নিরাপদ থাকুন ফেসবুকে…

বাংলাদেশে প্রতিদিন কতজন নারী সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। অনেক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নারী সম্মানহানির ভয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেন না। তবে এ ধরনের সমস্যা সহায়তায় কাজ করছে বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ। স্বেচ্ছাসেবীরা গ্রুপটি চালান। ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ এখানে অভিযোগ জানাতে পারেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয় গ্রুপগুলো। গ্রুপের উদ্যোক্তারা বলেন, ‘এ গ্রুপের মাধ্যমে আমরা নারী নির্যাতনের যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করি। আমরা মূলত সব ধরনের অভিযোগ ফোনে কিংবা ফেসবুকে নিয়ে থাকি এবং এর অনুসন্ধানের জন্য জেলাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগাই। পরবর্তী সময়ে যিনি অপরাধের শিকার হচ্ছেন, তাকে একজন স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়। পাশাপাশি ন্যূনতম খরচে একজন আইনজীবীর সহায়তা দেয়ার কাজটি করা হয় গ্রুপের পক্ষ থেকে।

কয়েক দিন ধরেই বিব্রতকর বিভিন্ন বার্তা ফেসবুকে পাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে জানতে পারলেন তার অজান্তে ফেসবুক থেকে ছবি নিয়ে সেটিকে বিকৃত করে বিভিন্ন গ্রুপে ছড়ানো হচ্ছে! আর এতেই বিব্রতকর নানা ধরনের বার্তা আসছে। এ নিয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা অনেকের বেলাতেই ঘটেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে নারীদের জন্য হয়রানির মাত্রাটা বেশি হচ্ছে। তাই জরুরি হয়েছে ইন্টারনেটে নিজেকে নিরাপদ রাখা। বাংলাদেশে প্রতিদিন কতজন নারী সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। অনেক ক্ষেত্রে বেশির ভাগ নারী সম্মানহানির ভয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেন না। তবে এ ধরনের সমস্যা সহায়তায় কাজ করছে ফেসবুকের বেশ কয়েকটি গ্রুপ। মূলত স্বেচ্ছাসেবীরা গ্রুপটি চালান। ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ এখানে অভিযোগ জানাতে পারেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয় গ্রুপগুলো।
গ্রুপের উদ্যোক্তারা বলেন, এ গ্রুপের মাধ্যমে আমরা নারী নির্যাতনের যেকোনো ধরনের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করি। আমরা মূলত সব ধরনের অভিযোগ ফোনে কিংবা ফেসবুকে নিয়ে থাকি এবং এর অনুসন্ধানের জন্য জেলাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগাই। পরবর্তী সময়ে যিনি অপরাধের শিকার হচ্ছেন, তাকে একজন স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়। পাশাপাশি নূন্যতম খরচে একজন আইনজীবীর সহায়তা দেয়ার কাজটি করা হয় গ্রুপের পক্ষ থেকে।
তাদের পরামর্শ, সাইবার অপরাধের শিকার হলে নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কাছের থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। অনলাইনে সাইবার অপরাধের বিভিন্ন বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সরাসরি গ্রুপে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন। এ গ্রুপটি প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করে থাকে।
এ ধরনের উদ্যোগের পাশাপাশি সাইবার দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে সরকারিভাবেও রয়েছে একাধিক উদ্যোগ। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে রয়েছে সাইবার নিরাপত্তা কর্মসূচি। আছে সাইবার নিরাপত্তা নামের একটি ওয়েবসাইটও। এ ছাড়া রয়েছে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা। সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন এমন যে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে পারেন যেকোনো সময়।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বর্তমানে সহজেই অনেকেই ব্যক্তিগত নানা বিষয় প্রকাশ করছেন। বিষয়টা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আইবিএফ পরিচালক জানান, যেহেতু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার অনেক বেড়েছে, তাই নিজেকেই শুরুতে সতর্ক থাকতে হবে। বিশাল এ মাধ্যমে খেুব ভালো বন্ধু আছে, খারাপ লোকদের সংখ্যাও কম নয়। তাই নিজে থেকেই কিছু বিষয় মেনে চললে সাইবার দুনিয়ায় নিরাপদ থাকা সম্ভব।
ছবি শেয়ারের ক্ষেত্রে সতর্কতা : ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। তাই ভালো অনেক কিছুর পাশাপাশি এর মাধ্যমে অনৈতিকভাবে ছবি ব্যবহারের সংখ্যাও বেশি। ছেড়ে দেয়া (আপলোড) কোনো ছবির সেটিংসে ‘পাবলিক’ দেয়া থাকলে তা সবাই দেখতে পারেন। ব্যক্তিগত ছবিগুলোর সেটিংস পাবলিক না করাটা ভালো। ফেসবুকে আজেবাজে ছবিতে ট্যাগ করে অনেক ব্যবহারকারীকে বিব্রত করা হয়। এ জন্য প্রাইভেসি সেটিংস থেকে ট্যাগ প্রিভিউ সক্রিয় করে নিতে পারেন। তাতে কেউ কোনো কিছু ট্যাগ করলেই তা প্রকাশ্য হবে না। অনুমতি চাইবে। না দিলে ওই ছবি ফেসবুকে দেখা যাবে না।
আরো কিছু সতর্কতা
একদম অপরিচিত কারো সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।
* পারিবারিক ঠিকানা ফেসবুকে না দেয়াই ভালো কিংবা মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা ঠিক নয় ফেসবুকে।
* ফেসবুক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে সচেতন থাকুন। স্মার্টফোন বেহাত হলে আপনার অ্যাকাউন্ট বেদখল (হ্যাক) হতে পারে।
* কখনোই অপরিচিতদের থেকে পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ভালোমতো না দেখেই গ্রহণ করবেন না।
* ছোট কিংবা সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। পাসওয়ার্ড দেয়ার সময় নম্বর, অক্ষর, চিহ্ন ব্যবহার করতে পারেন।
তথ্যসূত্র ও ছবি: ইন্টারনেট – ফেসটিউব ডেস্ক