নিজ এলাকায় পরবাসী স্বতন্ত্র এমপি রহিম উল্লাহ

আসন্ন একাদশ নির্বাচনে ফেনী-৩ সংসদীয় (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে গণসংযোগে ব্যস্ত দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। নির্বাচনকে ঘিরে মাঠে অবস্থান করে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চষে বেড়াচ্ছেন তারা। তবে এ আসনের স্বতন্ত্র এমপি হাজী রহিম উল্লাহ নিজ উপজেলা সোনাগাজীতে মাঝেমধ্যে অবস্থান করলেও দাগনভূঞা উপজেলাতে গত সাড়ে ৪ বছরে একদিনের জন্যও ঢুকতে পারেননি। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সমর্থন নিয়ে গত নির্বাচনে নির্বাচিত হন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার মহাজোট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও স্বতন্ত্র এমপি রহিম উল্লাহর কাছে হেরে যান। এদিকে রিন্টু আনোয়ারের অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা তার সঙ্গে বেইমানি করে রহিম উল্লার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে বিনা ভোটে নির্বাচিত করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল বাশার। তিনি ২০০৮ সালেও দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করে হেরে যান। তবে এলাকাটি বিএনপি-জামায়াতের অধ্যুষিত হওয়া ও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তার পরাজয়ের কারণ বলে স্থানীয়রা জানান।

অপরদিকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনপরবর্তী সময়ে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন হাজারীসহ তার সমর্থকদের বিপক্ষে নানা ধরনের মন্তব্যে লিপ্ত হয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী সমর্থিত স্বতন্ত্র রহিম উল্লাহ। তার পর থেকে দাগনভূঞা উপজেলা ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে অঘোষিতভাবে প্রতিরোধের দায়িত্ব পালন করেন। কখনো কখনো নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে বিগত দিনে প্রকাশ্যে সংসদে বক্তব্য দিয়ে নিজেকে আলোচিত বা আলোচনায় আসার জন্য মুখ্য ভূমিকাও নেন এ এমপি। তারপর থেকে নির্বাচনী এলাকায় থেকে প্রকাশ্যে প্রতিরোধের হুমকি দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গম চুরি, টিআর, কাবিখা চুরি, টেন্ডারবাজির অভিযোগ আনেন দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান। তিনি বলেন, অনেকের কাছে কাজ বিক্রি করে বুঝে দিতে পারেনি। সড়ক জনপদের কাজ নিজেই সরাসরি চাঁদাবাজি করেছেন রহিম উল্লাহ। জোরপূর্বক বালু উত্তোলন, খামার দখল ছিল তার কাজ। জলদস্যু দিয়ে সোনাগাজী অঞ্চলে ডাকাতি করান তিনি। ফারুক মানবকণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনের পর কখনো এমপি রহিম উল্লাহ দাগনভূঞা আসার চেষ্টাও করেননি। তিনি আরো বলেন, সোনাগাজীবাসী তাকে অবাঞ্ছিত করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবির ওপর গুলি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন তিনি।

অন্যদিকে রহিম উল্লাহর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তোলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, আওয়ামী রাজনীতি করার জন্য তিনি দক্ষ নন এবং তার কোনো যোগ্যতা নেই। হাজী রহিম উল্লাহকে পাগল আখ্যা দিয়ে চিকিৎসার দাবি জানান রফিকুল ইসলাম খোকন। এসব বিষয়ে রহিম উল্লাকে গতকাল বেলা ৩টা ৩ মিনিটে ফোন দিলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই ফেনীর প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। চা-দোকান থেকে শুরু প্রায় সব ক্ষেত্রে চলছে নানা আলোচনা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা মাঠে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নৌকা-ধানের শীষের টিকিট কারা পাচ্ছেন এ নিয়ে চলছে কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-৩ আসনে বর্তমান এমপি স্বতন্ত্র রহিম উল্লাহ। ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদে সহজ জয় পান তিনি। কিন্তু প্রেক্ষাপট ক্রমেই উল্টে যায়। যারা মহাজোট প্রর্থীকে ঠকিয়ে রহিম উল্লাহকে জয়ী করেছিলেন, একপর্যায়ে তাদের বিরাগভাজন হয়ে তিনি এখন কোণঠাসা হয়ে স্বাভাবিকভাবে এলাকায় অবস্থান করতে পারছেন না। এক হিসেবে তিনি এখন নিজ এলাকায় পরবাসী বলেও জানান স্থানীয় জনসাধারণ।

