নিঝুমদ্বীপ হতে পারে আরেকটি সুন্দরবন

নিঝুমদ্বীপ হতে পারে আরেকটি সুন্দরবন

স্বপ্নের দ্বীপ নিঝুমদ্বীপ। ঝাঁকে ঝাঁকে হরিণের চঞ্চল ছোটাছুটি নিঝুমদ্বীপের নিস্তব্ধতা কেড়ে নেয়। এ আরেক নান্দনিকতা। সুন্দরী, কেওড়া, গেওয়া ও গোলপাতা ইত্যাদি নানাবিদ বৃক্ষ এবং গুল্মে সবুজ প্রাণের বিশাল চরাঞ্চল দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে বসে প্রাকৃতিক অফুরন্ত সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দুর্লভ দৃশ্য। দিগন্তে তাকালে জলরাশির মাঝে দৃষ্টি আটকে যায়। সে আরেক জগত- নবউত্থিত চরের সুদীর্ঘ শোভাযাত্রা। যেন বঙ্গোপসাগর জয়ের উন্মাদ নেশা নিয়ে ছুটে যাচ্ছে সবুজের কাফেলা। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের বিন্যাসে নিঝুমদ্বীপের গর্বে গর্বিত হাতিয়া দ্বীপ, গর্বিত গোটা বাংলাদেশ।

নিঝুমদ্বীপের সম্ভাবনাময় সেক্টরগুলোর মধ্যে আধুনিক পরিপেক্ষিত বিচারে সবচেয়ে সমুজ্জ্বল হচ্ছে পর্যটন শিল্প। এখানে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে সরকারের পাশাপাশি ম্যাচ গ্রুপ ও ক্র্যাল নামের এনজিও। খুব সহজে নিঝুমদ্বীপে বন রক্ষায় প্রহরীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বন বিভাগ ও ক্র্যাল এনজিও সমন্বয়ে নিজস্ব নৌপরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্বীপের নামার বাজারে বন বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত একটি উঁচু ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সেখানে উঠে উপভোগ করা যায় দৃষ্টি নন্দন সবুজ বেষ্টনি জাতীয় উদ্যান। যা দেখে পর্যটকদের মন আকৃষ্ট করে। বন বিভাগে বিট কর্মকর্তার পৃষ্টপোষকতায় ও আদর সোহাগে একটি মা হরিণ তার সঙ্গে থাকা দুটি সাবককে পোষ মানা হয় যা দিনে ও রাতে বনে বিচরণ করে তাদের সময় মতো আবার লোকালয়ে ফিরে আসে। প্রকৃতির সঙ্গে মানসিক অবকাঠামো যুক্ত হলে অচিরে গড়ে উঠবে পৃথীবির বিখ্যাত পর্যটন স্পট। নিঝুমদ্বীপে রয়েছে মৎস সম্পদের অফুরান যোগান। প্রকৃতি পদত্ত এসব সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতির আর্থিক কল্যাণে এ দ্বীপে গড়ে তোলা যেতে পারে মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউট। দ্বীপের বিশাল শূন্যতায় গভীর সমুদ্রে সন্নিকটে অবয়ব বাংলাদেশে আর কোথাও নাই। ভূ-পৃষ্ট আর সমুদ্রের চন্দময় নির্জনতা নিঝুমদ্বীপকে সামুদ্রিক গবেষণার কার্যকর ল্যাবরেটরিতে পরিণত করা হয়েছে। প্রকৃত প্রদত্ত উদার ঐশ্বর্যকে ব্যবহার করে নিঝুমদ্বীপে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে তোলা যায় সামুদ্রিক গবেষণা ইনস্টিটিউট যা শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দ্বীপের বিশাল ভূ-খণ্ড, উর্বর পলি, নির্মল পরিবেশ এবং বিশুদ্ধ আবহে গড়ে তোলা যায় আদর্শ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি গবেষণাগার ইত্যাদি।

হাজার হাজার হরিণ নিঝুমদ্বীপের অমূল্য সম্পদ। খাদ্যাভাব, স্থান ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে হরিণ মারা যাচ্ছে। লোকালয়ে ছুটে আসছে হরিণ। আবার চুরিও হচ্ছে। ২০ হাজারেরও বেশি হরিণ দেশের অন্যতম রফতানি সেক্টরে পরিণত হতে পারে। দিগন্ত বিবৃত জেগে ওঠা চরে পরিকল্পিত বনায়ন করে নিঝুমদ্বীপ হতে পারে বাংলাদেশের আরেকটি সুন্দর বন। এসব প্রস্তাবনা যত দ্রুত বিচার-বিশ্লেষণ করবেন এগিয়ে আসবে ততই মঙ্গল।

মানবকণ্ঠ/এসএস