মেয়েকে ধর্ষণ

নিরাপদ স্থানে সবচেয়ে অনিরাপদ ছিল মেয়েটি!

সৎ বাবা ফের রিমান্ডে

মুক্ত পৃথিবীতে জন্ম নিয়েও কঠিন শিকলের কারাগারে আবদ্ধ ছিল মেয়েটি। সবচেয়ে নিরাপদ স্থান ছিল তার পরিবার। সেখানেই সে ছিল অনিরাপদ। নিজে পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করার আগে তাকেই উপভোগ্য করে তোলেন তার বাবা। জন্মদাতা পিতা না হলেও সম্পর্কের আদলে থাকা সৎ বাবা ছিলেন আরমান হোসেন। মেয়ের সৌন্দর্যে আকর্ষিত হয়ে তাকে ভোগ করার নেশায় বিভোর ছিলেন বাবার আসনে থাকা আরমান। একদিন বা দুইদিন নয় দীর্ঘ আট বছর ধরে তিনি ধর্ষণ করে আসছিলেন মেয়েটিকে। মেয়ের সঙ্গে অনবরত ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট যৌনাচার করেও ক্ষান্ত হননি অভিযুক্ত সৎ বাবা। অবৈধ এই সম্পর্ককে বৈধতার রূপ দিয়ে মেয়েকে বিয়ে করার মতো বিকৃত প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি। যৌন লিপ্সায় টালমাতাল আরমান যখনই সুযোগ পেতেন তখনই মেয়েটিকে ধর্ষণ করতেন। রাজি না হলেই মেয়েটির ওপর চালানো হতো শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। কখনো মোবাইলে ধারণকৃত ধর্ষণের চিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি কখনো বা দেখানো হতো নানা রকম প্রাণনাশের ভয়ভীতি। সবকিছু জেনেও না জানার ভাব করতেন মেয়েটির মা। মেয়ের কোনো কথা যেন তার কানেই পৌঁছাত না। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছর পর মুখ খুললেন মেয়েটি। সৎ বাবার বিরুদ্ধে করলেন ধর্ষণের মামলা।

এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে আরমান হোসেন ওরফে সুমনকে ফের দুদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। আগের দুই দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল রোববার আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করে ঘটনার মূল্য রহস্য উদঘাটনের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপকমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, অধিকতর তদন্তের জন্য দুই দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় পুনরায় রিমান্ড আবেদন করি। আদালত আরো দুই দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই স্বীকার করেন আরমান হোসেন। তার কাছে প্রতিনিয়ত আমরা নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। আরো তথ্যের জন্যই তাকে আবার রিমান্ডে নিয়েছি। তিনি আরো জানান, ধর্ষণের শিকার মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি নিজ জিম্মায় বাসায় চলে যান।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণের অভিযোগ করে আরমানের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা করেছেন বর্তমানে ২০ বছর বয়সী মেয়ে। আরমান হোসেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ ২৪-এর শব্দ প্রকৌশলী। তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে আরমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, আট বছর ধরে মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছিলেন তার সৎ বাবা আরমান হোসেন। এক পর্যায়ে মেয়েটির আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়ে তার এক বন্ধুকেও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

এজাহারে মেয়েটি উল্লেখ করেন, তার জন্মদাতা পিতার সঙ্গে মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর ২০০৫ সালে আরমান হোসেনকে বিয়ে করেন তার মা। দ্বিতীয় বিয়ের এক বছর পর থেকে মায়ের কাছে থাকা শুরু করেন মেয়েটি। চাকরির কারণে মেয়েটির মা মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডের বাড়ি থেকে সকালে কর্মস্থলে চলে যেতেন। ২০০৮ সালে প্রথম তাকে ধর্ষণ করা হয়। তখন মেয়েটি সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ওই সময় মেয়েটির আপত্তিকর ছবি মোবাইলে তুলে রাখেন আরমান। ছবি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আরমান এরপর থেকে প্রায়ই ধর্ষণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন মেয়েটি। ২০১৫ সালে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে পরে গর্ভপাত ঘটান। এরপরও তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে যান আরমান। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ওই মেয়ে তার এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে চলে আসেন। সেখানেও কুপ্রস্তাব পাঠাতে থাকেন আরমান। এতে রাজি না হওয়ায় মেয়েটির এক বন্ধুকে ভিডিও ও অডিও ক্লিপ পাঠান আরমান। এ ছাড়া আরমানের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে দুটি নকল আইডি খুলে মেয়েটি তার ছবি যুক্ত করার অভিযোগ আনেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

One Response to "নিরাপদ স্থানে সবচেয়ে অনিরাপদ ছিল মেয়েটি!"

  1. Kazi Towhid   17/07/2017 at 4:39 PM

    simply ..capital punishment

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.