সোনাগাজী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও দাগনভূঞা উপজেলার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসন। ১৯৯৬ সাল থেকে টানা তিনবার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯১ সালে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন মাহবুবুল আলম তারা। পরেরবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি ক্ষোভ-অভিমানে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ওই নির্বাচনে মোশাররফ হোসেনের কাছে হেরে যান তিনি। ২০০১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের কাছে হেরে যান তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল হাজারী ও মাহবুবুল আলম তারা।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির চাইতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেশি। বিএনপিতে প্রার্থী নেই বললেই চলে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও জর্জরিত আওয়ামী লীগ। ফলে দলটির প্রার্থী নিয়ে কিছুটা সংশয় থেকে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি এ আসনটি ১৪ দলীয় জোটের কাছে দাবি করে আসছে। প্রাথমিকভাবে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তৎকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি আবুল বাশারকে দলীয় মনোনয়ন দেন। নির্বাচনে তিনি হেরে যান। একইভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও তিনি দলের টিকিট পান। শেষ পর্যন্ত মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে তিনি আর নির্বাচন করতে পারেননি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার মহাজোটের প্রার্থী হয়ে ভোটে অংশ নেন। নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজি রহিম উল্লাহর কাছে তিনি হেরে যান। এবারো রিন্টু আনোয়ার এ আসনটিতে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ভোট করার কথা মানবকণ্ঠকে জানান।

এদিকে এবারের নির্বাচনেও এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলের মনোনয়নের তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন গতবারের প্রার্থী যুবলীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল বাশার। তিনি এখন দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে চষে বেড়াচ্ছেন। সামাজিক অনুষ্ঠান, প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মহিলা ও পুরুষ ভোটারদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, বিয়ের অনুষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, খাতনার অনুষ্ঠানে নিয়মিত যোগদান করে ভোটারদের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া দলীয় কর্মসূচিগুলোতে নিয়মিত সময় দিয়ে আবারো আসন্ন একাদশ নির্বাচনে দলের যোগ্যপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করছেন। আবুল বাশার মানবকণ্ঠকে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আমাকে এবারো দলীয় মনোনয়ন দিলে আমি বিজয়ী হয়ে তাকে এ আসন উপহার দেব। জয় ছাড়া আমি বিকল্প কিছু ভাবছি না। এজন্য আমি মাঠে রয়েছি।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে আশাবাদী রয়েছেন ফেনী জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং বর্তমান দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন। তিনিও এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে উঠেপড়ে লেগেছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত রয়েছে ফেনী-৩ আসনসহ সমগ্রজেলা। একইসঙ্গে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন হাজারীর খুব কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিতির সুযোগে দিদারুল কবির রতনও এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও দাগনভূঞা পৌর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মানবকণ্ঠকে নিশ্চিত করেন। দানগভূঞা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান বলেন, এ আসনে দিদারুল কবির রতনের মতো অন্য কোনো ব্যক্তির সাংগঠনিক দক্ষতা নেই। তিনি বলেন, রতন ভাই নিজের শ্রম, ঘাম ও দলীয় নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার বিকল্প এখানে অন্য কেউ হতে পারে না। একই কথা বললেন দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মামুন। তিনি বলেন, দিদার ভাইয়ের বিকল্প এ আসনে এখন পর্যন্ত অন্য কেউ হতে পারে না।

