকে ৪টি উপজেলার জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন তদন্ত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আসনের আয়তন, একাধিক উপজেলা এবং ভোটার সংখ্যাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবার কমিশন। এ হিসেবে জেলার আসনানুপাতে ৪টি, কোনোটিতে ৩টি, কোনোটিতে দুটি এবং ক্ষেত্রবিশেষে একটিও কমিটি গঠন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় জেলায় যেখানে পাঁচটির অধিক আসন রয়েছে ওইগুলোতে দু’জন করে ২০ জনের বেশি বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

এসব নির্বাচনী তদন্ত কমিটির সদস্যদের আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইন, বিধি ও আচরণ বিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে পত্র দিয়েছে ইসি। সদ্য পাঠানো এ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ইসির আইন শাখার উপসচিব মো. শরীফ হোসেন হায়দার। বিচার প্রসাশন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (জাতি) তাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আরপিওর অনুচ্ছেদ ৮৯-এ এর উল্লেখিত অনুচ্ছেদ ৭৩(২বি), ৭৪(২এ), (৩)(৪)(৫)(৬), আনুচ্ছেদ ৭৮ থেকে ৮১(১) ও ৮২ এর অধীন নির্বাচনী অপরাধসমূহ দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮ (অ্যাক্ট) অধীন অপরাধ আমলে নেয়া ও সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের নিমিত্তে ৩০০ নির্বাচনী এলাকার জন্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা আবশ্যক। এসব ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনকালীন অপরাধ আমলে নেন এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচার করা সম্পন্ন করেন। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য সাড়ে ৬শ’ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা প্রয়োজন। তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করার জন্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি।

তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, পঞ্চগড়-১ আসনটি তিনটি উপজেলা নিয়ে (সদর, তেঁতুলিয়া ও অটোয়ারী) গঠিত। এ আসনে ৩ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। একই ভাবে পঞ্চগড়-২ আসনটি বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে দায়িত্ব পালন করবেন ২ জন ম্যাজিস্ট্রেট অর্থাৎ দুই সংসদীয় আসনের জন্য ১টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

একইভাবে দিনাজপুর জেলার ছয়টি আসনের জন্য ১৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন; যার মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনে সর্বোচ্চ ৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এ জেলার জন্য তদন্ত কমিটি রাখা হয়েছে ২টি। ঠাকুরগাঁও জেলার ৩টি আসনের বিপরীতে ১টি কমিটির অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট থাকছে ৫ জন। তবে সর্বোচ্চ ১১টি কমিটি ঢাকায়, চট্টগ্রামে ৯টি এবং কুমিল্লায় ৬টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনের কাজে যুক্ত করা হয়। তবে, নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম তদন্তে তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা। নির্বাচনের প্রচারের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা অপরাধ আমলে নিয়ে তথ্য-উপাত্তের আলোকে সামারি ট্রায়াল করে বিচার কাজ সম্পন্ন করেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