নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন উপাচার্যরা একজন করে গানম্যান (সাদা পোশাকে সার্বক্ষণিক অস্ত্রধারী নিরাপত্তা রক্ষী) দাবি করেছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর আগে হলি আর্টিজান ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বিগ্নের কথা জানান।

প্রায়ই দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গন অশান্ত হয়ে ওঠে। এখনো বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসের অস্থিরতায় উপাচার্যদের হেনস্তা হতে দেখা যায়। শনিবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করেন। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বিগ্নের কথা জানান। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ জানান, নিরাপত্তার জন্য একজন গানম্যান চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। সম্প্রতি অধ্যাপক কলিমুল্লাহকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সব উপাচার্য তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা তদারকি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান তার নিরাপত্তার জন্য সরকারের কাছে গানম্যান চেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পরও তা না পেয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন।

গত বছর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেন উপাচার্যরা। তবে কোনো উপাচার্যকে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। একাডেমিক এবং স্কলার শিক্ষকদের এখন আর উপাচার্য পদে আসীন হওয়ার সুযোগ হয় না। তাই শ্রদ্ধা ও সম্মানের জায়গাটা এখন আর থাকে না। তারা বলেন, সরকারি দলের ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনের দাবি আদায়ের আজ্ঞাবহ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের করার কিছু থাকে না। তাই নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা করেন না। এসব কারণে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন না- এটা স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, উপাচার্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো দাবির কথা জানাননি। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার কোনো বিষয়ে থাকলে অবশ্যই তা গুরুত্ব দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, পরিষদের বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চলতি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করার জন্য। বৈঠকে ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধিও পক্ষে ছিলেন না।

One Response to "নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা"

  1. Pingback: নির্বাচিত হেডলাইন - ১৭ জুলাই ২০১৭ ⋆ সাম্প্রতিক ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published.