এদিকে দিদারুল কবির রতনের নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনে তাকে এ আসনে এমপি হিসেবে দেখতে তার সমর্থনে দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলাজুড়ে পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার টাঙ্গিয়ে জানান দিচ্ছে। এ ব্যাপারে দিদারুল কবির রতন মানবকণ্ঠকে বলেন, আমার বিশ্বাস ও আমি আশাবাদী সাংগঠনিক দক্ষতা ও আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ আসনে মনোনয়ন দেবেন। আমাকে মনোনয়ন দিলে আগামীতে আমার নেতা নিজাম হাজারী ও আমি ফেনীর তিনটি আসন বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে উপহার দেব। এটা আমার অঙ্গীকার থাকবে।

আওয়ামী লীগ থেকে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজী পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, দলের নেত্রী শেখ হাসিনা ও নিজাম উদ্দিন হাজারীর সমর্থন থাকলে আমি প্রার্থী হবো। তাদের কথা ফেলতে পারব না। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। ইতিমধ্যে সোনাগাজী পৌরসভার নাগরিকদের সব সমস্যা আমি সমাধান করছি বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি বলেন, ভৌগোলিক বিবেচনায় আমি বেশি সুবিধায় রয়েছি। ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি আমার হƒদয় থেকে অনুভব করি মূলত সোনাগাজী ও দাগনভূঞা আসনের গুরুত্ব বিবোচনায় নিজাম উদ্দিন হাজারীকে এমপি হিসেবে চাই ও যোগ্য মনে করি। দলের দুর্দিনে তিনি সোনাগাজী আওয়ামী লীগের পাশে ছিলেন, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের একমাত্র কাণ্ডারি, যার নেতৃত্বে ফেনীর আওয়ামী লীগ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দীন চৌধুরীও এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করতে পারেন। এ ব্যাপারে কেউ এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে মুখ খুলতে চাননি।

এ ছাড়া আরো যারা মনোনয়নের আশায় রয়েছেন স্বতন্ত্র এমপি হাজী রহিম উল্লাহ, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রোকেয়া প্রাচী, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আকরাম হোসেন হুমায়ুন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিফটন, সাবেক যুবলীগ নেতা শাহজান সাজু, জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল আলম ভুট্টো, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম।

এদিকে এ আসনের সাবেক ৪ বারের জনপ্রিয় এমপি ও ফেনী জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেন মারা যাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে কোনো যোগ্য নেতা নেই। তাই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম আলোচনার শীর্ষে ও তিনিই একমাত্র এ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী এখন পর্যন্ত। তার জš§স্থান দাগনভূঞা হলেও রাজধানীতেও শক্ত অবস্থান থাকায় তার নির্বাচনী এলাকা কোনটা হবে এ নিয়ে ভাবনায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা। দলের একটি সূত্র জানায়, তিনি প্রার্থী না হলে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল ও ছোট ভাই দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন দলীয় টিকিট পেতে পারেন। এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার নাছির উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, স্থানীয় বিএনপির নেতা ও দাগনভূঞা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মানবকণ্ঠকে জানান।

বিএনপির মনোনয়ন প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে ছাত্রদল দিয়ে আমার রাজনীতি শুরু। আজ পর্যন্ত একনিষ্ঠভাবে শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হই নাই। দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকব ইনশাল্লাহ। দলের জন্য মামলা খেয়েছি, জেল খেটেছি জানিয়ে তিনি বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার ও আমাদের সিনিয়র লিডার, আমি উনাকে সম্মান করি। উনি যদি প্রার্থী না হন, তাহলে দাগনভূইয়া সোনাগাজী আসন থেকে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে এ মুহূর্তে আমি নির্বাচন নিয়ে ভাবছি না। নেত্রীকে জেল থেকে মুক্ত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

এদিকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের মনোনীত জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রচার ও প্রকাশনা উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার মাঠে সরব রয়েছেন। তিনিও দাগনভূঞা ও সেনাগাজী উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহতের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম অংশ নিচ্ছেন। আর ভোট চাচ্ছেন জনগণের কাছে। একইভাবে জাসদের (রব) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনও প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/এএএম